অন্টারিও পার্কিং লটে গোলাগুলির ঘটনায় ১২ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ
বাংলাদেশ সরকার ‘হয়রানিমূলক’ প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ টিউলিপের
বাংলাদেশের প্রকল্পে ‘দুর্নীতি’ ও প্লট-সম্পদ নিয়ে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে নাম আসা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক আবারও বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে ‘হয়রানিমূলক’ প্রচারণার অভিযোগ এনেছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ এ দেওয়া পোস্টে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া’ দাবি করে তিনি বলেন, ”সংবাদমাধ্যমে মাসের পর মাস মিথ্যা প্রচারণা চালানো হলেও তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।”
এতে তিনি লেখেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে তার আইনজীবীরা ভিত্তিহীন অভিযোগের তথ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং বন্ধ করতে চিঠি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাদের যেকোনো আইনসিদ্ধ প্রশ্ন দ্রুত তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন।
“জবাব দেওয়ার সেই সময়সীমা শেষ হলেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো প্রশ্ন পাঠায়নি কিংবা উত্তর দেয়নি।
“উল্টো তারা সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি নিয়ে আমাকে ‘লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন হয়রানি প্রচার চালাচ্ছে’।”
তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করে গত ২০ মার্চ টিউলিপ সিদ্দিক উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রচার চালিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন।
সেদিন বিবিসি তার আইনজীবীদের চিঠির বরাতে বলেছিল, সংবাদমাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে, কিন্তু তার (টিউলিপ) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনেননি অনুসন্ধানকারীরা।
চিঠিতে দুদকের উদ্দেশে বলা হয়, “টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে অবশ্যই দ্রুত প্রশ্ন রাখতে হবে এবং সেটা যেকোনো পরিস্থিতিতে ২৫ মার্চের মধ্যে। না হলে আমরা ধরে নেব, জবাব দেওয়ার মত কোনো বৈধ প্রশ্নের সুযোগ নেই।”
বিবিসি লিখেছে, দুদক টিউলিপের আইনজীবীদের চিঠির একটি জবাবও দিয়েছে। দুদক বলছে, টিউলিপ তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের ‘কুখ্যাত দুর্নীতিগ্রস্তদের’ সঙ্গে কাটিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি দলের দুর্নীতি থেকে সুবিধা নিয়েছেন।
দুদকের একজন মুখপাত্র জবাবে বলেন, “হাসিনার শাসনের চরিত্র সম্পর্কে তার না জানার দাবির বিষয়টি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দুদক ‘যথাসময়ে’ তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।”
লন্ডনে ‘বিনে পয়সার ফ্ল্যাট’ নিয়ে তদন্তের মধ্যে যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা টিউলিপ এ বিষয়ে বুধবার এক্সে পোস্ট দেন।
শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপের ভাষ্য, “সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা যেসব অভিযোগ এনেছে সরল বিশ্বাসে আমি সেগুলোর বিস্তারিত খণ্ডন করেছি, যদিও তাদের থেকে সৌজন্যতা দেখানোর আশা বাতুলতা মাত্র।
“তাদের সাড়া না দেওয়া অনেক কথাই বলে।”
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে ‘তথাকথিত’ সংস্থা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ”ঢাকায় দুদকের কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগের উপায় তারা জানে।
“যুক্তরাজ্যে এজন্য একটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। আইনের শাসন ও ন্যয় বিচারের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আনন্দের সঙ্গে আমি তাদের যুক্তিসঙ্গত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেব, কিন্তু কোনো নোংরা রাজনীতিতে টেনে নামানোর চেষ্টা হলেও তাতে জড়াব না। একই সঙ্গে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের গর্বিত সদস্য হিসেবে আমার কাজের মর্যাদা নষ্ট করে তাদের এমন দুষ্টু হয়রানিমূলক কিছু করার সুযোগ দেব না।”
লন্ডনে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট উপহার নেওয়া, বাংলাদেশের প্রকল্পে বড় অঙ্কের দুর্নীতিতে টিউলিপের নাম আসার পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সাত মাসের মাথায় গত ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান টিউলিপ।
পরিস্থিতি জটিল করে তোলে লন্ডনের কয়েকটি বাড়ি, যা তাদের দেন ধনাঢ্য বাংলাদেশিরা, যাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার যোগ আছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় কিংস ক্রসের একটি ফ্ল্যাট, যেটা টিউলিপকে উপহার দিয়েছিলেন আবদুল মোতালিফ নামের এক ব্যবসায়ী, যিনি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ। এখন ওই ফ্ল্যাটের দাম ৭ লাখ পাউন্ড। ওই ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে টিউলিপ থাকেন অন্য বাসায়।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি বলছে, বাংলাদেশে টিউলিপের কোনো সম্পত্তি নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। যদিও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অভিজাত এলাকায় তার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে।
পদত্যাগপত্রেও তার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন ৪২ বছর বয়সী টিউলিপ।
টিউলিপ ও তার পরিবার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে দুর্নীতির মামলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম করে নেওয়া প্লটের মামলাতেও তার নাম এসেছে।
এছাড়া গাজীপুরের কানাইয়ায় অবকাশযাপনের বাড়ি ‘টিউলিপ’স টেরিটরি’ নিয়েও অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। এর মধ্যেই গুলশানে তার নতুন সম্পত্তি ‘সিদ্দিকস’ ভবনের খবর মেলে।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
শেয়ার করুন