যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 01:07am

|   লন্ডন - 07:07pm

|   নিউইয়র্ক - 02:07pm

  সর্বশেষ :

  ডিসি একুশে এলায়েন্সের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপন ২৩ ফেব্রুয়ারি   ভারতীয় বিমানবাহিনীর মহড়ায় দুটি বিমানের সংঘর্ষে এক পাইলট নিহত   কোথাও অনুমতি না পেয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনে ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি শুক্রবার   ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি গণতামাশা: কাদের   সাঈদী পুত্র মাসুদ কারাগারে   বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় সম্পাদককে হাইকোর্টে তলব   ভারতকে নিঃশর্ত সহায়তার প্রস্তাব ইসরায়েলের   কাশ্মীরি মায়েদের হুমকি দিলো ভারতীয় সেনারা   বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১০০ দিনের ক্ষণগণনা শুরু   শাজাহান খানকে নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, জবাব দিলেন ওবায়দুল কাদের   সৌভাগ্যের লাঠি খুঁজতে অর্ধনগ্ন ১০ হাজার   হামলার আশঙ্কায় ভারতের ১৩টি রাজ্যে সতর্কতা জারি   দুই সপ্তাহ পর দেশে ফিরলেন ফখরুল   পাকিস্তান থেকে ভারতের পথে যুবরাজ সালমান   দুবাই শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক, চার সমঝোতা স্মারক সই

স্বদেশ


ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি গণতামাশা: কাদের

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে গণশুনানির আয়োজন করতে চাইছে, সেটিকে ‘গণতামাশা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ

২০১৯-০২-১৯ ১১:৫৩:১১

বহিঃ বিশ্ব


কাশ্মীরি মায়েদের হুমকি দিলো ভারতীয় সেনারা

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু-কাশ্মীর। সেখানে চলছে একের পর এক ভারতীয় বাহিনীর

২০১৯-০২-১৯ ১১:৩৮:০১

লস এঞ্জেলেস


অমর একুশে গ্রন্থমেলায় চার লস এঞ্জেলেস প্রবাসীর বই

আতাউল খান রিপন প্রতি বছর এর মত এ বছরও শুরু হয়ে গেল বাংলা ভাষার মাস। বাঙালি জাতি তথা বাংলা ভাষা ভাষীর জন্য এ এক অনন্য শিহরনের মাস। বাংলাদেশসহ বিশ্বে ছড়িয়ে

২০১৯-০২-০৬ ১৪:১১:৫২


নিউইয়র্ক


নিউইয়র্কের প্রবীণ আলেম শায়খ আবদুল কাদির (রাহ.) স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নিউইয়র্ক সংবাদদাতা : বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা শায়খ আবদুল কাদির রাহ: স্মরণে নিউইয়র্কের ইমাম-উলামার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।গত ৩০শে

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থী, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘরের খেতাব পেল লুভর মিউজিয়াম

তোফায়েল আহমদ, প্যারিস থেকে : বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পকলা জাদুঘর লুভর মিউজিয়াম ২০১৮ সালে রেকর্ডসংখ্যক ১ কোটি ২ লাখ দর্শনার্থী ঘুরে দেখেছে।ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সেন

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য হলেন মাশরাফি

নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, প্রাক্তন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, মাহবুব আরা গিনি, প্রাক্তন ফুটবলার ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, জুয়েল আরেং, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য এ এন এম নাইমুর রহমান দুর্জয়।

রোববার সন্ধ্যায় ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

ইসলামী জীবন

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয়

নিউজ ডেস্ক : অর্থিক সংকট বা দুরবস্থায় পড়লেই মানুষ অন্য থেকে ঋণ নেয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ঋণ কখনও কখনও কারো জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে। ঋণদাতাকে যেমন ঋণ আদায় করতে না পারার হাতাশায় ভুগতে হয় তেমনি ঋণগ্রহীতাকেও ঋণদাতার বাক্যবাণে নাজেহাল হতে হয়।

কখনো কখনো ঋণগ্রহীতাকে অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। তাই ঋণগ্রহীতা সবসময় চান দ্রুত ঋণ পরিশোধ করে অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে।

দ্রুত ঋণমুক্ত হতে সক্ষম হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি ঋণ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

একবার ঋণ থেকে রক্ষা পেতে প্রার্থনারত অবস্থায় এক ব্যক্তি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ঋণ থেকে খুব বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন!’ নবী কারিম (সা.) বলেন- ‘মানুষ ঋণী হলে, কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে, রক্ষা করে না।’ (বোখারি, হাদিস নং : ২৩৯৭)

ঋণগ্রস্ত থাকার সময় রাসুল (সা.) সব সময় বেশি বেশি এই দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা! ইন্নি আউযুবিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল মা’ছামি, ওয়াল মাদরামি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (বোখারি, হাদিস নং ৬০০৭)

রাসুল (সা.) এই দোয়াটিও পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসলি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া কাহরির রিজাল।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা, অপারগতা-অলসতা, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অধিক ঋণ থেকে ও খারাপ লোকের জবরদস্তি থেকেও আশ্রয় চাচ্ছি।’ (নাসাঈ, হাদিস নং : ৫৪৭৮)

এ দোয়াগুলো নিয়মিত পড়লে আল্লাহ তাআলা শিগগির ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন।

এলএবাংলাটাইমস/ইএল/এলআরটি

প্রবাসী কমিউনিটি

ডিসি একুশে এলায়েন্সের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপন ২৩ ফেব্রুয়ারি

রফিকুল ইসলাম আকাশ : ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হবে ।ডিএমভি এলাকার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত  আয়োজনে, আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি  রোজ শনিবার সন্ধ্যা ৫টায় , কেনমোর মিডল স্কুলের অডিটোরিয়ামে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নিমিত্তে  বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন বাংলাদেশ দুতাবাসের ডেপুটি চীপ মিশন মাহবুব হোসেন সালেহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন আর্লিংটন কাউন্টি চেয়ারম্যান মারশা সেম্মেল। অনুষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবী মনির চৌধুরীর কবর নাটক মঞ্চায়িত হবে, পরিচালনা করবেন শামীম চৌধুরী ।

এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

লস এঞ্জেলেস

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় চার লস এঞ্জেলেস প্রবাসীর বই

আতাউল খান রিপন : প্রতি বছর এর মত এ বছরও শুরু হয়ে গেল বাংলা ভাষার মাস। বাঙালি জাতি তথা বাংলা ভাষা ভাষীর জন্য এ এক অনন্য শিহরনের মাস। বাংলাদেশসহ বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিটি বাঙালির বাংলা ভাষার  জন্য অমর একুশ এক অবিনাশী চেতনা। এই চেতনাকে মনের ভিতর লালন করেই ঢাকার বাংলা একাডেমিতে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯।  অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হাজার হাজার নতুন বই বের হবে।এই মেলায় নবীন প্রবীণ লেখকদের বই বের হবে সেক্ষেত্রে প্রবাসী লেখকরাও পিছিয়ে নেই। পিছিয়ে নেই লস এঞ্জেলেসের চার লেখক ।

তপন দেবনাথ -  লস এঞ্জেলেস প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক এর দুইটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই দুইটির নাম হচ্ছে-  “আমেরিকা সংলাপ” এবং “যে সবে বঙ্গেত জন্মি” (গল্প গ্রন্থ)।প্রকাশ করেছে শুদ্ধ প্রকাশ।আর বই দুইটির প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু। পাওয়া যাবে একুশের বই মেলায় শুদ্ধ প্রকাশ এর স্টলে । তপন দেবনাথের এ যাবত  বই প্রকাশিত হয়েছে ২৫ টি ।

শাহানা পারভীন - লস এঞ্জেলেস প্রবাসী কবি লেখক উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী তার এবারের  ২১শের বই মেলায় ২০১৯ আরেকটি  কবিতার বই বের হলো । বইটির নাম “মানবতা আমাদের  ঠিকানা “ শাহানা পারভীন  গত বেশ  কিছু দিন যাবত ঢাকাতে অবস্তান করছেন ।বইটি দু’জন প্রিয় মানুষকে (তার মা জননী আরেক জন শাশুড়ি মা) উৎসর্গ করেছেন । দু’জনই হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ - একজন লস এঞ্জেলেস প্রবাসী নুতন লেখক তার প্রথম বই   আসন্ন বইমেলায়  বইটি পাওয়া যাবে - বইটির নাম ' দাঁড়াও পথিকবর। ' দি রয়েল পাবলিশার্স বইটি প্রকাশ করেছে। লেখক নিজেই বইমেলায় উপস্থিত থাকবেন বলে ইতি মধ্যেয়ই ঢাকাই  গিয়েছেন ।

এম ইসলাম মাসুদ
- এরিজোনাতেই বসবাস করেন, মাঝে মধ্যে লস এঞ্জেলেস বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা যায় ।এবারের বই মেলায় লেখা “গুম “ উপন্যাসটির প্রথম খন্ড  ২০১৯  একুশের বই মেলায় পাওয়া যাবে, স্টল নং ৫২৮-৫২৯, মুক্তচিন্তা প্রকাশনালয়ে। সংগ্রহ করে পড়ার অনুরোধ লেখকের। বাংলাদেশের একটি পরিবারের একজন উপার্জনক্ষম সদস্য যদি গুম খুন বা নিঁখোজ হয়, তাহলে পরিবারটি কিভাবে ধ্বংশ হয়ে যেতে পারে তারই একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এই উপন্যাসে। ২০১৪ সাল থেকে এম ইসলাম মাসুদ নিয়মিত লিখেই চলেইছেন ।

মিডিয়ার খবরে জানা যায় যে ২০১৮ এর বই মেলাতে ৪৫০০ নতুন বই বের হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ কোটী টাকার বাণিজ্য হয়েছিল ।

এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিনোদন


নিউইয়র্কে ফকির আলমগীরের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা ১৭ ফেব্রুয়ারি

নিউইয়র্ক সংবাদদাতা : বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও প্রখ্যাত গণ সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী, রোববার। সঙ্গীত জগতে শিল্পীর ৫০ বছর

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


বাসায় তৈরি করুন বোরহানি

নিউজ ডেস্ক : অনেকে বোরহানি খেতে খুবই পছন্দ করেন। আবার কোনও কোনও সময় দেখা যায় পছন্দ না করলেও পরিবারের সদস্যদের জন্য বোরহানি আনতে হয় বাইরে থেকে। তবে নিজে এটা

বিস্তারিত


লন্ডন

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের মতো ‘মুজিবনগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে মেহেরপুরের আ¤্রকাননে জাতীয় নেতা নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই দিনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে তড়ান্বিত করে। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের রাজধানী মুজিবনগর করার দাবী এবং আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পু:ননির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নের ধারা আব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবীবে মিল্লাত মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর এজন্য শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেলেই চলবে না, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট লোকের ভোট দরকার। কেননা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ)-এর সদস্য প্রফেসর ডা. হাবীবে মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শরাফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন (হিরু ভূইয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালী হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেডএ জয়,  সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ইউএস’র সভাপতি লিপটন এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ও সিরাজগঞ্জের কামারকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল মজিদ মন্ডল ।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিনাত বেগম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন গনেশ কির্ত্তনীয়া। এরপর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সঙ্গীত শিল্পী রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জিনাত বেগম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়া সমিতি ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে ডা. হাবীবে ডা. মিল্লাত এমপি-কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ডা. হাবীবে মিল্লাত বলেন, মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ডা. হাবীবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র  মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

গৃহশিক্ষকের চোখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের শৈশব

নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবের বিতর্কিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কিছুদিন আগে পর্যন্তও খুব কম লোকই চিনতেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ সৌদি রাজা হিসেবে তার অভিষেক - রক্ষণশীল সৌদি সমাজ সংস্কারের নানা উদ্যোগ, ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ এবং সবশেষ জামাল খাসোগজি হত্যাকান্ড - এগুলোর সাথে তার নাম জড়িয়ে যাওয়ার কারণে সারা বিশ্বের নজর এখন তার দিকে।

কিন্তু কীভাবে বেড়ে উঠেছিলেন এই প্রিন্স সালমান? তার শৈশব সম্পর্কে লোকে কতটুকু জানে?

এর ওপরই খানিকটা আলোকপাত করেছেন বিবিসি আরবি বিভাগের রাশিদ সেক্কাই - যিনি শিশু প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের গৃহশিক্ষক ছিলেন, তাকে ইংরেজি শেখাতেন। সম্প্রতি তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেই সময়কার স্মৃতি।

তিনি বলছেন, " সেটা ১৯৯৬ সাল। আমি তখন জেদ্দার নামকরা স্কুল আল-আনজালে পড়াই। তখন রিয়াদের গভর্নর ছিলেন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ - যিনি এখন সৌদি আরবের বাদশাহ, এবং যুবারাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পিতা।"

"প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ তখন সাময়িকভাবে তার পরিবার নিয়ে জেদ্দায় এসেছেন, এবং তার দরকার হয়েছিল তার সন্তানদের জন্য একজন ইংরেজির শিক্ষক।"

"তিনি যোগাযোগ করলেন আমি যে স্কুলে পড়াতাম সেই স্কুলের সাথে। তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো রাজকীয় প্রাসাদে। আমার ছাত্র হলেন তার প্রথম বিয়ে থেকে জন্মানো কয়েকজন রাজপুত্র। প্রিন্স তুরকি, প্রিন্স নায়েফ, প্রিন্স খালিদ, এবং প্রিন্স মোহাম্মদ।"

"আমি তখন জেদ্দার একটা উঠতি এলাকায় একটা ফ্ল্যাটে থাকি। প্রতিদিন সকাল বেলা সাতটার সময় একজন শোফার (ড্রাইভার) এসে আমাকে আল-আনজাল স্কুলে নিয়ে যেতো। বিকেলের দিকে স্কুল শেষ হলে এই ড্রাইভারই আমাকে নিয়ে যেতো রাজপ্রাসাদে।"

"প্রাসাদের গেটের কড়া পাহারা পার হয়ে যাবার পর গাড়িটি অনেকগুলো চোখ-ধাঁধানো বাগানওয়ালা ভিলা পার হয়ে রাজকীয় প্রাসাদের সামনে পৌঁছাতো। সামনের নিখুঁতভাবে সাজানো বাগানের পরিচর্যা করছে সাদা পোশাক পরা মালীরা।

"সেখানে একটি কার পার্ক দেখলাম - তাতে দাঁড়িয়ে আছে বহু বিলাসবহুল গাড়ি। একটা গাড়ি দেখলাম গোলাপি রঙের - মনে হলো ওটা একটা ক্যাডিলাক। এই প্রথম আমি নিজের চোখে ক্যাডিলাক দেখলাম।"

"রাজকীয় দুর্গে ঢোকার পর আমাকে স্বাগত জানালেন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি। মধ্যবয়স্ক এই ব্যক্তি প্রিন্স মোহাম্মদের খুবই প্রিয় ছিলেন।"

"প্রিন্স মোহাম্মদকে মনে হলো আমার কাছে পড়ার চাইতে প্রাসাদের রক্ষীদের সাথে সময় কাটানোর ব্যাপারেই তার বেশি আগ্রহ। ভাইদের মধ্যে সে-ই বয়েসে সবচেয়ে বড় হওয়ায় সে যা খুশি তাই করতে পারে - এমনই মনে হতো।"

"বয়েসে ছোট যে প্রিন্সরা, আমি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারতাম। কিন্তু মোহাম্মদ সেখানে হাজির হলেই পরিস্থিতি হয়ে যেতো অন্য রকম।"

"আমার মনে আছে, আমার পাঠদানের সময় মোহাম্মদ একটা ওয়াকি-টকি ব্যবহার করতো - যা সে রক্ষীদের কোন একজনের কাছ থেকে ধার করেছিল। সে এটাকে ব্যবহার করতো আমাকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করার জন্য, তার ভাই এবং প্রাসাদরক্ষীদেরকে জোক শোনানোর জন্য।"

"একদিন মোহাম্মদ বললো, তার মা তাকে বলেছেন যে আমাকে দেখে নাকি 'একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক' বলে মনে হয়। আমি এটা শুনে একটু থতমত খেয়ে গেলাম। কারণ আমার মনে পড়ে না যে কখনো আমি তাকে দেখেছি, যেহেতু সৌদি রাজপরিবারের মেয়েরা অপরিচিতদের সামনে আসে না। প্রাসাদে একমাত্র নারী যাকে আমি দেখেছিলাম, সে একজন ফিলিপিনো আয়া।"

"আমাকে যে কেউ দেখছে এ ব্যাপারটা আমি আগে বুঝতে পারি নি। কিন্তু সৌদি সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী তখন আমাকে দেয়ালে লাগানো কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা দেখালেন। তার পর থেকে পড়ানোর সময় আমি আত্মসচেতন হয়ে গিয়েছিলাম।"

"কিছুদিনের মধ্যেই মোহাম্মদ এবং তার ভাইদের আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেল। তারা ছিল রাজপুত্র, এবং তাদের জগত ছিল অর্থ-বিত্ত-বিলাসে ভরা। কিন্তু তাদের সাথে আমার স্কুলের ছাত্রদের বিশেষ কোন তফাৎ ছিল না। তাদের জানার আগ্রহ ছিল কিন্তু খেলাধূলা করতেই বেশি ভালোবাসতো।"

"একদিন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি আমাকে বললেন ভবিষ্যৎ রাজার সাথে দেখা করতে। কারণ তিনি তার সন্তানদের শিক্ষায় কতটা অগ্রগতি হলো তা জানতে চান।"

"আমি ভাবলাম, প্রিন্স মোহাম্মদের দুষ্টামির ব্যাপারে কিছু করার এটা একটা সুযোগ হলো।"

"আমি প্রিন্স সালমানের অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। আমার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন যুবরাজদের অন্যান্য শিক্ষকরা। মনে হলো, প্রাসাদের আদবকায়দা সম্পর্কে আমার চাইতে তারা বেশি ওয়াকিবহাল।"

"প্রিন্স সালমান আসার সাথে সাথে তারা উঠে দাঁড়ালেন, এবং আমি দেখতে লাগলাম কিভাবে তারা রিয়াদের গভর্নরের সামনে মাথা নত করলেন, তার হাতে চুমু খেলেন, দ্রুতগতিতে প্রিন্সদের নিয়ে কিছু কথা বললেন এবং সামনে এগিয়ে গেলেন।"

"যখন আমার পালা এলো - আমি তাদের মতো মাথা নত করতে পারলাম না। আমি কখনো এটা করি নি। আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং ভবিষ্যৎ রাজার সাথে করমর্দন করলাম।"

"আমার মনে আছে প্রিন্স সালমানের মুখে ফুটে ওঠা বিস্ময়সূচক মৃদু হাসির কথা। কিন্তু তিনি ব্যাপারটা উপেক্ষা করেছিলেন।"

"আমি তার সাথে কথা বলার সময় প্রিন্স মোহাম্মদের কথা তুলিনি। কারণ ততক্ষণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে আমি এ কাজ ছেড়ে দেবো এবং যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবো।"

"পরে মি. আল-শাহরি আমাকে রাজকীয় আদবকায়দা পালন করতে ব্যর্থ হবার জন্য আমাকে অনেক বকাঝকা করেছিলেন।"

"আমার ছাত্রদের মধ্যে প্রিন্স মোহাম্মদ ছাড়া প্রিন্স খালিদ - যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। তবে অন্য প্রিন্সরা জনসমক্ষে ততটা পরিচিত নন।"

"সৌদি রাজপুত্রদের শিক্ষাদানের এই সময়টা ছিল আমার জীবনের একটা অনন্য পর্ব।"

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


শিশুদের কার্টুনের আসক্তি দূর করতে যা করবেন

নিউজ ডেস্ক : এখনকার শিশুরা কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করে। তবে এটা আসক্তির পর্যায়ে গেলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো কার্টুন না চালালে তারা

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠানোর পরও ডিলিট করবেন যেভাবে

নিউজ ডেস্ক : কয়েক মাস পরীক্ষা চালানোর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আনসেন্ড বা রিকল ফিচার চালু করেছে ফেসবুক। এখন থেকে মেসেঞ্জারে এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। ফেসবুকের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে এই ফিচার চালু হয় গত বছর।

ধরুন, ভুল করে কাউকে কোনও মেসেজ পাঠিয়েছেন বা না পাঠাতে চাইলেও চাপ লেগে চলে গেছে যা আপনার জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এমনকি কোনও কোনও সময় ক্ষতির কারণও হয়ে উঠতে পারে এটি। তবে এখন আর ভয় নেই। কারণ, আনসেন্ড ফিচারের মাধ্যমে আপনি পাঠানোর পরও মেসেজ ডিলিট করতে পারবেন।

ভারতীয় প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম গেজেটস নাউ জানিয়েছে, পাঠানোর পরও মেসেজ ডিলিট করতে হলে আপনাকে সেটা ১০ মিনিটের মধ্যে করতে হবে। তা নাহলে আপনি আর ডিলিট করার সুযোগ পাবেন না।

পাঠানোর পরও যেভাবে মেসেজ ডিলিট করবেন-
০ যে মেসেজটি ডিলিট করতে চান সেটি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন
০ সিলেক্ট হওয়ার পর দুটি অপশন আসবে
০ প্রথমটি ‘রিমুভ ফর এভরিওয়ান’
০ দ্বিতীয়টি ‘রিমুভ ফর ইউ’
০ এখানে ‘রিমুভ ফর এভরিওয়ান’ অপশন চাপলেই মেসেজ ডিলিট হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরাই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন। এজন্য মেসেঞ্জারের সর্বশেষ ভার্সনটি ব্যবহার করতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইসিটি/এলআরটি

সুস্থ থাকুন

কিসমিসের উপকারিতা

নিউজ ডেস্ক : কিসমিস প্রায় সব বাসায়ই ব্যবহৃত হয়। মূলত মিষ্টি খাবার তৈরিতেই এর ব্যবহার বেশি। তবে এটা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর আছে অনেক পুষ্টিগুণ। দেখে নিন কিসমিস খেলে কি উপকার পাবেন-

১. কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। এগুলো অ্যাসিডিটি কমায়, কিডনির পাথর দূর করে ও হৃদরোগর ঝুঁকি কমায়।

২. জ্বর, ঠাণ্ডা ও অন্য সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

৩. চোখের জন্য আদর্শ খাবার। কিসমিস দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। কিসমিসে রয়েছে ভিটামিন-এ ও বিটা ক্যারোটিন।

৪. ফ্যাটবিহীন ফাইবারসমৃদ্ধ কিসমিস হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।

৫. ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিসমিস খাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

নৌকায় গাওয়া 'ভাটি' অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোক-সঙ্গীত ভাটিয়ালি গান

নজরুল ইসলাম তোফা : সৃষ্টিশীল যা কিছু দৃশ্যমান, তার সবকিছুই প্রবহমান। আর এই চলমানতাই যেন জীবনের বৈশিষ্ট্য। মানুষ একদিনেই কোনো কাজের সফলতা কিংবা দক্ষতা অর্জন করতে পারেনা। তাই তাদের 'দক্ষতা' লাভের পেছনেই রয়েছে দীর্ঘ দিনের অভ্যাস আর অনুশীলন। 'পরিশ্রম এবং উদ্যম' ছাড়া কোনো কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। "বিজ্ঞানী নিউটন" বলেন, ''আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও পরিশ্রম।" তাই সাধারণ মানুষ পরিশ্রম আর সাধনা দ্বারা যুগেযুগেই আবহমান বাংলায় 'সঙ্গীত' সাধকরাই যেন 'গানচর্চা' করে আসছে। সঙ্গীতেই হয় জ্ঞান ও সঙ্গীতেই সাধক সম্প্রদায়ের ধ্যান। চৌষট্টি প্রকার কলা বিদ্যার মধ্যে সঙ্গীতের স্হান সবার শীর্ষেই রয়েছে। মানব জাতির পরিচিতি বহনেই সঙ্গীতের 'ভাষা এবং কৃষ্টি' ওপরেই অনেক মানুষ নির্ভরশীল। সুতরাং বলতে চাই বাংলা লোক সঙ্গীতের শক্তিশালী একটি 'ঐতিহ্যবাহী ধারা' ভাটিয়ালি গান। এই ভাটিয়ালি গানের সুর ও কথার মধ্যে জাতির হৃদয়ের তলদেশে মনোমুগ্ধকর ভাবের সন্ধান পাওয়া যায়। এমন গানের অন্তর্মুখী আবেদন শ্রোতাকেই যেন 'মনের গভীরে' টেনে নিয়ে পারে। সু-সঙ্গীতে আধ্যাত্মিকতার সন্ধান অনেক যুগযুগ ধরেই ছিল এবং আজও আছে আগামীতেও থাকবে। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্য নানা প্রকার সঙ্গীত শিল্পকে জাতীয় সংস্কৃতির গন্ডির আওতায় যথাযথ মূল্যায়ন করা দরকার।
জানা দরকার যে 'ভাটি' শব্দের উত্তর ভাবার্থে 'আল' প্রত্যয় যোগ করেই ''ভাটিয়াল''। অতঃপর ভাটিয়ালি শব্দ গঠিত হয়েছে। ভাটি অঞ্চলের গান বলেই তারা নাম পেয়েছে "ভাটিয়ালি"। এটিই সাধারণ মানুষদের বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করে 'ভাটিয়ালি গান' এদেশের 'প্রাণের গভীরের গান বা চেতনার খোরাক'। সুতরাং, এই গানই তাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কিন্তু ডঃ রীনা দত্তের বক্তব্য একটু ভিন্ন মতামত। তিনি বলেন, গান গুলির বিচার করতে গেলে ভাটিয়ালি গান আসলেই 'প্রবন্ধ যুগের গান'। এ প্রবন্ধ-সঙ্গীতে- 'আলী' নামক প্রবন্ধে নাকি উল্লেখ রয়েছে। তাই তো, 'আলী' প্রকরণটিকে আবার অলংকৃত প্রবন্ধের সঙ্গে মিশ্র রূপে, সাধারণ ভাট পর্যায়ের লোকেরাই যেন ব্যবহার করতো। তাই, ভাটিয়ালির মধ্যেই যেন "আলী" প্রকরণের প্রভাব বা ছায়া রয়েছে। তাঁর এ ভাবনা নেহাৎ অযৌক্তিক নয়। সুতরাং তাঁর মতেই প্রবন্ধ-সঙ্গীতের আলী প্রকরণের অন্তর্গত হলো- ভাটিয়ালি গান। তিনি আবার স্বীকার করেও নিলেছিল তবে আংশিক। তা হলো, ভাটমুখে 'ভাটিয়ালি সঙ্গীত' মূল গান হলেও পরবর্তীতে কালে নৌকার 'মাঝি-মাল্লারা' এমন গানেই যেন ইতিহাসের কালজয়ী সাক্ষী হয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়েছে।
বাংলা লোকসঙ্গীতের এ ভাটিয়ালি গানকে নিয়ে যে যাই বলুক, এমন শিল্পের গুরুত্ব ও সৃজনশীলতাকেই অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আসলে জোর দিয়ে বলতে পারি,- সব জাতির কাছেই "সঙ্গীতশিল্প" একটি গুরুত্বপূর্ণ 'শিল্প মাধ্যম'। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি সাহিত্য তত্ত্বে সবধরনের গান সম্পর্কে বলেছে- 'ইহকাল, মহাকাল, জীবন-তরী এবং ফসল কিংবা পরপারের সান্নিধ্য লাভেই সঙ্গীতের- 'কথা ও সুরে' আধ্যাত্মিকতা এবং নান্দনিক রূপ ফুটে উঠে'। সুতরাং বলতেই পারি, ভাটিয়ালি গানের সুরের দ্বারা প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার ধ্যান-জ্ঞানের সহিত 'সৌন্দর্য-মাধুর্যের উৎস' নিহিত আছে। তাই 'বিশ্বাসকেই মুখ্য' করে সাধারণ মানুষের 'সৃজনশীল ক্ষমতা' কত উচ্চ ও উন্নত হতে পারে, তা এ ভাটিয়ালি গানেরই প্রমাণ মিলে। ভাব, ভাষা, সুর, ছন্দ, প্রকৃতি কিংবা পরিবেশ সমন্বয়েই এমন গানের একটি নিজস্ব ভূবন ও স্বতন্ত্র চরিত্র ফুটে উঠেছে। এইগানের প্রতিই আকর্ষণবোধ মানুষের চিরন্তনী স্বভাব। তাই বিজ্ঞান ভিক্তিক চিন্তা চেতনায় আজকের তরুণ গবেষকরা গবেষণায় ব্রত হয়ে এমন ভাটিয়ালি গানকে বলেছেন- বাংলা লোক সঙ্গীতের ধারা ভিত্তিক পরিচিতির মুখ্য কারণ, এমন গানের মধ্যেই রয়েছে- ''করুন সুর''। এর আরও মুখ্য ভাব- প্রেম, লৌকিক কিংবা আধ্যাত্মিক উভয় প্রেমে বিচ্ছেদ জনিত করুণ রস সঞ্চারিত হয় সব মানুষের আত্মায়। তারা ভাটিয়ালি গান গেয়ে বা শুনে পার্থিব ও অপার্থিব জীবনের আস্বাদন করে। সুতরাং, এমন গানের 'ভাবের মাহাত্ম্য' এবং কথা ও সুরের লালিত্য একেবারেই অনন্য।
নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। নদীর সঙ্গে নৌকা এবং নৌকার মাঝির যোগসূত্র অত্যন্ত নিবিড়। তাই, কোন্ অদৃশ্য সুরকার ও গায়ক গঙ্গা, যুমনা, মেঘনা, গড়াই, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যার মতোই কতো নামের নদ-নদী যে আছে। তাদের নিয়েই এমন সুরকার এবং গায়ক রূপালী তারে কোমল অঙ্গুলি স্পর্শ করে এই দেশের শাশ্বত কালের প্রানের গান ভাটিয়ালি সুর এবং কথা সৃষ্টি করেছে। জানা যায় যে, ভাটি অঞ্চলের মানুষরা নৌকা বেয়ে সুদূর শহরে বাণিজ্য করতে যেত। তারা বহুদিন পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির উপর ভাসে। তাদের সামনে থাকে সুদূর প্রসারী নদী পথ আর মাথার উপরে অনন্ত অসীম নীল আকাশ। দিগন্ত ব্যাপি এ নদীর শূন্যতার উপর নৌকার বাদাম উড়িয়ে একক ভাবেই ভাটিয়ালি গান গাইতো। এমন গানের সৃষ্টির শুরুতে যেন বাদ্য-যন্ত্রের ব্যবহার হতো না। ধীরে ধীরেই নানা লোকজ বাদ্যযন্ত্রেরও ব্যবহার হয়। দিগন্ত ব্যাপি টেউয়ের তালে তালে ভাবের উদয় ঘটিয়ে গানের কথা গুলো বানিয়ে বানিয়েই সুললিত কণ্ঠে গভীর আবেগে গাইতো। অবসরে রংবে-রঙের নৌকায় বসে মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার উত্তর উদয় করেই গান গাইতো। পূর্ব বাংলার এমন গানই- মুলত ভাটিয়ালি গান। পল্লী কবি জসীমউদ্দীন পূর্ববাংলার নৌকার মাঝি-মাল্লাদেরকেই- 'ভাটিয়ালি গানের মুখ্য রূপকার' হিসেবেই পরিগণিত করেছে। তবুও- জানা যায় যে, এমন ''ভাটিয়ালির নামকরণের অর্থ'' নানান জনে নানা ভাবেই মন্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেছে। কেউ বলে, নদীর ভাটির স্রোতের টানেই- 'বিভিন্ন প্রকারের নৌকা' ভাসিয়ে মাঝিগণ যে গান করতো, সেই গানই 'ভাটিয়ালি'। আবার কেউ কেউ বলেছে, এই বাংলার ভাটি অঞ্চলের নৌকা-মাঝির গানই ভাটিয়ালি গান। যে যাই বলুক না কেন আশরাফ সিদ্দিকীর অভিমত হলো, নদনদীর ভাটি দিয়ে নৌকা বেয়ে যেতো, মাঝি মাল্লারা অবসর বা উদাস মনে সে নৌকায় যে গুলো গান গাইতো সেই গুলিই ভাটিয়ালি গান।
ভাটিয়ালি মুখ্যত পূর্ব বাংলার মাটি ও মানুষের গান।
ভাটিয়ালি গান বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের অনেক জনপ্রিয় সঙ্গীত। বিশেষ করে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলগুলিতেই ভাটিয়ালি গানের মূল সৃষ্টি, চর্চাস্থল এবং সেখানে এমন গানের ব্যাপক প্রভাব আছে। এই ভাটি অঞ্চলের ভাটিয়ালি গানের দীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে। এগানের 'সুর ও কথা' মন এবং জীবনের জন্যই যেন সৃষ্টি, যুগে যুগে এমন ভাটিয়ালি গানের শৈল্পিক ব্যবহার- আবহমান বাংলায় মানব জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।
তাদের শ্রবণইন্দ্রিয়কে আকৃষ্ট করবার চেষ্টায় ভাটির টানে নৌকা ছেড়ে দিয়েই যেন- বিনা আয়াসে নৌকা চালাতে থাকে। আর এমন 'অনায়াস' এবং তজ্জাত 'অবসর'ই ভাটিয়ালি রচনাগত উৎস বলা যায়। তাই তাদের স্বরচিত ভাটিয়ালি গানকে সারিগানের মতো বললেও ভুল হবে না। নদী, নৌকা বা মাঝি কেন্দ্রিক সারিগান। উভয় গানের 'বিষয় বস্তু' লৌকিক কিংবা আধ্যাত্মিক প্রেম, রাধাকৃষ্ণ লীলার মতো ধ্যান এবং জ্ঞানের চেতনায় মগ্ন হওয়ার মিল রয়েছে। তাই এই মিলটা শুধুমাত্র বাইরে, অভ্যন্তরে উভয় গানে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। জানা যায়, সারি গান নৌকার মাঝি মাল্লাদের শ্রম-সঙ্গীত, আবার এমন "ভাটিয়ালি গান" নৌকার মাঝি-মাল্লাদেরই "শ্রম-হীন" অবসরের গান।
সুতরাং ভাটিয়ালি একটি নান্দনিক সুরের নাম এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ ভাটিয়ালি গানের বিষয়, পটভূমি, পরিবেশ, রূপক-প্রতীক, সুর-লয় এবং শব্দ ভান্ডার ইত্যাদি থেকে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলতেই পারি নদী ও নৌকার যুক্ত মাঝি-মাল্লার জীবনকেই আশ্রয় করে এ গানের উদ্ভব, বিকাশ ও প্রসার ঘটেছে।
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত এই ভাটিয়ালির সুর এবং তালের গান নামকরণেই যেন সার্থক। এপরিসংখ্যান প্রদানে মুখ্য উদ্দেশ্য, ভাটিয়ালি গানের যেমন উৎস-ভূমি আছে। তেমনি উদ্ভব কালও আছে। এই গানের যে ভাবের গভীরতা কিংবা সুরের মাধুর্য সত্যিই যেন অতুলনীয়। উদাসী ভাবের করুণ-বিষাদের সুর বলে তা মধুরতম আবেদন সৃষ্টি করে। আধ্যাত্মিক স্তরের গানগুলোতেও অধ্যাত্ম এবং দেহতত্ত্বের কথা রূপক প্রতিকের আশ্রয়েই পরোক্ষভাবে প্রকাশিত করেছে। ভবসংসারের যন্ত্রণা থেকে 'মুক্তি' বা 'আল্লাহ্', 'দয়াল গুরু কিংবা মুর্শিদের চরণাশ্রয়' কামনা করাটাই যেন ভাটিয়ালি গান জন্ম বা রচনার ক্ষণ। তাই- শুধুই যে, বাউল সংস্কৃতিতেই এমন ভাব ফুটে উঠেছে তা নয়।এদিক থেকে 'বৈষ্ণব', 'সুফী' বা 'বাউল'দের ভাবনার সঙ্গে ভাটিয়ালির 'এক শ্রেনীর গানের' নিকট সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিক ভাটিয়ালি লোক-সঙ্গীতে মরমিয়া চেতনার ধারাবাহিকতাও যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং, আধুনিক ভাটিয়ালি সঙ্গীত অনেকাংশেই 'বস্তুবমূখী' চেতনায় সমৃদ্ধ হচ্ছে। নৌকার মাঝি অথবা নৌকায় নৌকায় ব্যবসারত সওদাগরের মনে লাভ-লোকসান এর হিসাব প্রাধান্য পায় ভাটিয়ালি গানে।
'ভাটিয়ালি গান' সঙ্গীতশাস্ত্রের একটি রাগিণীর নাম।শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে 'রাগ' অর্থে একাধিক পদেই তা উল্লেখ আছে। বৈষ্ণব ও সুফীপদেও বহুস্হলে এমন ভাটিয়ালি রাগের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। 'মঙ্গলকাব্য' বা প্রণয়োপাখ্যানগুলিতেও এমন সুর এবং সুরে রচিত গীতের উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়াও বলা যায়, 'হলায়ুধ মিশ্র' রচিত- সেক শুভোদয়া সংস্কৃত গ্রন্থে 'ভাটিয়ালি রাগেন গীয়তে' নামক এক 'ছড়া-ধর্মী' সঙ্গীতেও যেন উল্লেখযোগ্য ভাটিয়ালি গান। যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য রচিত বাঙ্গালার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি গ্রন্থে নানা রাগ-রাগিণীর কথাও উল্লেখযোগ্য, তার মধ্যেই ৪৮টি শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে এখনও দেশ-প্রচলিত ভাটিয়ালি গানের সহিত খুব ব্যবহার রাগ-রাগিণী তা হলো 'ভাটিয়াল', 'করুণা-ভাটিয়াল', 'দুঃখ ভাটিয়াল', ও নাগোধা ভাটিয়াল। বাংলাদেশে ভাটিয়ালি গানের শিল্পী, রচয়িতা, সংগ্রাহক এবং গীতিকারদের মধ্যেই অন্যতম। 'জালালখাঁ', 'মিরাজ আলী', 'উকিল মুন্সী', 'জংবাহাদুর', 'রশিদ উদ্দিন', 'উমেদআলী'সহ বাউল সম্রাট 'শাহ আবদুল করিম' প্রমূখ। এইবাংলার গান, প্রাণের গান, মনের গান, জীবনের গান, প্রেমের গান, ভালোবাসার গান ভাটিয়ালি গান। জীবনের চাওয়া, পাওয়া, না পাওয়া, আনন্দ কিংবা দুঃখ ভাগা-ভাগিই হলো ভাটিয়ালি গান। জীবনের পরতে পরতেই যেন মিশে আছে বাঙ্গালী ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীতের এই ভাটিয়ালি গান।..."আমি যে গহীন গাঙের নাইয়া।
সাঁঝের বেলায় নাও বাইয়া যাই,
আপন মনে চাইয়া। ভাটির টানে বাইয়া চলি, ভাইটালি সুরে গাইয়া"।
লেখক : কলামিস্ট ও প্রভাষক।

টুকিটাকি খবর

হীরার তৈরি বিমান!

নিউজ ডেস্ক : হীরার তৈরি আস্ত একটি বিমান। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে করা একটি পোস্ট উসকে দিল সেই জল্পনা। হাজার হাজার হীরা খচিত বিমানের গায়ে। ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে হীরার তৈরি ওই বিমানের ছবি। সত্যিই এটি বিমান নাকি অন্য কিছু? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল মানুষের মনে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের রত্নখচিত বোয়িং ৭৭৭ বিমানটিকে ‘ব্লিং ৭৭৭’ বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণ মানুষ যারা প্রথমবার এই বিমানের ছবিটি দেখেছেন তারা সবাই কমেন্টে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল ছবিটির ক্যাপশন থেকেই। এমিরেটস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আসলে হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়নি বিমানটি। কিন্তু সেদিকে কারও চোখ যায়নি। কারণ কয়েক লক্ষাধিক হীরার ঝলকানিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের চোখ গেছে আটকে।

‘হীরার বিমানে’র ছবি শেয়ার করে এমিরেটস লিখেছে, ‘‘দি এমিরেটস ‘ব্লিং’ ৭৭৭, ছবিটি তৈরি করেছেন সারা শাকিল।’’ 

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা শাকিল হচ্ছেন একজন ক্রিস্টাল শিল্পী। ইনস্টাগ্রামে বিখ্যাত এই শিল্পীর প্রায় পাঁচ লাখ ফলোয়ার আছে। গত মঙ্গলবার সারা ইনস্টাগ্রামে তার এই আর্টওয়ার্কের ছবি শেয়ার করেছিলেন। ছবিটি দেখেই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের অনেক পছন্দ হয়ে যায়। শাকিলের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি নিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে এমিরেটস। এ ছাড়া ছবির পুরস্কার হিসেবে পাকিস্তান থেকে মিলান অবধি সারা শাকিলকে বিনামূল্যে বিমানযাত্রার ব্যবস্থা করে দেয় এমিরেটস।

সারা শাকিলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ লাইক করেছে এটি।

তারুণ্য

ইসলামের দিকে ঝুঁকলেন আরবের জনপ্রিয় পপ তারকা

নিউজ ডেস্ক : গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার থেকে অবসরে যাচ্ছেন, সেটা তাঁর ভক্তদের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। আমাল তখন বলেছিলেন, আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। তিনি ইসলামের মধ্যেই তার সুখ-শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। খবর- বিবিসির।

আমাল হিজাজী যখন তার গান-বাজনা ছেড়ে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবন-যাপন শুরু করলেন, তাঁর ভক্তরা অবাক হয়েছিলেন তখন।

কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি আবার ফিরে এসেছেন গানের জগতে। তবে একেবারে নতুন রূপে এবং ভিন্ন ধরণের গান নিয়ে। ইসলামের নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়েই একটি গান গেয়েছেন তিনি।

লেবাননের শিল্পী আমাল হিজাজী আরব দুনিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম পপ রেকর্ড বাজারে আসে। পরের বছর দ্বিতীয় অ্যালবামেই তিনি এক সফল সঙ্গীত তারকায় পরিণত হন। এক দশকের মধ্যেই আমাল হিজাজী হয়ে উঠেন আরব বিশ্বের জনপ্রিয়তম সঙ্গীত তারকা।

২০০২ সালে আমাল হিজাজীর অ্যালবাম 'জামান' বাজারে আসে। এটিকে বিবেচনা করা হয় আরবী পপ সঙ্গীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবাম।

গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী তার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন তিনি সঙ্গীতের জগত ছেড়ে যাচ্ছেন।
তখন তিনি তার হিজাব পরিহিত একটি ছবিও পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, "যে শিল্প আমি ভালোবাসি এবং যে ধর্মের নৈকট্যকে আমি লালন করি, এই দুটি নিয়ে আমাকে অনেক দিন ধরেই বোঝাপড়া করতে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন।"

নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে আমাল হিজাজী যে গানটি গেয়েছেন, সেটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

ইতোমধ্যে ৮০ লাখ ভক্ত তাঁর এই গানটি শুনেছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ এটি শেয়ার করেছেন। তবে আমাল হিজাজীর এই নতুন রূপ এবং নতুন গান নিয়ে তুমুল বিতর্কও চলছে।

যেভাবে তিনি হিজাব পরেছেন, তার যে সাজ-সজ্জা, সেটা কতটা ইসলাম সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইসলামে এভাবে মহিলাদের গান করার বিধান আছে কিনা সেটা জানতে চেয়েছেন অনেকে।

আবু মুহাম্মদ আল আসতাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "তিনি যা করছেন তা ইসলাম সম্মত নয়।"
জেইনাব মুসেলমানি লিখেছেন, "আল্লাহ যা হারাম বলেছেন, সেটা প্রশংসা দয়া করে বন্ধ করুন। তার প্রশংসা বন্ধ করুন, তাকে বরং পথ দেখান।। ধর্মটা কেন অনেকের কাছে রসিকতার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে?"

তবে অনেক ভক্ত আবার আমাল হিজাজীর প্রশংসা করেছেন। দিনা মিশিক নামে একজন লিখেছেন, "যে মহিলা কিনা ধর্মে যা নিষিদ্ধ তা করা বন্ধ করেছে, হিজাব পরা শুরু করেছে এবং নবীর জন্য গান করছে, তোমরা কিভাবে তার সমালোচনা করো।"
এলএবাংলাটাইমস/ওয়াই/এলআরটি

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক