রবীন্দ্রনাথের ম্যুরালে কালি লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মুছে দিল প্রশাসন
ছাত্রীকে মুখে টেপ লাগাতে বাধ্য করার ঘটনায় অভিভাবকদের ক্ষোভ
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
পাসাডেনার একটি স্কুলে এক নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে মুখে টেপ লাগাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর মেয়েটির বাবা-মা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী নোয়েমি হার্তাদো পাসাডেনার ব্লেয়ার মিডল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৪ মার্চ স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তিনি একটু উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে বিরক্ত হয়ে এক নারী নিরাপত্তা কর্মী তাকে শাস্তি হিসেবে মুখে ডাক্ট টেপ লাগাতে বাধ্য করেন।
নোয়েমির বাবা রিকার্ডো হার্তাদো বলেন, “আমি এমন একটি ফোন কল পাই, যা কোনো অভিভাবকেরই পাওয়া উচিত নয়। আমার মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করছিল, একটু বেশি শব্দ করছিল। তাকে একবার থামতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে খেলা চালিয়ে যায়। তারপর নিরাপত্তা কর্মী তাকে প্রিন্সিপালের অফিসে নিয়ে গিয়ে মুখে টেপ লাগাতে বলেন।”
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা কর্মী নোয়েমিকে পুরো ক্যাম্পাস এবং কাছের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে নিয়ে যান, যাতে তাকে সবার সামনে অপমানিত করা যায়।
রিকার্ডো বলেন, “তারপর ওই নিরাপত্তা কর্মী তাকে ক্লাসে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকের সামনে বলে যে সে যেন মুখ থেকে টেপ না খোলে, কারণ তার চুপচাপ থাকতে কষ্ট হয়।”
ঘটনার সময় স্কুলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জুলিও বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং নোয়েমিকে ক্লাস থেকে বের করে আনেন। তিনি জানান, নোয়েমির কোনো দোষ নেই এবং তাকে আবার প্রিন্সিপালের অফিসে নিয়ে যান।
স্কুলের প্রিন্সিপাল সংবাদমাধ্যম KTLA কে নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাটি ঘটেছে এবং ওই নিরাপত্তা কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
নোয়েমির বাবা রিকার্ডো বলেন, “আমি একদম হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে আমার মেয়ে মানসিকভাবে ঠিক আছে এবং এতে তার কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। ১১ বছর বয়সী একটি শিশুর এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।”
পাসাডেনা ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক নিরাপত্তা কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং পাসাডেনা পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নোয়েমির পরিবার এই ঘটনার জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেছে এবং অভিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
শেয়ার করুন