যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

|   ঢাকা - 08:15am

|   লন্ডন - 02:15am

|   নিউইয়র্ক - 09:15pm

  সর্বশেষ :

  ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান আরব লীগের   কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ শান্তিরক্ষী নিহত   শান্তিতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করল আইক্যান   উন্মোচন হলো দেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোন ওয়ালটন ‘প্রিমো ই৮আই’   যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের উদ্বোধন   ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি   ফের বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব   আন্তর্জাতিক ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণায় নিরাপত্তা পরিষদে একঘরে যুক্তরাষ্ট্র   এখনও অনিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল   জেরুজালেমের রক্তাক্ত ইতিহাস   বিউটি কুইন হত্যায় ৬০ বছর পর যাজকের সাজা   গাজায় আবারো ইসরাইলের হামলা, বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা   ‘মিথ্যা’ স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ ফরহাদ মজহারের   ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় ২৩ বেসামরিক লোক নিহত   আনিসুল হকের মৃত্যুতে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

স্বদেশ


ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামী ১৩ ডিসেম্বর তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে জেরুজালেম সংক্রান্ত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে

২০১৭-১২-১০ ১৩:৫৭:১৯

বহিঃ বিশ্ব


শান্তিতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করল আইক্যান

জেনেভাভিত্তিক বহুপক্ষীয় সংগঠন ‘পরমাণু অস্ত্র বিলুপ্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান’ রোববার অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিতে পাওয়া নোবেল

২০১৭-১২-১০ ১৪:০৩:০৬

লস এঞ্জেলেস


আনিসুল হকের মৃত্যুতে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, নন্দিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আনিসুল হকের আত্মার

২০১৭-১২-০৮ ২৩:১১:৩০


নিউইয়র্ক


টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার`র সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন ২০১৭ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দশজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনায় ব্রাসেলসে থেরেসা মে

নিউজ ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি করতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গেছেন ব্রিটিশ

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

ফের বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব

নিউজ ডেস্ক : টেস্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম। তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কাঁধে ফের তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কত্ব। তার সহকারী করা হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের দ্বিতীয় সভা ছিল আজ রোববার। দ্বিতীয় সভাতেই বড় পরিবর্তন আনল বিসিবি। মুশফিকের সহকারী ছিলেন তামিম ইকবাল। ফলে অধিনায়ক ও সহকারী অধিনায়কত্বের দুটি পদেই পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আগামী সিরিজ থেকে আমাদের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাকিব আল হাসান। সহ-অধিনায়ক হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।’

এর আগেও সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাকিবের নেতৃত্বে ৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ১টিতে জয় বাদে ৮টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ।

২০০৯ সালের জুলাই-আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেছিল বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেলেও প্রথম টেস্ট খেলার সময় হাঁটুর চোটে ছিটকে যান অধিনায়ক। পরবর্তীতে সাকিব দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে যায় বাংলাদেশ। সাকিবের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়েতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। দেশে ফেরার পর বেশ কিছু ‘বিতর্কের’ কারণে সাকিবকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মুশফিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় দায়িত্ব।

২০১১ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন মুশফিক। তার হাত ধরে বাংলাদেশ জিতেছে সর্বোচ্চ ৭টি ম্যাচ। ৯টি ড্র করলেও হেরেছে ১৮টিতে। মুশফিকের অধিনায়কত্ব কেন নেই তার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বোর্ড প্রধান, ‘বিশেষ কোন কারণ যে নেই তা নয়। তবে থাকলে সেই সব কারণ বলা যাচ্ছে না। আমরা মনে করেছি এখানে একটা পরিবর্তন হওয়ার দরকার। ব্যাটিংয়ে সে মনোযোগ দিক।’

বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বলার অপেক্ষা রাখে না দক্ষিণ আফ্রিকার ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায়ই মুশফিকুর রহিম তার অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে দল নির্বাচন নিয়ে অনেক মন্তব্য করেছিলেন। যেগুলো পছন্দ হয়নি অনেকেরই!

সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ কতদিনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করেননি বোর্ড সভাপতি। তবে বলেছেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনা করেছি…শুধু এখনকার সময় দেখলে তো হবে না। সামনে আগামী চার-পাঁচ বছরের জন্য আমরা যে পরিকল্পনা সেট করেছি, তারই একটা পদক্ষেপ এটি। অন্যান্য জায়গায়ও পরিবর্তন আসবে।’

শ্রীলঙ্কা সিরিজে মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছ থেকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব পান সাকিব আল হাসান। এবার সাকিবের কাঁধে সাদা পোশাকের দায়িত্ব।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

ইসলামী জীবন

মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ (সা.)

ড. এম শমশের আলী : সমসাময়িক বিশ্ব ঘটনাবলির দিকে যিনিই তাকাবেন তিনিই লক্ষ করবেন, পেশিশক্তির ওপরে যুক্তির প্রাধান্য বিরাজ করছে না, আমাদের মূল্যবোধ ইতোমধ্যে ক্ষয় পেতে শুরু করেছে, আর আমাদের এমন কোনো নেতা নেই যার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি। আমরা সঙ্কটের মধ্যে আছি। বর্তমান পরিস্থিতি একজন লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়, যিনি এই গানটি লিখেছিলেন ‘Where are all the flowers gone, in an English country garden? ’ এই লোকটি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে উনি আর একটি গান গাইতেন, ‘Where have all the values and valor gone? ’ ইতিহাসে এর আগে কখনো একজন আদর্শ নেতার সঙ্কট এত প্রকটভাবে অনুভূত হয়নি। যেমনটি আজ দেখা দিয়েছে। এ যুগের চাহিদা একজন নেতার যিনি সমগ্র মানব সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হতে পারেন। যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এ ধরনের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে চিহ্নিত করা এবং ছাত্রছাত্রীদের এসব ব্যক্তিত্বের জীবন ও শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করা। মানবজাতি সবসময় এমন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের সন্ধানে রয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজ এ উদ্দেশ্যে তাদের চিহ্নিত করেছে। এখন প্রশ্ন হলো- এই ব্যক্তিরা কি সত্যিই সময়ের বিচারে উত্তীর্ণ হয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে ওই সব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যায়, যাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উচ্চমর্যাদা দেয়া হয়েছে। যেমন- জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মাও সেতুং, মহাত্মা গান্ধী এবং তাদের মতো অন্যান্য। তাদের চরিত্রের বিস্ময়কর গুণাবলির জন্য মানুষ তাদের স্মরণ করে, কিন্তু যদি কেউ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গতিশীল নেতৃত্ব, চরিত্রের সাহসিকতা, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা প্রভৃতি দিক বিবেচনা করে তাহলে বলা যাবে না যে, এসব মহৎ লোক যুগের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা কেবল একটি বিশেষ সময়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ স্যার উইনস্টন চার্চিলের কথা বলা যায়। মানুষ আজো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে কী করে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ দ্বীপগুলোর অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করে রেখেছিলেন। এর পরও যখন একই ব্যক্তি চার্চিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই নির্বাচনে প্রার্থী হলেন, তিনি তাতে হেরে গেলেন! জনগণ ব্যাপারটি এভাবে বিচার করল : চার্চিল হলেন যুদ্ধকালীন নেতা, শান্তিকালীন নেতা নন। এভাবে ব্রিটিশদের কাছে চার্চিল একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন একটা বিশেষ সময়ের জন্য, সব সময়ের জন্য নয়। এবার ধরা যাক, মাও সেতুংয়ের কথা। কে না জানে তিনি চীনের মূল ভূখণ্ডে কত বড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন? কিন্তু ইতিহাসের কী পরিহাস! মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর ‘দ্য গ্যাং অব ফোর’, যারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে জননন্দিত হয়েছিলেন, তাদেরকে গা-ঢাকা দিতে হয়েছিল। এমনকি মাও সে তুংয়ের স্ত্রীর জীবনেও নেমে এসেছিল বিপর্যয়। আবারো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আগের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা হলো না।
বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ অবদানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলাকে একজন অবিস্মরণীয় নেতা মনে করা হয়। কিন্তু তার জীবনের কিছু দিক, যা একান্তই তার ব্যক্তিগত, তার সময়ের অনেক লোকের পছন্দ নয়। তাই এ কথা সুস্পষ্ট যে এমন কোনো নেতা পাওয়া মুশকিল, যিনি সর্বযুগে সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। যুগে যুগে অনেক ধার্মিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন দেশে এসেছেন। তাদের চরিত্র ছিল বিতর্কের ঊর্ধ্বে, তাদের সততা ছিল দৃষ্টান্তমূলক। কিন্তু তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেননি। মানুষ চায় এমন আদর্শ ব্যক্তিত্ব, যিনি রক্তমাংসে গড়া, যিনি সত্য কথা বলেন, যিনি হিংসাবিদ্বেষের ঊর্ধ্বে, যিনি মানুষকে বর্ণ, ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বিশেষে ভালোবাসেন এবং যিনি মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সব কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
এ ধরনের আদর্শ ব্যক্তিত্ব কি পৃথিবীতে এসেছিলেন? হ্যাঁ, এসেছিলেন এবং তাঁর নাম হজরত মুহাম্মাদ সা:। পবিত্র কুরআনের ২১ নম্বর সূরার ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য পাঠানো হয়েছে, কোনো বিশেষ মানবগোত্রের জন্য নয়। তাঁর কাছে যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করা হয়েছে তা-ও সর্বজনীন এবং সমগ্র মানবসম্প্রদায়ের জন্য। পবিত্র কুরআনে ৩৩ নম্বর সূরার ২১ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর যার বিশ্বাস রয়েছে এবং যে আল্লাহর প্রশংসায় মশগুল থাকে, সে রাসূলুল্লাহ সা:-এর মধ্যে জীবন পরিচালনার একটি সুন্দর আদর্শ খুঁজে পাবে। রাসূলুল্লাহ সা:-কে যে সমগ্র মানবজাতির অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, তা তাঁর সব কথায় ও কাজে সুস্পষ্ট। শুধু তা-ই নয়, এ কথা ও কাজগুলোকে যদি ছাত্রদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা তাদের চরিত্র গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে। হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন একাধারে একজন আদর্শ পিতা, একজন আদর্শ স্বামী, একজন আদর্শ যোদ্ধা, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক। তাঁর জীবন ও চরিত্র ইতিহাসে এত স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে যে, তাঁর কথা ও কাজের বিবরণ সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
পবিত্র কুরআনের আদর্শের তিনি ছিলেন জীবন্ত নিদর্শন এবং তাঁকে অনুসরণ করে যে কেউ সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে মানবতার সেবা করতে পারে। নবীজির একটি বড় আদর্শ, যা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে সব ছাত্রকে জানানো উচিত, তা হলো অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাঁর ব্যবহার। যদিও পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ইসলামই একমাত্র জীবনবিধান (দ্বীন)। মুসলমানদের বলা হয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার না করতে, যাতে তারা আল্লাহ সম্পর্কে কুমন্তব্য করার সুযোগ না পায়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মুসলমানদের আচরণবিধি কী হবে, তা হজরত মুহাম্মাদ সা: তাঁর নিজের জীবনে দেখিয়ে গেছেন। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর যে রাষ্ট্র তিনি গঠন করেছিলেন তার ভিত্তি কী ছিল? এটাই ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’, পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত গঠনতন্ত্র, সংবিধান। এই গঠনতন্ত্রের একটি ধারা ছিল- বিভিন্ন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং কেউ অন্যের ধর্ম পালনের বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এটা শুধুই একটা ‘ধারা’ ছিল না, এই ধারাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে এত সুস্পষ্ট উদাহরণ থাকার পরও কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি? এ ছাড়া পবিত্র কুরআনে বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মানবসম্প্রদায় এক ও অভিন্ন জাতি। তাই যদি কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক বলা হয়, তাহলে তার এটা গ্রহণ করা উচিত এবং বলা উচিত যে তার সম্প্রদায় সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত। ধ্যানধারণা ও কাজে গোষ্ঠী-মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানো কোনো মুসলমানের পক্ষে অসম্ভব। বস্তুত যে কেউ পবিত্র কুরআন পাঠ করেছেন এবং হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর জীবনী পাঠ করেছেন, তিনি অবিলম্বে এই উপসংহারে পৌঁছবেন যে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি থাকতে পারে না। একমাত্র সেই সমাজেই সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করতে পারে যেখানে ইসলাম যথাযথভাবে পালিত হয় না, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার নেই, যেখানে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা নেই। ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির বর্তমান সময়ের অর্থে একজন মুসলমান কী করে সাম্প্রদায়িক হতে পারে, যখন সমগ্র মানবজাতিকেই ইসলামে এক জাতি আখ্যায়িত করা হয়েছে?
এ কথাটি ছাত্রদের বোঝাতে হবে যে, বর্তমান সময়ে যদি কেউ একজন আদর্শ শিক্ষক, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক, একজন আদর্শ সমাজসংস্কারক এবং একজন মানবতাবাদীকে খুঁজতে চায় তাহলে তার অনুসন্ধান তাকে নিয়ে যাবে হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর কাছে। তিনি বুঝতে পারবেন যেসব মানুষের জন্য এবং মানুষের সব কর্মের জন্য নবীজি মানবজাতির আদর্শ- সর্বকালের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। এরূপ চিহ্নিতকরণ শুধু মুসলমানই করবে না, বরং যেকোনো ধর্মের যেকোনো বিবেকবান লোকই এটা করবেন।
জর্জ বার্নার্ড শ থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি : ‘আমি সবসময় মুহাম্মাদের ধর্মকে উচ্চমর্যাদা দিয়েছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য। এটিই একমাত্র ধর্ম, যার পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর মতা আছে বলে আমার মনে হয়। আর এ ধর্ম সর্বযুগেই সমাদৃত হতে পারে। আমি এ বিস্ময়কর লোকটিকে বুঝতে চেষ্টা করেছি এবং আমার মতে, তিনি অ্যান্টি-ক্রাইস্ট তো ননই বরং তাঁকে মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলা উচিত। আমার বিশ্বাস, তাঁর মতো একজন মানুষ যদি বর্তমান বিশ্বের একনায়ক হতেন তাহলে তিনি এ সমস্যাগুলোর এমন সমাধান দিতে সক্ষম হতেন, যা পৃথিবীতে শান্তি ও সুখ এনে দিত। মুহাম্মাদের ধর্মের ব্যাপারে আমি এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এটি যেমন বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করেছে তেমনি আগামী দিনের ইউরোপেও তা গ্রহণযোগ্য হবে’ (জর্জ বার্নার্ড শ, দ্য জেনুইন ইসলাম, সিঙ্গাপুর, ভলিউম ১, ১৯৩৬)।
এখন যখন মানবসম্প্রদায় নানা যুদ্ধবিগ্রহে জড়িয়ে পড়ছে এবং ‘শক্তিশালী’ ও ‘উগ্র’ এই দুই শক্তির দ্বন্দ্বে ছিন্নভিন্ন এবং নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠরা চরম ভয়ভীতি ও অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে, তখন এমন লোকের আবির্ভাব, যিনি মানবজাতির ত্রাণকর্তার অনুসারী, সবার কাছেই একটি স্বাগত সংবাদ হবে। মানবজাতির অনুকরণীয় আদর্শ নবীজি হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর শুভ জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা হোক মানবজাতির পরিত্রাণ।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

প্রবাসী কমিউনিটি

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক মণির জন্মদিন পালন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : গতকাল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগ লিটল বাংলাদেশের আলাদিন রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেক কেটে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির শুভ জন্মদিন পালন করেছে। ভ্যালী যুবলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমানের উপস্থাপনায় এবং ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদ হক বাবু ও সিটি যুবলীগের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন পালিত হয়। ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক সুবর্ন নন্দী তাপসের সভাপতিত্বে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সোহেল রহমান বাদল, প্রধান বক্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রবি আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের উপদেষ্টা তৌহিদুজ্জামান খান, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি ফারুক খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক টি জাহান কাজল, সিটি আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহাতাবউদ্দিন টিপু, মহিলা আওয়ামীলীগের মনিকা আহমেদ সহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৩৯ সালে ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম শেখ নূরুল হক বঙ্গবন্ধুর নিকটতম আত্মীয় এবং ভগ্নিপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন। শেখ মণি ঢাকা নব কুমার ইনিষ্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন ১৯৫৮ সালে। ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি একজন তেজস্বী ছাত্রনেতা ছিলেন। ’৬০ এর দশকের সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি লৌহমানব খ্যাত পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের গদি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ মণি ১৯৬১-৬২ মেয়াদে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন (কনভোকেশন) আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন মোনায়েম সরকার তাঁর এম.এ ডিগ্রি কেড়ে নিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙালির মুক্তিসনদ ৬ দফা আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি প্রায় তিন বৎসর কারাগারে ছিলেন এবং বিভিন্ন আন্দোলনে আরও তিন বৎসর কারা ভোগ করেছেন। একই সাথে তিনি দৈনিক বাংলার বাণী, বাংলাদেশ টাইমস এবং বিনোদন পত্রিকা সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর রচিত বেশ কিছু রাজনৈতিক উপন্যাস পাঠক সমাজে-সমৃদত হয়েছে। একটি উপন্যাস অবলম্বনে ‘অবাঞ্ছিতা’ নামে একটি জনপ্রিয় টেলিফিল্মও তৈরী হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মণি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তিনি ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫-এ জাতীয় ঐক্যের রাজনৈতিদক দল বাকশাল গঠনের পর শেখ ফজলুল হক মণি বাকসালের অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন।শেখ ফজলুল হক মণি ব্যক্তি জীবনে ২ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে সামস পরশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজীতে মাস্টার্স এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ইংরেজীতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে ব্রাক ইউনির্ভাসিটিতে ইংরেজীতে অধ্যাপনা করছেন। কনিষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে নুর তাপস একজন তরুন ব্যারিস্টার ও ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট (ঢাকা-১২) এলাকা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু মামলার অন্যতম আইনজীবি ছিলেন।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী বেগম আরজু মণি শাহাদাৎ বরণ করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

লস এঞ্জেলেস

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, নন্দিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আনিসুল হকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

গত ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগ লিটল বাংলাদেশের আলাদিন রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদ হক বাবুর পরিচালনায় এবং ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক সুবর্ন নন্দী তাপসের সভাপতিত্বে শোক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সোহেল রহমান বাদল, প্রধান বক্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রবি আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের উপদেষ্টা তৌহিদুজ্জামান খান, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি ফারুক খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক টি জাহান কাজল, সিটি আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহাতাবউদ্দিন টিপু, মহিলা আওয়ামীলীগের মনিকা আহমেদ সহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

বিনোদন


শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ!

নিউজ ডেস্ক : গত চার নভেম্বর প্রিয়.কম নিউজ করেছিল ‘শাকিব-অপুর বিচ্ছেদের গুঞ্জন’। সে কথাই সত্যি হলো। চিত্রনায়ক শাকিব খান অবশেষে তালাকনামা পাঠিয়েছেন অপু

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


ঝটপট রান্না সারার ৩০ টিপস!

নিউজ ডেস্ক : অনেকেই রান্না করাটাকে অনেক ভয় পান। কারণ শুধু রান্নার জন্য অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত জীবনে সবসময় সাজিয়ে-গুছিয়ে সময় নিয়ে

বিস্তারিত


লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ইইউ বহির্ভূত অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষ দশে বাংলাদেশিরা

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বহির্ভূত অভিবাসীদের সর্বোচ্চ সংখ্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত হিসেবে তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থান। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৬৯ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (ওএনএস) এই তথ্য জানিয়েছে।

ওএনএস-এর তথ্য অনুসারে, ইইউ বহির্ভূত অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫ হাজার) সপ্তম ও অস্ট্রেলিয়া (৭১ হাজার) ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই সময়ে যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ অভিবাসী আসা পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত (৩ লাখ ৫ হাজার), পাকিস্তান (১ লাখ ৭১ হাজার), চীন (১ লাখ ৯ হাজার), নাইজেরিয়া (৯০ হাজার) ও যুক্তরাষ্ট্র (৮৪ হাজার)।

সামগ্রিকভাবে ২০১৬ সালের জুনে ব্রেক্সিটের পক্ষে গণভোটের এই প্রথম অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। এর আগের বছরের তুলনায় এই সময়ে অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৬ হাজার।

ওএনএস-এর অভিবাসন পরিসংখ্যানের প্রধান নিকোলা হোয়াইট জানান, সংখ্যা কমে এসেছে কারণ এর আগের বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসী এসেছিল। এখনই বলা যাচ্ছে না বিষয়টি দীর্ঘ মেয়াদি প্রবণতা হবে। এই পরিবর্তনের ফলে মনে হচ্ছে মানুষের স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের প্রভাব থাকতে পারে। তবে অভিবাসন অনেক জটিল ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে।

গত বছরে ইইউ বহির্ভূত অভিবাসীদের যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ইইউ নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই প্রবণতাকে ‘ব্রেক্সোডাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ইইউ নাগরিকদের যুক্তরাজ্য থেকে চলে যাওয়ার পরিমাণ ২৯ শতাংশ (১ লাখ ২৩ হাজার)। ৪৩ জানিয়েছেন তারা নিজ দেশে ফিরে যাবেন। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

গত ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে এসেছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। আর অভিবাসিত হয়েছেন ৩ লাখ ৪২ হাজার। এই সময়ে অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে ৮০ হাজার।

যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সরকার বার্ষিক অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সর্বশেষ এই পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। বিরোধী দল লেবার পার্টি জানিয়েছে, সরকারের অভিবাসীদের সংখ্যা ১ লাখের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্থহীন।

এলএবাংলাটাইমস/এ/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

জিসিসির বাইরে নয়া সৌদি-আমিরাতি জোট

নিউজ ডেস্ক : তেলসমৃদ্ধ উপসাগারীয় ছয় দেশের জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই প্রভাবশালী দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন জোট গঠনের খবর এল।

মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিসিসির বাইরে একটি নতুন সৌদি-আমিরাতি জোট গঠন করা হয়েছে। সামরিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যক ও সহযোগিতামূলক ক্ষেত্রসহ সর্বত্র দুই দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে নতুন এই জোট।

জোটের কাজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট জিসিসির ছয় সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে ছয় মাস আগে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে অবরোধ আরোপ করে বাহরাইন, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। জিসিসির সদস্য না হয়েও আরব দেশ মিশর কাতারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

জিসিসির শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে মঙ্গলবার সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা কুয়েতে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তবে এই সম্মেলনের আগে সৌদি-আমিরাতি জোট গঠনের খবর জিসিসির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ৩৮তম জিসিসি শীর্ষ সম্মেলন। এবার সম্মেলনে গুরুত্ব পাচ্ছে কাতারের বিরুদ্ধে চার দেশের অবরোধ ও এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ। জুন মাসে কাতারের সঙ্গে স্থল, আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ ছিন্ন করে তারা। এ নিয়ে বিবদমান সংকটের মধ্যে এই প্রথম জিসিসি সম্মেলন হচ্ছে।

গত মাসে বাহরাইনের বাদশা হুমকি দেন, কাতার যোগ দিলে জিসিসি সম্মেলন প্রত্যাখ্যান করবে তার দেশ। কিন্তু সম্প্রতি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বুধবার কুয়েতে জিসিসি সম্মেলনে যোগ দেবেন কাতারি আমির। এ অবস্থায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে নতুন অংশীদারত্বমূলক জোট গঠনের খবর জিসিসি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাকে আরো ত্বরাণ্বিত করছে।

কাতার ও উপসাগরীয় চার দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে কুয়েত। এবারের জিসিসি সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সব দেশকে এক মঞ্চে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। তবে আগামীকাল বুধবার জিসিসির সব সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এলএবাংলাটাইমস/এমই/এলআরটি

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পোশাক

নিউজ ডেস্ক : আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে বাংলাদেশে খাদি কাপড়ের পোশাকের একটি প্রদর্শনী হয়ে গেল ঢাকাতে।

চিরায়ত বাংলার খাদি কাপড়কে অবলুপ্তির হাত

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

সেলফি দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন!

নিউজ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক তাদের কিছু অ্যাকাউন্টধারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে মুখমণ্ডলের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে বলছে। তবে এমন ভেরিফিকেশন পদ্ধতি ফেসবুকে একেবারেই নতুন না। অনেক ব্যবহারকারী রেডিট এবং ফেসবুক হেল্প সেন্টারে চলতি বছরের এপ্রিলে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিল।

সন্দেহজনক ফেসবুক অ্যাকাউন্টধারীর স্ক্রিনে একটি বার্তা দেখানো হচ্ছে- ‘অনুগ্রহ করে আপনার একটি ছবি আপলোড করুন যেখানে আপনার মুখমন্ডল পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ছবি পাঠালে আমরা এটি অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে দেখব এবং স্থায়ীভাবে ওই ছবি আমাদের সার্ভার থেকে মুছে ফেলব’।

বিশ্বব্যাপী এমন ফিচারের মাধ্যমে ফেসবুক তাদের সাইটে সন্দেহজনক কার্যক্রম সহজেই সনাক্ত করতে পারবে। এছাড়া নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো, অ্যাড পেমেন্ট সিস্টেম অথবা বিজ্ঞাপন তৈরি ও সম্পাদনায় এটি ব্যবহার করা হবে। দ্য ভার্জে দেওয়া এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুক।

এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। একজন ব্যবহারকারী উক্ত বিষয়গুলোর যেকোনো একটির ক্ষেত্রে ফেসবুক ছবি মিলিয়ে দেখবে। এটি তখনই কাজ করবে যখন ব্যবহারকারী ফেসবুকে সঠিক ছবি দিবে যা আগে কখনো ফেসবুকে আপলোড করা হয়নি।
ছবি দেওয়ার পরে বিশ্লেষণ করার সময় গ্রাহক ৭২ ঘণ্টা অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে পারবে না। বিশ্লেষণের পর ফেসবুক গ্রাহকের সাথে কন্টাক্ট করলে আবার অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইসিটি/এলআরটি

সুস্থ থাকুন

যে কারণে ছেলেদেরই বেশি টাক হয়

নিউজ ডেস্ক : একুট বয়স হলে অনেক ছেলেদেরই মাথায় টাক পড়ে। এই টাক অনেকের সৌন্দর্যে ব্যাঘাত ঘটালেও, অনেকে আবার এই টাককেই ফ্যাশন হিসেবে মেনে নিয়েছেন। আজকাল ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও একটু হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন।

কিন্তু জানেন কি কেন ছেলেদের বেশি টাক পড়ে?

ক্রোমোজোমের কারণেই নাকি এই সমস্যা দেখা দেয়। এর জন্য নাকি দায়ী অ্যান্ড্রোজেন এবং ওয়াই ক্রোমোজোম। অ্যান্ড্রোজেন হরমোন আসলে পুরুষের বংশগতি ও প্রজননের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে মেয়েদের দেহে ওয়াই ক্রোমোজোমের অস্তিত্বই নেই। তাই টাক পড়ার আশঙ্কাও তেমন নেই।

এ কারণে ছেলেদেরকেই এই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় বেশি।

তবে আরো কিছু কারণে চুলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

সেগুলি হল- শরীরে ভিটামিন ও এর পরিমাণ বেশি হলে, প্রোটিনের অভাবে, বংশগত কারণে, মানসিক চাপ, অ্যানিমিয়া, হাইপোথাইরইডিজম, ভিটামিন বি-এর অভাব, হঠাৎ করে ওজন কমলে, কেমোথেরাপি, বয়স হলে, চুলের ওপর অতিরিক্তমাত্রায় স্টাইল করতে গিয়ে ক্ষতিকারক রাসাযনিক ব্যবহার করলে, অথবা প্রেগন্যান্সি।

তাই শুরু থেকেই চুলের যত্ন নেওয়া উচিত।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

মুগাবে : নায়ক না খলনায়ক?

রাসেল পারভেজ : দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে বিশ্ব জেনে এসেছে জিম্বাবুয়ে মানে মুগাবে, মুগাবে মানে জিম্বাবুয়ে। এবার তার সমাপ্তি হলো। ২১ নভেম্বর পদত্যাগ করেছেন তিনি।

যে জিম্বাবুইয়ানদের জন্য জীবন বাজি রেখে তাদের নয়নের মণি হয়ে নায়কের আসন পেয়েছিলেন, আজ তাদেরই ক্ষোভের বিষে জীবনের পড়ন্ত বেলায় ‘পেছন দরজা দিয়ে’ বিদায় নিতে হলো তাকে। অনেকে তাকে ‘খলনায়ক’ অভিহিত করছেন; বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে এই চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আসলেই কি তিনি খলনায়ক?

মুগাবের ভূমিকা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখে নেওয়া যাক একবার। শুরুতেই বলে রাখা ভালো, পশ্চিমা ধাঁচের শাসন ব্যবস্থার বরাবরই কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। আর পশ্চিমা গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে তিনি একনায়ক ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী।

কারো কারো কাছে মুগাবে মহানায়ক, যিনি জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা এনেছিলেন এবং ব্রিটিশ উপনিবেশের শৃঙ্খল ভেঙে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের শাসন থেকে দেশ মুক্ত করেছিলেন। উপরন্তু সবশেষ যারা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন, তারা এ পরিণতির জন্য স্ত্রী গ্রেস ও তার চারপাশের দুর্নীতিবাজদের দুষেছেন।

গত কয়েক বছর ধরে তার বিরুদ্ধে ক্রমেই সমালোচকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল, যাদের কাছে উচ্চশিক্ষিত ও কূটবুদ্ধির এই রাজনীতিক আফ্রিকার একজন স্বৈরশাসক চরিত্রে রূপায়িত হন। তাদের দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে তিনি পুরো দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ঠেকিয়েছেন এবং ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন।

মুগাবে তার নেতৃত্বের বিষয়ে ছিলেন আত্মরম্ভী ও অহংকারী। একবার তিনি বলেছিলেন, একমাত্র ঈশ্বরই তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে। কিন্তু তার সেই ধারণা ভুল হলো। মানুষই তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করল। এই পরিস্থিতি তার সমালোচকদের জন্য বিশাল জয়।

আরেকটি বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক। ব্রিটেনের কাছ থেকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আদায়ের লড়াই তখন তুঙ্গে। ১৯৭৬ সালের কথা। দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী রাজনৈতিক দল জানু-পিএফ পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন রবার্ট মুগাবে। সেই সময় ইউরোপ, আমেরিকায় লড়াকু গেরিলা নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেননি তিনি।

ওই বছর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে বিশ্বনেতাদের নজরে আসেন মুগাবে। তিনি বলেছিলেন, ‘ভোট ও বন্দুক একসঙ্গে চলবে। সর্বোপরি আমরা যে ভোটই পাব, তা হবে বন্দুকের অবদান। যে বন্দুক ভোট উৎপাদন করছে, তা থাকবে এর জিম্মাদার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছেই। জনগণের ভোট এবং জনগণের বন্দুক সব সময়ই অবিচ্ছেদ্য জোড়।’

জিম্বাবুয়ের জাতীয় ভাষা ‘শোনা’ অনুযায়ী, তাত্ত্বিকভাবে মুগাবের ওই আগুনঝরা বক্তব্য তাদের বিপ্লবী সংগ্রামের মূলনীতি। কিন্তু চার দশক পর মুগাবের সেই কথা ভবিষ্যদ্বাণীর ছায়ায় যেন ফিরে এল তাকেই ঘায়েল করতে। বন্দুকের মুখেই সেনাবাহিনী গৃহবন্দি করে মুগাবেকে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুগাবের পতন হলো বন্দুকের শক্তিতে। যে বন্দুক এক সময় তার কাছে শক্তির উৎস ছিল, আজ তাতেই তার বিদায় হলো।

জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনে নানগাওয়ারও (৭৩) অবদান ছিল কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৮০ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুগাবের আস্থাভাজন মহলে সব সময়ই তিনি সমাদৃত হয়েছেন। ১৯৮০-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৮৭-বর্তমান মুগাবে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দেয়। গত সপ্তাহে নানগাগওয়াকে বহিষ্কার করেন মুগাবে এবং এ পদে গ্রেস মুগাবের অধিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মুগাবের এই পরিবারতান্ত্রিক মানসিকতা ও ক্ষমতার লিপ্সার বিরুদ্ধে চলে যায় সেনাবাহিনী এবং বন্দুকের জোরেই নীরব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারা।

১৯৬০-এর দশকে মুগাবের সঙ্গে জেল খেটেছেন নানগাগওয়া। ১৯৭০-এর দশকে তিনি মুগাবের ব্যক্তিগত সহকারী হন। তবে বার্ধক্যের ভারে ন্যুয়ে পড়া মুগাবে তার শেষ জীবনে স্ত্রী গ্রেসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং তার কথামতোই চলছিলেন। এ নিয়ে জানু-পিএফ পার্টিতে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এই বিভেদের জেরেই বন্দুক গর্জে উঠল হারারেতে এবং পতন হলো মুগাবের। এর আগেও কয়েকবার ক্ষমতা নিয়ে সংকটে পড়েছেন মুগাবে কিন্তু টিকে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্টকে নানগাগওয়াকে অপসারণ নিয়ে সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে চলে যায় এবং ক্ষমতা কেড়ে নেয়।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট মুগাবে বলেছিলেন, ‘যদি আপনি নির্বাচনে হারেন এবং জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দিন।’ কিন্তু নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মরগান টিএসভাঙ্গারাইয়ের বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মুগাবে। তখন তিনি এক বক্তব্যে বলেছিলেন, একমাত্র ঈশ্বরই তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি সহিংসতার পথ বেছে নেন। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মরগানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেন কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে থাকেন মুগাবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন মুগাবে।

১৯৭০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গেরিলা যুদ্ধে নাম করেন মুগাবে। জিম্বাবুয়েকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। সে দিকে প্রচেষ্টা ছিল কিন্তু সফল হননি। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও পুঁজিবাদ ও ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে। তা হলেও গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ নেই সেদেশে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে বা অবমাননাকর কিছু বললে, তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

মুগাবে দেশের অর্থনৈতিক দুর্গতির জন্য সব সময় যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমারা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। তবে সমালোচকরা দাবি করেন, তিনি জানেনই না, আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে কাজ করে।

মুগাবেকে প্রায়ই বলতে শোনা যেত, একটি দেশ কখনো দেউলিয়া হয় না। কিন্তু ২০০৮ সালের জুলাই মাসে তার দেশে অকল্পনীয় মূল্যস্ফীতি ছিল- ২৩১০০০০০ শতাংশ। তখনো তিনি তার নিজস্ব তত্ত্বের ওপর অনড় থেকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন।

জিম্বাবুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টনি হকিংনস একবার তার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘যখনই অর্থনীতি রাজনীতির পথ ধরেছে, তখন প্রতিবারই রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’ ২০০০ সালে যখন প্রথমবার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপে পড়েন, তখন মুগাবে বহুমুখী অর্থনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে তার বারোটা বাজিয়ে দেন। শ্বেতাঙ্গদের খামারগুলো ছিনিয়ে নেন মুগাবে, যা ছিল তাদের অর্থনীতির মূল শক্তি। কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে খামারগুলোর সেই অবস্থা আর নেই।

২০০০ সালে গণভোটে মুগাবে পরাজিত হন। এটি ছিল তার জীবনে প্রথম হার। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করেন। নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী মাঠে নামিয়ে নির্বাচনী সহিসংতা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। আট বছর পর ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মরগানের কাছে হারার পরও তিনি গেরিলা যুদ্ধের কায়দায় নিজস্ব মিলিশিয়াদের মাঠে নামিয়ে দেন এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জয়ী হন। অর্থাৎ তার একমাত্র লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখা।

জিম্বাবুয়ের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান মুগাবের জানু-পিএফ পার্টির দখলে। গণমাধ্যম থেকে সংস্কৃতি- সবাই তাদের নির্দেশিত। তবে ৩৭ বছরে যা-ই হোক না কেন, জিম্বাবুয়েতে শিক্ষার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন মুগাবে। আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার হার তাদের- মোট জনসংখ্যার ৮৯ শতাংশ শিক্ষিত। জিম্বাবুয়ের প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাসিপুলা সিথোলে বলেছিলেন, ‘শিক্ষার সম্প্রসারণ করে প্রেসিডেন্ট তার নিজের কবর খুঁড়ছেন।’ সত্যিই এই শিক্ষিত তরুণ সম্প্রদায় বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতিসহ তাদের দেশের দুর্দশার জন্য মুগাবে সরকারের দুর্নীতিকে দায়ী করে থাকে।

মুগাবে প্রায়ই বলেন, তিনি গরিবের জন্য লড়াই করছেন। কিন্তু তারই অনুসারীদের হাতে দরিদ্র কৃষক ভিটেমাটি, কৃষিজমি হারিয়েছে- এমন নজির ভূরি ভূরি। এসব দেখে নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু একবার বলেছিলেন, জিম্বাবুয়ের দীর্ঘসময়ের প্রেসিডেন্ট প্রাচীনকালের আফ্রিকান একনায়কদের মতো ‘কার্টুন ফিগার’ হয়ে উঠেছেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠলেও মুগাবে তার জন্মদিন পালন করেছেন ঘটা করে। তিনি ৯৩তম জন্মদিনও পালন করেছেন সাড়ম্বরে।

এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

টুকিটাকি খবর

তাই বলে চোখে ট্যাটু!

নিউজ ডেস্ক : করণ কিং, দিল্লির ট্যাটু আর্টিস্ট। বয়স ২৮। ভারতীয় হিসেবে তিনিই প্রথম ট্যাটু আর্টিস্ট যিনি নিজের চোখের মণিতে রংয়ের রেখাচিত্র আঁকানোর সাহস দেখিয়েছেন, এমনই দাবি করণের। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করণ বলেছেন, ‘আমি জানি, আমার এই ইচ্ছের কথা জানার পর এবং অভীষ্টপূরণের পর অনেকেই আমাকে অপছন্দ করবেন। কিন্তু আমি এটা করিয়েছি, কারণ আমি মনে প্রাণে চেয়েছি চোখে ট্যাটু করাতে। আমার চোখ, আমার আনন্দ, আমার জীবন’।

চোখের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় উল্কি করানোর পরিণতি ভয়ানক হতে পারে, এমনকী দৃষ্টি শক্তিও চলে যেতে পারে, এটা জেনেও চোখে ট্যাটু করানোর মতো একটা সিদ্ধান্ত করণ কিং নিয়েছেন।

‘আমি জানতাম, পান থেকে চুন খসলেই আমাকে হয়ত নিজের চোখ হারাতে হত। তবে আমি কায়মনোবাক্যে চেয়েছিলাম চোখে ট্যাটু করাতে। শেষ পর্যন্ত করতে পেরেছি’, চোখে ট্যাটু করানোর পর এই প্রতিক্রিয়াই দিয়েছেন করণ। তার সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এলএবাংলাটাইমস/টি/এলআরটি

তারুণ্য

ইসলামের দিকে ঝুঁকলেন আরবের জনপ্রিয় পপ তারকা

নিউজ ডেস্ক : গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার থেকে অবসরে যাচ্ছেন, সেটা তাঁর ভক্তদের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। আমাল তখন বলেছিলেন, আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। তিনি ইসলামের মধ্যেই তার সুখ-শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। খবর- বিবিসির।

আমাল হিজাজী যখন তার গান-বাজনা ছেড়ে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবন-যাপন শুরু করলেন, তাঁর ভক্তরা অবাক হয়েছিলেন তখন।

কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি আবার ফিরে এসেছেন গানের জগতে। তবে একেবারে নতুন রূপে এবং ভিন্ন ধরণের গান নিয়ে। ইসলামের নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়েই একটি গান গেয়েছেন তিনি।

লেবাননের শিল্পী আমাল হিজাজী আরব দুনিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম পপ রেকর্ড বাজারে আসে। পরের বছর দ্বিতীয় অ্যালবামেই তিনি এক সফল সঙ্গীত তারকায় পরিণত হন। এক দশকের মধ্যেই আমাল হিজাজী হয়ে উঠেন আরব বিশ্বের জনপ্রিয়তম সঙ্গীত তারকা।

২০০২ সালে আমাল হিজাজীর অ্যালবাম 'জামান' বাজারে আসে। এটিকে বিবেচনা করা হয় আরবী পপ সঙ্গীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবাম।

গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী তার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন তিনি সঙ্গীতের জগত ছেড়ে যাচ্ছেন।
তখন তিনি তার হিজাব পরিহিত একটি ছবিও পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, "যে শিল্প আমি ভালোবাসি এবং যে ধর্মের নৈকট্যকে আমি লালন করি, এই দুটি নিয়ে আমাকে অনেক দিন ধরেই বোঝাপড়া করতে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন।"

নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে আমাল হিজাজী যে গানটি গেয়েছেন, সেটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

ইতোমধ্যে ৮০ লাখ ভক্ত তাঁর এই গানটি শুনেছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ এটি শেয়ার করেছেন। তবে আমাল হিজাজীর এই নতুন রূপ এবং নতুন গান নিয়ে তুমুল বিতর্কও চলছে।

যেভাবে তিনি হিজাব পরেছেন, তার যে সাজ-সজ্জা, সেটা কতটা ইসলাম সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইসলামে এভাবে মহিলাদের গান করার বিধান আছে কিনা সেটা জানতে চেয়েছেন অনেকে।

আবু মুহাম্মদ আল আসতাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "তিনি যা করছেন তা ইসলাম সম্মত নয়।"
জেইনাব মুসেলমানি লিখেছেন, "আল্লাহ যা হারাম বলেছেন, সেটা প্রশংসা দয়া করে বন্ধ করুন। তার প্রশংসা বন্ধ করুন, তাকে বরং পথ দেখান।। ধর্মটা কেন অনেকের কাছে রসিকতার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে?"

তবে অনেক ভক্ত আবার আমাল হিজাজীর প্রশংসা করেছেন। দিনা মিশিক নামে একজন লিখেছেন, "যে মহিলা কিনা ধর্মে যা নিষিদ্ধ তা করা বন্ধ করেছে, হিজাব পরা শুরু করেছে এবং নবীর জন্য গান করছে, তোমরা কিভাবে তার সমালোচনা করো।"
এলএবাংলাটাইমস/ওয়াই/এলআরটি

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক