অন্টারিও পার্কিং লটে গোলাগুলির ঘটনায় ১২ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ
লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়ক
‘মৃত্যুকূপ’
পাহাড়ি এলাকার উঁচু নিচু সড়ক। ঢালু পাহাড়ি রাস্তা আর অপ্রশস্ত সড়কে ঘন ঘন বাঁক। সারা বছরই ওই সড়কে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এবারের ঈদযাত্রায় সেই সড়কে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রার তিন দিনে ১৫ মৃত্যুর খবরে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়কটি।
আলোচনায় আসা চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকাটি চট্টগ্রাম থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এই এলাকায় মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন।
এর মধ্যে সবশেষ বুধবার সকালে মাইক্রোবাস ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। যে স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। একই এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ভোরে দুইটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে ৩০ ফুট খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন।
গাড়ি চালক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকার উঁচু-নিচু সড়কে বাঁকগুলো খুব বিপদজনক। ঈদের ছুটির মৌসুমে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা চালকরা অপ্রশস্ত এ অচেনা সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে; বেশিরভাগ সময় সকালেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এবারের তিনটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সকালবেলা। ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘনটার পর স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অত্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই এলাকার মহাসড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আমি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একনেক মিটিং এ বাজেট প্রণয়ন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে পর পর ৩ দিন লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকাল বেলা।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটির চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অন্য জেলার চালকের জন্য অপরিচিত । এখানকার সড়কটি প্রশস্ত না থাকা, সড়কে সিগন্যাল না থাকা, বিপজ্জনক বাঁক থাকা, সকালে লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত রোকন উদ্দিন জানান, লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সূক্ষ বাঁক থাকা এবং চলাচলরত গাড়িগুলো এক লেন থেকে আরেক লেনে চলে আসার কারণে সচরাচর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সকাল বেলা সড়কটি ভেজা থাকে। লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার কারণেও নিয়মিত সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটছে। এই দুর্ঘটনা স্পট চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার মহাসড়কের দুই পাশে দুর্ঘটনা রোধে রাম্বল স্ট্রীপ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনা খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা জাংগালিয়ায় পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক)। পরিদর্শনকালে তিনি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়া ওই এলাকার সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
শেয়ার করুন