যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 09:07am

|   লন্ডন - 04:07am

|   নিউইয়র্ক - 11:07pm

  সর্বশেষ :

  লস এঞ্জেলেসে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ, শীঘ্রই স্বাভাবিক হচ্ছেনা পরিস্থিতি   লুইসভিলে পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ: আটক এক বিক্ষোভকারী   ক্যালিফোর্নিয়ায় ইডিডি কার্ড জালিয়াতি: আটক ৮৭   গিন্সবার্গের শেষকৃত্যে ট্রাম্প, দুয়োধ্বনি দিলো ডেমোক্রেটরা   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন ভাগ্নী ম্যারি ট্রাম্প   করোনা থেকে সুস্থ হলেন দুই কোটি ৩৬ লাখ   মোদির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি: রাহুল গান্ধী   বাইডেন জিতলেও ক্ষমতা ছাড়বেন না ট্রাম্প!   মসজিদে বিস্ফোরণঃ ৩৫ পরিবারে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান   মোটরসাইকেলে চেপে উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত ভ্রমণ   শনিবার হলিউড মসজিদের ভার্চুয়াল ফান্ডরেইজিং   এবার চাঁদের বুকে পা রাখবেন নারী   ট্রাম্প জাতিসংঘে ‘রাজনৈতিক ভাইরাস' ছড়াচ্ছেন: চীন   ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্ধ হয়ে যাবে গ্যাসোলিন চালিত গাড়ি   ক্যালিফোর্নিয়ার ববক্যাট ফায়ারে ধসে গেছে ৫২টি বাড়ি

CORONAVIRUS OUTBREAK

Los Angeles

263,408

Cases

6,425

Deaths

California

796,937

Cases

15,314

Deaths

USA

7,172,572

Cases

207,262

Deaths

স্বদেশ


মসজিদে বিস্ফোরণঃ ৩৫ পরিবারে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান

নারায়ণঞ্জের পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ও আহত ৩৫ জনের পরিবার ৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বমোট ১ কোটি ৭৫ লাখ

২০২০-০৯-২৪ ১০:৫৬:০৭

লস এঞ্জেলেস


ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল: আরো ১ জনের মৃত্যু, বাড়ি বিধ্বস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অঞ্চলের দাবানল পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে যেয়ে মারা গেছেন এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী। তাছাড়া লস

২০২০-০৯-১৯ ১৬:০৬:১৩


নিউইয়র্ক


লুইসভিলে পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ: আটক এক বিক্ষোভকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী ব্রিওনা টেইলরের মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে কেন্টাকির লুইসভিল শহরে। আর বিক্ষোভ চলাকালীন সময়

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ ইউরোপের ভিসা

নিউজ ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত জুলাইয়ের শুরু থেকে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চীন, ভুটান, ভারতসহ বিশ্বের

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

করোনায় আক্রান্ত নেইমার

নিউজ ডেস্ক :
এখন পর্যন্ত বিশ্বের অনেক তারকা ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের নাম। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বের নামকরা সব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

নেইমারের ক্লাব পিএসজি টুইটারে জানিয়েছে যে, তাদের ক্লাবের তিনজন ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত। তবে, লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালিস্ট ক্লাবটি করোনায় আক্রান্তদের নাম প্রকাশ করেনি।

কিন্তু ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে নেইমারের নাম রয়েছে। জানা গেছে, বাকি দুইজনের মধ্যে একজন হলেন পিএসজির আর্জেন্টাইন তারকা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া এবং অপরজন লিওনার্দো প্যারেডেস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিএসজি জানিয়েছে, ‘তিনজন পিএসজি-ইংলিশ ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে দলের সব খেলোয়াড় ও স্টাফদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।’

সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে যায় পিএসজি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নতুন মৌসুম শুরু। নতুন মৌসুম সামনে রেখেই এখন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ফ্রান্সের এই ক্লাবটি।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এস

ইসলামী জীবন

এক ওয়াক্ত নামাজেই ৯ পুরস্কার

নিউজ ডেস্ক :

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম নামাজ। নামাজের অনেক ফজিলত, উপকারিতা এবং মর্যাদার কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবী। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এক ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারীর জন্য ৯টি সুসংবাদ ঘোষণা করেছেন।

যারা ফজরের ৪ রাকাআত নামাজ আদায় করবে হাদিসে তাদের জন্য অসামান্য সব পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এসব পুরস্কারের ঘোষণা মুমিন মুসলমানকে ফজরের নামাজের দিকে আরও বেশি ধাবিত করবে। এতে সুন্দর ও কল্যাণময় দিন লাভ করবে মুমিন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য যেসব পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, তাহলো-

আল্লাহর জিম্মায় থাকার সুসংবাদ- হজরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাজরের নামাজ পড়ল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোনো অধিকার দাবি করেন না। যদি করেন- তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।’ (মুসলিম)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ- হজরত আবু বকর ইবনু উমারাহ ইবনু রুআইবাহ তার পিতা রুআইবাহ থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের নামাজ অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এ কথা শুনে বাসরার অধিবাসী এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি নিজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে থেকে এ কথা শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলে উঠল, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে এ হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শুনেছি। আমার দুই কান তা শুনেছে আর মন তা স্মরণ রেখেছে।’ (মুসলিম)

পরিপূর্ণ নুরের সুসংবাদ- হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রাতের অন্ধকারে মসজিদসমুহে যাতায়াতকারীদের কেয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।’ (ইবনে মাজাহ)

অর্ধেক রাত ইবাদতের সাওয়াব- হজরত আবদুর রহ্‌মান ইবনু আবু আমরাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদিন মাগরিবের নামাজের পর হজরত উসমান ইবনু আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে এসে একাকি এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন-

‘ভাতিজা! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ইশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সলাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল সে যেন সারারাত জেগে নামাজ আদায় করল।’ (মুসলিম)

মুনাফিকের তালিকা থেকে বাদের সুসংবাদ- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী (কষ্টের) নামাজ আর নেই। এ দুই নামাজের কী ফজিলত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতপর যারা নামাজে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।’ (বুখারি)

দুনিয়ায় সবচেয়ে উত্তম ফজরের নামাজ- হজরত আয়েশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণ‌না করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফাজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামাজ দুনিয়া ও তার সব কিছুর থেকে উত্তম।’ (মুসলিম)

নামাজি হিসেবে ফেরেশতাদের সাক্ষ্য- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতারা পালাক্রমে তোমাদের মাঝে আগমন করেন। একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের নামাজে উভয় দল একত্রিত হয়। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রভু তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। উত্তরে তারা বলেন, আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি। আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজরত অবস্থায় ছিলেন।’ (বুখারি)

আল্লাহর দিদার লাভের সুসংবাদ- হজরত জারির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, শোন! এটি (ওই চাঁদকে) তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রভুকে তোমরা দেখতে পাবে। তাকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যাস্তের আগে অর্থাৎ ফজর ও আসর নামাজ আদায়ে সমর্থ হও, তবে তাই কর। অতপর তিনি এ আয়াত (সুরা ত্বহা: আয়াত ১৩০) তেলাওয়াত করলেন-

‘আর আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের আগে, সূর্যাস্তের আগে এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন রাতের কিছু অংশ ও দিনের ভাগে, সম্ভবত তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। (বুখারি)

ফজর আদায়ে উত্তম দিনযাপন- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পিছনের অংশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। অতপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়। তারপর ওজু করলে আরেকটি গিঠ খুলে যায়। অতপর নামাজ আদায় করলে আরেকটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার সকাল হয় উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে কলুষ-কালিমা ও আলস্য সহকারে সকালে উঠে।’ (বুখারি)

মুমিন মুসলমানের উচিত উল্লেখিত ফজিলত ও মর্যাদা লাভে নিয়মিত ফজরের নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া। হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলা। আর তাতে কল্যাণের সঙ্গে কাটবে সারাটি দিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজরের নামাজের মাধ্যমে দিন শুরু করার তাওফিক দান করুন। দিনের পরবর্তী কাজগুলো কল্যাণের সঙ্গে সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

প্রবাসী কমিউনিটি

আহমদ শফী (রহ:) ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধয় বুজর্গ ও উলামায়ে কেরামের সিপাহসালার: নিউইয়র্কে দুআ মাহফিলে বক্তারা

নিউইয়র্ক সংবাদদাতা : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর, দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক,শায়খুল ইসলাম সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ,এর অন্যতম খলিফা, প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ: এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা,খতমে কুরআন এবং দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।গত ২০শে সেপ্টেম্বর শনিবার বাদ মাগরিব মাদানী একাডেমী অফ নিউইয়র্ক আয়োজিত উক্ত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান।দারুল উলূম নিউইয়র্কের মুহাদ্দিস মাওলানা আজিজুর রহমান ঘোগারকুলীর সাবলীল উপস্থাপনায় সংগঠনের অস্থায়ী অফিসে অনুষ্ঠিত মাহফিলের শুরুতে কালামে হাকীম থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ আবু তাহের।আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ: এর জীবন ও কর্ম নিয়ে টেলিকনফারেন্সে প্রধান মেহমান হিসেবে আলোচনা রাখেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট আল্লামা শায়খ আরশাদ মাদানী ও  পাকিস্তানের সাবেক চীফ জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ।

দুআ মাহফিলে বিশেষ মেহমান হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দারুল উলূম নিউইয়র্কের শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুর রহীম, আল মনসুর মাদরাসা নিউইয়র্কের প্রধান মুফতী মুহাম্মদ আবদুল্লাহ,নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বদরুল হক ও মসজিদ আল আমান ওজনপার্ক এর সাবেক সভাপতি শামছুদ্দীন সুনাই।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন দারুল উলূম নিউইয়র্কের সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা ইয়ামীন হোসাইন,জামেয়া ইসলামিয়া মসজিদ অফ উডহ্যাভেনের ইমাম ও খতীব মাওলানা শায়খ আসআ'দ আহমদ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জামেয়া কুরআনিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম,ম্যানহাটনের আস সাফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতীব মাওলানা রফিক আহমদ রেফাহী, আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের সভাপতি হাফেজ রফিকুল ইসলাম, ইমাম ও খতীব মাওলানা আতাউর রহমান জালালাবাদী, দারুস সালাম মসজিদ ইমাম ও খতীব মাওলানা আবদুল মুকিত, আস সাফা ইসলামিক সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী,দারুল কুরআন ও সুন্নাহ'র মুহাদ্দিস মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজীনগরী, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জামেয়া কুরআনিয়া মাদরাসার উস্তাদ হাফেজ মাওলানা আহমদ আবু সুফিয়ান, লেখক -গবেষক রশীদ জামীল,বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল রশীদ আহমদ,বায়তুল হামদ এর পরিচালক মাওলানা আনাস জামালী, আল ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা শাহেদ আহমদ প্রমুখ।

 মাহফিলে মসজিদ আল আমানের সাবেক ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল্লাহ,আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা মানজুরুল কারীম, মারকাজুল উলূম আত তারবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা হামিদুর রহমান আশরাফ,মাদানী একাডেমীর সদস্য হাফেজ মামুনুর রশীদ,মাওলানা আহমাদুল হাসান, মাওলানা ফাহিম আহমদ, হাফেজ নমীক আহমদ ও হাফেজ আলী আকবর প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মাহফিলে আরো অনেক উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসল্লিয়ান উপস্থিত ছিলেন

টেলিকনফারেন্সে প্রধান মেহমান হিসেবে আলোচনায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট আল্লামা শায়খ আরশাদ মাদানী
বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ  করে বলেন,তাঁর  হৃদয়বিদারক ইন্তেকালের সংবাদে আমরা বিমর্ষিত ও আহত হয়েছি। তিনি হযরত শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ. যোগ্য শাগরেদ, খলিফা, মুজায ও আমাদের সকলের প্রিয় ছিলেন। মাদানী পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক, হৃদ্যতা ও ভালোবাসা ছিল পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময়ের। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বারা দ্বীনের অনেক বড় বড় কাজ করে নিয়েছেন।

মাওলানা আরশাদ মাদানী  আরো বলেন, বাংলাদেশে তাঁর ছাত্র, ভক্ত অনুরক্তের সংখ্যা অগণিত। ১৯৪৬ সনে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফারেগ হয়ে  তিনি তাঁর গোটা জীবন ইসলামের প্রচার -প্রসার, দারস-তাদরিস, হাদিস, ফিকহ, বাইয়াত, সুলুক, ইসলাহ ও তাজকিয়ার জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’ বেফাক ও ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজ গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেছেন। বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে কখনো তিনি তাঁর আদর্শ ও মিশন থেকে পশ্চাদপসরণ করেননি। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও তিনি মসনদে হাদিসে বুখারী শরীফের দরস দিয়েছেন।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, বাংলা ও উর্দুতে একাধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন দেশ ও জাতির কল্যাণ ও মঙ্গলে সদা নিবেদিত একজন আলেমে দ্বীন। ইখলাস, লিল্লাহিয়্যাত ও সাদাসিধে জীবন যাপন ছিল তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য। বাবার মৃত্যু নিঃসন্দেহে নিজ সন্তানদের জন্য বিরাট বেদনাদায়ক ও শোকের। তবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা আমাদের সবার থেকে উর্ধ্বে। তাঁর ফায়সালার উপর সকলের ধৈর্য্য ধারণ করা আবশ্যক। এ জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কারের অঙ্গীকার রয়েছে।মাহফিলে পাকিস্তানের সাবেক চীফ জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্পর্কে রেকর্ডিং করা একটি নসীহত শুনান মাওলানা ইয়ামীন হোসাইন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান বলেন, মাদানী একাডেমী অফ নিউইয়র্কের ডাকা সাড়া দিয়ে স্বল্প সময়ের নোটিশে বহু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হওয়ায় সবাইকে মোবারকবাদ জানান। তিনি বলেন, আল্লামা আহমদ শফী (রহ:) সকল ইসলাম বিরুধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। অনসৈলামিক কর্মকাণ্ডবন্ধ ও ইসলামী প্রচারণার জন্য আল্লামা আহমদ শফী "হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ" নামক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংস, ফারাক্কাবাঁধ, তাসলিমা নাসরীন ইস্যু,সরকারের ফতোয়া বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সহ বিগত সময়ের ইসলাম বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে আল্লামা আহমদ শফী  এতোপ্রোত ভাবে শরিক ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, আল্লামা শাহ আহমদ শফী  গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানী ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন,ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০বছর।

সভায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহ এর মাগফিরাত কামনা করে দুআ পরিচালনা করেন শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুর রহীম।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এএল

লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল: আরো ১ জনের মৃত্যু, বাড়ি বিধ্বস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অঞ্চলের দাবানল পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে যেয়ে মারা গেছেন এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী। তাছাড়া লস এঞ্জেলেসের জুনিপার হিলসের ববক্যাট ফায়ারে ঝড়ো বাতাসে আগুন ছড়িয়ে এক বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। 

এলএ ফায়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে জেন্ডার রিভিল পার্টি থেকে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। 

এ নিয়ে রাজ্যটিতে দাবানলের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬ জনে। স্যান বার্নারডিনোর এল দরেদো দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার কর্মীটি বনভূমির ৭৫ মাইল গভীরে কাজ করছিলো। এখন পর্যন্ত এল দরেদোর ফায়ারে ছয়টি কাঠামো সম্পূর্ন ভস্মীভূত হয়েছে।

এল ফায়ার সূত্র আরো জানায়, নরদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল ববক্যাট হঠাৎ করে ঝড়ো ও শুষ্ক বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে আগুন একটি বাড়িতে যেয়ে লাগলে সেটি মুহুর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। 

দাবানলটির কারণে এখন পর্যন্ত বিশ হাজার একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাবানলের কারণে স্থায়ী উচ্ছেদ হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি কমিউনিটির বাসিন্দা।


এলএবাংলাটাইমস/ওএম 

বিনোদন


বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের চলে যাওয়ার ১১ বছর

নিউজ ডেস্ক : ‘সখি কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে`, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, কিংবা ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


ঘরে বসে আপনিও বানাতে পারেন এনার্জি ড্রিংকস

নিউজ ডেস্ক : অনেকেই এনার্জি ড্রিংকস খেতে পছন্দ করেন। বাজারে যেসব এনার্জি ড্রিংক পাওয়া যায় তা সুগার এবং ক্যাফেইনে পরিপূর্ণ। কিন্তু প্রাকৃতিক সব উপাদান দিয়ে ঘরে

বিস্তারিত


লন্ডন

যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের গণকবরে সমাহিত করা হতে পারে!

নিউজ ডেস্ক :

ইউনিভার্সিটি অফ হডার্সফিল্ড এর গবেষকদের একটি দলের অভিমত, প্রাণহানীর ঘটনা বৃদ্ধি পেলে তা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের পরিষেবাগুলি ভালোভাবে প্রস্তুত নয়। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের মহামারীতে (পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মৃতদেরকে গণকবরে কবর দিতে বাধ্য হতে পারে।

তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে কোভিড-১৯-এ সংক্রামিতদের মধ্যে মৃত্যুর হার যদি এমনকি ১ শতাংশ পর্যন্তও পৌঁছে যায় তবে দাফন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলি ব্যাহত হতে পারে। মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া, জানাজার পরিষেবা প্রদান এবং এমনকি কবরের স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের অভিমত,সীমিত কবরস্থানও একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। যার ফলে গণকবরের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছ।

গবেষক ড. জুলিয়া মেটন, ড. আন্না উইলিয়ামস এবং  হেলেন-মেরি ক্রুগার স্বীকার করেছেন যে, এটি 'অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। এটা অনেক সম্প্রদায়ের মন খারাপ ও ক্রুদ্ধতার বিষয় হবে'। তারা বলছেন,  গণকবরের বিষয়টা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির বিষয় হয়ে দাড়াবে।

সম্প্রতি বার্মিংহাম বিমানবন্দরের একটি অংশকে কমপক্ষে ১,৫০০ মৃতদেহের জন্য অস্থায়ী কবরস্থানে পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর এ ধরনের বিবৃতি আসলো।

এদিকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, মহামারীর বিস্তার যেহেতু বাড়ছে তাই কবর দেয়ার 'সক্ষমতা সম্প্রসারণের সুযোগ' বাড়াতে হবে।


এম/এইচ/টি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি সই করল আরব আমিরাত-বাহরাইন

নিউজ ডেস্ক : মুসলিম বিশ্বের সমালোচনা উপেক্ষা করে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে চুক্তি সই করলো সংযুক্ত আরব আমিরত ও বাহরাইন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আমিরাতের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আলে নাহিয়ান এবং বাহরাইনের পক্ষে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যিয়ানি। আর ইসরায়েল পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ফিলিস্তিনের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে সই করল দুই মুসলিম দেশ। এ নিয়ে মোট চারটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করল।

আরব আমিরাত ও বাহরাইন হচ্ছে সৌদি আরবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দু’টি দেশ। অবশ্য এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বলে জানিয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের স্বাভাবিক সম্পর্কে ঐক্যমতের বিষয়ে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ফিলিস্তিন আমিরাতকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে। কয়েকটি মুসলিম দেশ এর প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনার একমাসের মধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা আসে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত বাহরাইন। এত অল্প সময়ের মধ্যে দুই আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণায় বিস্মিত মুসলিম বিশ্ব।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এমই

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


দাঁড়িয়ে খাবার খেলে কী হয় জানেন?

নিউজ ডেস্ক : কাজের চাপ ও হাতে সময় কম থাকার কারণে অনেক সময় আমরা খাবার খেতে তাড়াহুড়ো করি। দাঁড়িয়ে খাবার খেলে মানসিক চাপ বাড়ে ও হজম ব্যাহত হয়, যা স্বাস্থ্যের

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

এখন হোয়াটসঅ্যাপেও করা যাবে কল রেকর্ডিং

নিউজ ডেস্ক : ফেসবুক মালিকানাধীন জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অনেকেই ফোনে কথা বলেন। ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত কাজে অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপে কল রেকর্ডের প্রয়োজন পড়ে কিন্তু প্রচলিত অ্যাপগুলো দিয়ে ইন্টারনেটের কল রেকর্ড করা যায় না!

অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপের কল কীভাবে রেকর্ড করা যায় তার বিস্তারিত থাকছে ইত্তেফাক পাঠকদের জন্য।

কাজটি করতে প্রথমে https://bit.ly/3ldZm0D থেকে কিউব কল রেকর্ডার অ্যাপটি ইন্সটল করে নিতে হবে।

যেভাবে রেকর্ড করবেন

কিউব রেকর্ডার অ্যাপটি চালু করে হোয়াটসঅ্যাপ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ চালু হবে।

এরপর প্রচলিত নিয়মে হোয়াটসঅ্যাপ কল করতে হবে। কিউব কল রেকর্ডারের পপ আপ উইন্ডো বা উইজেট মোবাইলের স্ক্রিনে দেখা গেলে কলটি সফলভাবে রেকর্ড হবে।

এই পদ্ধতিতে রেকর্ড না হলে কিউব কল রেকর্ডার অ্যাপের সেটিংস থেকে ‘Force VoIP call as voice call’ অপশনটি চালু করে আবার চেষ্টা করতে হবে।

রেকর্ডিং অ্যাপটি সব স্মার্টফোনে কাজ করবে না। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কোন মডেলগুলোতে অ্যাপটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করা যাবে তার তালিকা পাওয়া যাবে ।

এই অ্যাপ ব্যবহার করে একই পদ্ধতিতে ফেসবুক কিংবা স্কাইপের কলও রেকর্ড করা যাবে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইসিটি

সুস্থ থাকুন

করোনা সর্বত্র শান্তির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে : জাতিসংঘ মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের ৩৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘের পিস বেল অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘এটি সংঘাত-কবলিত মানুষের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ কারণেই আমি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির জন্য তাৎক্ষণিক আবেদন জানিয়েছি।’

প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসটি পালন করা হয়। পিস বেল অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী লাইভ ফিডের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়। জাতিসংঘ প্রধান ও সংস্থার সাধারণ অধিবেশনের নতুন সভাপতি ভোলকান বোজকির, কোভিড -১৯ ব্যবস্থাপনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথ দূরত্ব রেখে অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়ান।

মহাসচিব বলেন,‘আমি পরের সপ্তাহে সাধারণ বিতর্কে পুনরায় এ আহ্বান জানাবো।’

কোভিড-১৯ মহামারীজনিত কারণে জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক বৈঠক ৭৫বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ বিতর্কের প্রথম দিনটি হবে ২২ সেপ্টেম্বর।

গুতেরেস বলেন, ‘শান্তি কখনোই প্রদত্ত হয় না’ উল্লেখ করে, জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘এটি একটি আকাঙ্ক্ষা যা কেবল আমাদের সংকল্পের মতো দৃঢ় এবং আমাদের প্রত্যাশার মতো টেকসই।’

‘শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল সমাজ গঠনে কয়েক দশক এমনকি শতাব্দী সময় লাগতে পারে। তবে বেপরোয়া, বিভাজনমূলক নীতি-পদ্ধতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে’ বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ প্রধান।

‘যেখানেই বিরোধ চলছে, সেখানেই শান্তির উদ্যোগ নেয়ার এবং যেখানেই বন্দুক ন্তব্ধ করার কূটনৈতিক সুযোগ রয়েছে, সেখানে তা কাজে লাগানোর চেষ্টার’ আহ্বান জানান তিনি।

বোজকির বলেন, চলমান মহামারী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সর্বত্র মানুষের জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

মহামারী হেলাফেলা আত্মঘাতী

মীর আব্দুল আলীম : বাংলাদেশে করোনা আছে; ভয় পালিয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কমলেও করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র এখনও ভয়াবহই বলতে হয়। শীত আসছে। ভয়াবহতা শীতে আরও বাড়বে। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমনটা বলেছেন। এখন আমরা যেভাবে চলছি, এমন ভয়হীণ চলাচল আমাদের যে মৃত্যুর মুখমোখি করছেতা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারী হেলাফেলা সত্যিই আত্নঘাতী। মানুষের স্বাভাবিক চলা ফেরা,সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে মাস্ক বিহীণ চলাফোরা ভাবনায় ফেলেছে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
ঢিলেঢালা জীবনযাত্রায় করোনা ভাইরাস দেশে যে কোন সময় তান্ডব চালাতে পারে। বিষয়টি ভাবনার বটে! ছয় মাসেও দেশে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র আমাদের কাছে নেই। দেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সঠিক চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে কম, মৃত্যুর হিসাবে উপসর্গ নিয়ে মৃতদের সংখ্যা নেই। সরকারি হিসেবে গত এক মাসে প্রায় সাড়ে ৯শ’ মানুষ করোনায় মারা গেছেন। আর এক মাসে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার। শনাক্তের হারে অন্য দেশের তুলনায় মৃত্যুর হার বাংলাদেশে বেশি। সেজন্য দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এটি বলতে নারাজ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষার অভাবে শনাক্ত ও মৃত্যুর হারের সঠিক সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যানে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের সবচেয়ে পুরোনো পত্রিকা দৈনিক সংবাদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সংবাদ হিসেবে ছেপেছে সংবাদটি।
বলতে হয় বর্তমানে দেশে করোনার অবস্থা সমান্তরাল। প্রতিদিন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, প্রতিদিন বেশকিছু মানুষ মারা যাচ্ছেন। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বেরিয়ে পড়েছেন, সতর্কতা নেই, ঢিলেঢালা ভাব সর্বত্র। সব মিলে বাংলাদেশে এখন আর করোনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নেই। করোনাভাইরাস নিজের মতো চলছে যেকোন সময় সংক্রমণ বেড়েও যেতে পারে। এখন করোনা হালছাড়া নৌকার মতো ভেসে চলছে। যখন করোনা পরীক্ষা করার জন্য মানুষ আগ্রহ ছিল তখন নমুনা পরীক্ষা ফি আরোপ করে নিরুৎসাহী করা হয়েছে। হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে মানুষ আর করোনা নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ভালো চিকিৎসা পায়নি বলে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন মানুষ আগের মতো হাসপাতালমুখেী হচ্ছে না। দেশে করোনার অবস্থা সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সারোয়ার আলী একটি বক্তব্য পত্রিকায় দেখলাম। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের তুলনায় মৃত্যুর হার কম বাংলাদেশে। কিন্তু করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করছেন তাদের সংখ্যা সরকারের তালিকার মধ্যে নেই। সুতরাং করোনা মৃত্যুর সংখ্যা একটু বেশি হবে বলে আমার ধারণা। এছাড়া দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এই কথা বলার সময় এখনও আসেনি। বিশ্বের কোন দেশই এ মুহূর্তে বলতে পারবে না, যে তাদের দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই।
আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এখন নতুন করে লকডাউনে যাচ্ছে। আমাদের সরকারকেও এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। দেশে করোনা সংক্রমণের ছয় মাসের বেশি সময় পেরোলেও এখনও সব জেলায় নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্র (ল্যাব) চালু করতে পারেনি সরকার। বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৬টি জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র চালু আছে। পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকা ৩৮ জেলায় রোগী শনাক্তের পরিমাণ কম। নমুনা পরীক্ষা এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। ফলে জনসংখ্যা অনুপাতে পরীক্ষার দিক থেকে বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সরকারের করোনাবিষয়ক পুরো কার্যক্রমেই একটা গাছাড়া, ঢিলেঢালাভাব দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করেনি। পরীক্ষা কম হওয়ায় সন্দেহভাজন অনেক রোগী শনাক্ত করা যাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি যে ভালো নয় এখানে এক দিনের একাটি চিত্র তুলে ধরলে নিশ্চয় বিষয়টিতে পরিস্কার ধারনা পাবেন পাঠক। ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার দেশে দেড় মাসে সর্বনিম্ন একদিনে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে আর ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার চব্বিশ ঘণ্টায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ১৫ জন মানুষের মৃত্যু বেশি হয়েছে। এ দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৫৯৩ জন। সব মিলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৮৫৯ জনের। আর মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ জন। আগের তুলনায় করোনার নমুনা পরীক্ষা কমানোর ফলে শনাক্তের হার কমছে কিন্তু মৃত্যুর হার বাড়ছে। এ থেকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়লে শনাক্ত বেশি হবে। সেই ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যাও বাড়তে পারে। সেখানে কোনভাবেই বলা যাবে না যে দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন শীতকালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে উল্লেখ করে এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শীতকাল আসন্ন। কোন কোন ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। আমাদের এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
আসলে আমারা সতর্ক নই বললেই চলে। জনসমাগম সবখানেই হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে। হাটবাজার পুরদমে জমছে। কখনো কখনো মনে হয় আগের চেয়ে বাজারে এখন যেন বেশি মানুষ। মানুষের হুশ নেই। মজুতদাররা এই সুযোগে পিঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল, ঝাল, মরিচের দাম বেড়েই চলেছে। হুজুগে বাঙ্গালতো বলেছিলো; নাকি দু:ভিক্ষ লেগে যাবে দেশে। সরকার বেশ কৈশলী ছিলো তাই যতটা অর্থনীতিতে আঘাত পরার কথা ততটা হয়নি। লকডাউন খুলে দেয়া নিয়ে আমরা সমালোচনা করলেও আমাদের মতো দরিদ্র দেশের প্রেক্ষাপটে সরকারের যে অনেক ভুল করেছে তা বলা যাবে না।
অন্য ধনী দেশের মতো করে লকডাউনে থাকলে দেশ অচল হয়ে যেত। তাতে দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়তো। তা ছাড়া মানুষতো লকডাউন মানছিলোই না। তাই অর্থনীতি অচল করতে সরকার কিছুটা সিথিল ছিলো। অনেকটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে দেশের মানুষ। তবে এতটা স্বাভাবি জীবনযাত্রা ভয়বহতাই ডেকে আনতে পারে। আমরা নিয়মনীতির কোনই তোয়াক্কা করছি না। যেযার মতো  কওে চলছি। সামাজিক  দুরত্ব একেবারেই মানছি না। মাস্ক পরছি না। এমন অসাবধানতা আমাদের ভাগ্যে যে দুর্গতী ডেকে আনতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সারা বিশ্ব যেখানে সতর্ক সেখানে আমাদের দেশে সবকিছু অনেকটা স্বাভাবিক। পরে হয়তো বুঝতে পারব কতটা ক্ষতি হলো আমাদের। আল্লাহ মাফ করুক। একটা কথা
মনে রাখতে হবে সার্স, ডেঙ্গু বা ইবোলার মতো নানা ধরণের প্রাণঘাতী ভাইরাসের খবর মাঝে মাঝেই সংবাদ মাধ্যমে আসে। এমন মহাবিপদ থেকে আল্লাহ আমাদের উদ্ধারও করেন। ইসলাম ধর্মে এসব রোগ-বালাইয়ের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আল-কোরআনে মহামারী হলে যেযার স্থানে থাকার কথা বলা আছে। অন্য ধর্মেও রোগের ক্ষেত্রে সতর্ক করা আছে। প্রয়োজন না হলে ক’দিন নিজের জন্য; পরিবারের জন্য; অন্যের জন্য ঘর থেকে বাহিরে না যাওয়াই ভালো। প্রয়োজন থাকলে কি আর করা। আল্লাহ ভরসা। মনে রাখবেন এ সমস্যা কিন্তু অনেক দিন ধরেই থাকবে না। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেনই। কিছুদিন যারা সতর্ক থাকতে পারবেন, সবকিছু ঠিকঠাক মেনে চলবেন তারা হয়তো এ বিপদ থেকে অনেকটা মুক্ত থাকতে পারবেন। তবে আমারা বেশিই অসাবধান মনে হয়। কোন কিছুকেই গুরুত্ব দিতে চাইনা কখনো। কোন কিছু মানতে চাইনা। হয়তো আল্লাহই আমাদের রক্ষা করবেন।
যে যাই বলিনা কেন, করোনা ভাইরাসের যুদ্ধ কিন্তু মেষ হয়নি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের যুদ্ধে নামতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। অহেতুক ঘুরতে না যাওয়ার, বেশি মানুষ এক জায়গায় না হওয়ার, আড্ডাবাজি বন্ধ করতে হবে। সবাই সতর্কতার যুদ্ধে ঝাপিয়ে না পরলে মরা হয়তো এ যুদ্ধে হেরে যাব। আসুন সবাই সতর্কতার যুদ্ধে নামি। যেহেতু করোনার ভেকসিন এখনো আবিস্কার হয়নি সেজন্য সতর্কতার যুদ্ধের বিকল্প নাই। এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে। যুদ্ধ জয়ের জন্য আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। দিশেহারা হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিকভাবে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্বদা বজায় রাখতে হবে। নিজে সতর্ক থাকতে হবে অপরকে সতর্ক করতে হবে। ভাইরাস থেকে রক্ষার একটাই পথ সতর্কতা।
এখনো বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। করোনায় আমাদের জীবনের ঝুকি কেবল তা নয় অর্থনৈতিকভাবেও আমরা পিছিয়ে যাব। দিকে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আংকটাড করোনাভাইরাস এর কারণে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এটা ভাববারই বিষয়। তবে আমরা শুরুতে যতটা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভাবছিলাম সে পর্যায়ে এখনও যায়নি বাংলাদেশ। আমরা যোদ্ধার দেশ। আমাদের যোদ্ধা করেই সব সময় বাঁচতে হয়। বন্য, ঝড়, অতি ক্ষড়াসহ নানা প্রতিকুলতার মধ্যেই আমাদেও বাঁচতে হয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হন সব সময়। সব যুদ্ধকে  জয় করতে হয় আমাদের। আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করে দেশ পেয়েছি। ডেঙ্গু, কলেরা-ডায়েরীয়ামহামারী সামনে ফেলে সফল হয়েছি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করে আমদের এ পরিস্থিতিও জয় করতেই হবে। সব ভয়কেই দুরে সরিয়ে নির্ভয়ের, নিরাপদের বাংলাদেশ গড়তেই হবে আমাদের। এ কথা সত্য যে, আমরা এক ভয়ঙ্কর সময় অতিক্রম করছি। আমরা বলতে গোটা বিশ্ববাসীই। এ সময় সাহস, সচেতনতা, সতর্কতাই সবচেয়ে আগে দরকার। রোগ প্রতিরোধে সর্বাত্মক আত্মনিয়োগ করা চাই। মানুষের মাঝে মনোবল বাড়ানোর কাজ এখন সবচেয়ে বেশি জরুরী। নিজে সচেতন হতে হবে, পরিবার, প্রতিবেশিদেও সচেতন করতে হবে। সাহস দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত জনগনকে সাহস যোগাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, প্যানিক (আতঙ্ক) করবেন না, শক্ত থাকেন, সচেতন হোন। প্রকৃতই সচেতন না হওয়ার বিকল্প নেই। ভুল করার কোন সুযোগ নেই।
সবাইকে মিলেমিশে সতর্কতার সাথে এ বিপদকালীন সময় পার করতে হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগ লুকিয়ে রাখার মতো বোকামি করা  চলবে না। পরিবার তথা সমাজের অন্যকে সুস্থ রখার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। এই সচেতনতাটুকু সবার মধ্যে থাকা চাই। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ানোর বিকল্প নাই। অন্যকে
সহযোগিতা করা ও সচেতন করে তোলার দ্বায়িত্ব আমাদের সকলের। এ ব্যাপারে প্রশাসন ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। এব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।


লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

টুকিটাকি খবর

মোটরসাইকেলে চেপে উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত ভ্রমণ

নজরুল ইসলাম তোফা : মেঘাচ্ছন্ন আকাশে খুব সকাল বেলা অর্থাৎ সাড়ে ৬টায় রাজশাহী শহর থেকে একত্রিত ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের বৃহৎ টিম। মোট ২২ জন ব্যক্তি ১৬ টি ইয়ামাহা মোটর চড়ে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই চাপাইনবাবগঞ্জের দিকে রওনা হন। শুধু রাজশাহীতে চা খেয়ে সবাই গোপালপুর পৌঁছে। সেখানে সকালের নাস্তা হয় বিখ্যাত একটি মিষ্টির দোকানে। সেখানকার মিষ্টি না কি খুব বিখ্যাত। বৃষ্টিতে ভেজা নাস্তানাবুদ অবস্থায় যেন নাস্তা হয় পরাটা ও ভাজিসহ সেই বিখ্যাত মিষ্টি। তারপর সেখান থেকে শুরু হয় বৃষ্টি ভেজা অবস্থাতেই বিরতিহীন মোটর চালানো। একটানেই গিয়ে দাঁড়ান মহানন্দা নদীর  সুন্দর একটি ব্রীজে। ২২জন ব্যক্তির ১৬টি মোটর প্রবল বৃষ্টিতে মহানন্দা ব্রীজের নান্দনিক দৃশ্য ফুটে উঠে। সারি করে মোটর দাঁড় করিয়ে উত্তাল নদীর মনোরম দৃশ্য সহ দু'ধারের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করে ছবি তোলা শুরু হয়। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে গোটা উত্তরবঙ্গের নানান এলাকাতেই পানি জমে। রাস্তার যেসব জায়গা গুলো অনেক নীচু সে জায়গায় কাদা পানি জমে মোটরের চাকা লেগে ছিটকে পড়ে তাদের অনেকের কাপুড়চুপুড় খুবই ময়লা হয়েছে। তবুও তারা ভ্রমণের মজা নিতে পিছপা হননি। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তিনজন ব্যক্তি পিছপা হয়েছে।

রানীহাটি কলেজের কাছেই রাস্তার বাঁকে এক দুর্ঘটনাও ঘটে। অটো রিকশা ও ইয়ামাহা মোটরের একটি সংঘর্ষ। এমন সংঘর্ষে কোনো মানুষের ক্ষতি হয় নি। অবশ্য বেশ ক্ষতি হয়েছে বহরের সর্বপ্রথম "ইয়ামাহা" মোটরটি তার। জানা যায় যে, অটো রিকশা চালক এক হাতে সিগারেট আর অন্য হাতে অটো চালাচ্ছিল। রাস্তার বাঁকে ও বৃষ্টির পানিতে অটো রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ভ্রমণের   সেই মোটর চালককে নাম রনি। দুর্ঘটনার সেই রনিসহ ৩ জন ব্যক্তি ভ্রমণ হতে বাড়ি ফিরে আসে। এখানে উল্লেখ করার করার মতো রানীহাটি কলেজের সামনের একটি চায়ের দোকানে দুর্ঘটনার কারণে সবাই বসেছিলেন। সে  দোকানের মালিক একজন 'বাউল', তিনি ভ্রমণের ব্যক্তি নজরুল ইসলাম তোফাকে ভালোবাসে বিনা পয়সায় চা খাওয়ায়েছিলেন। সেখানে বসে সিদ্ধান্ত হলো ভ্রমণ হবে,  সবাই বাংলাদেশের সোনা মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য রওনা দেন। এখানে বলে রাখি, ছোট সোনা মসজিদ আসার আগে বৃষ্টি একেবারেই থেমে যায় এবং আকাশ পরিষ্কার হয়।

বাংলাদেশের অন্যতম একটি খুব প্রাচীন সোনা মসজিদ আছে। তাকে "ছোট সোনা মসজিদ" বলে। এমন প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরী'র উপকণ্ঠেই পিরোজপুর গ্রামের পাকা রাস্তার ধারে এই স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে। ছোট সোনা মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত, উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার অধীনেই পড়ে। 'সুলতান আলা-উদ-দীন শাহ' এর শাসন আমলে (১৪৯৪-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে) ওয়ালি মোহাম্মদ নামের ব্যক্তিটি এ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেছিল। ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ এ মসজিদে 'বাংলাদেশের শেষ সীমানা'য়' যাওয়ার আগেই নামাজ পড়েছে। মসজিদের মাঝের দরজার উপর প্রাপ্ত এক শিলালিপি থেকেই অনেক তথ্য জানা যায়। সুতরাং কালের বিবর্তনে সেই লিপির তারিখের অংশটুকু ভেঙে যাওয়ায় নির্মাণ কাল জানা যায় নি। এটির কোতোয়ালী দরজা থেকে মাত্র ৩ কি.মি. দক্ষিণে। এ ছোট মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। মসজিদের পাশেই বিশাল দীঘি রয়েছে। মনোরঞ্জনের জন্যেই কেনাকাটার ছোটবড় মিলে ক'টি দোকান রয়েছে। নান্দনিক অবয়বে হোসেন-শাহ এ স্থাপত্য রীতিতে তৈরি হওয়া মসজিদ, যা অবশ্যই দেখার মতো।

ভ্রমণের এক পর্যায়ে খোঁজে খুব কষ্ট করেই পাওয়া যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাহখানা। 'তাহখানা' পারসিয়ান শব্দ যার আভিধানিক অর্থটা হচ্ছে- "ঠান্ডা ভবন বা প্রাসাদ"। এটি গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর এলাকাতে এক বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। পুরনো এমন ভবনটির উত্তর-পশ্চিমে আরো ২টি কাঠামো আছে, তার নিকটস্থ একটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। আর একটুখানি উত্তরে অবস্থিত ভল্টেড বারান্দা ঘেরা একটি গম্বুজ সমাধি। এ কমপ্লেক্সরটি কে নির্মাতা তা নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। তবে এমন ভবনগুলোর স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য, সুলতানি রীতির সৌধ সমূহের মাঝে বিষম বৈশিষ্ট্যের মুঘলরীতির প্রয়োগ বা সমসাময়িক ও পরবর্তী ঐতিহাসিক বিবরণই ইঙ্গিত বহন করে তাহখানাটির নির্মাতা- "মুগল সুবাহদার শাহ সুজা" (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিঃ) । তিনি সুফী সাধক "শাহ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালী'র" প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ মাঝে মাঝেই গৌড়-লখনৌতি যেতো। তিনি সেখানে অবস্থান করতো। রাজমহলেই ছিল শাহ সুজার রাজধানী, যা গৌড় থেকে খুব দূরে নয়। তবে প্রায় গৌড়ে তার ভ্রমণ হতো, সেখানে অবস্থিত এক "লুকোচুরি দরওয়াজা" নামক জাকজমক পূর্ণ 'মোঘল তোরণ' এই যুক্তিটিকে আরও বেশি অকাট্য করে তুলেছে।

সম্ভবত শাহ সুজা দরবেশের খানকাহ হিসেবে এই ছোট্ট প্রাসাদ এবং এর সংলগ্ন মসজিদ ও সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। সমাধিটি সম্ভবত দরবেশের (মৃত্যু ১৬৬৪ অথবা ১৬৬৯ খ্রিঃ) অন্তিম শয়নের জন্য পূর্বেই যেন নির্মিত হয়ে ছিল। আবার সেখানে দ্বিতল ভবনটি মূলত ইটের দ্বারাই নির্মিত। তবে তার দরজার চৌকাঠের জন্যই যেন কালো পাথর আছে। সমতল ছাদের জন্যে কাঠের বীম ব্যবহৃত হয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে ভবনটিকে দেখলে একতলা মনে হয়। পূর্ব দিক থেকে অবশ্য দ্বিতল অবয়বই প্রকাশ পায়। যার নিচতলার কক্ষ গুলি পূর্ব দিকে বর্ধিত কিংবা খিলানপথগুলি উত্থিত আছে সরাসরিই যেন জলাশয়টি থেকে। ভবনের দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে একটি গোসলখানা যেখানে পানি সরবরাহ হতো অষ্টভুজাকৃতির চৌবাচ্চার মাধ্যমে জলাশয় থেকে। আর উত্তর পার্শ্বেই একটি ছোট পারিবারিক মসজিদ অবস্থিত এর পেছনে আছে একটি উন্মুক্ত কক্ষ যেটি একটি অষ্টভুজাকার টাওয়ার কক্ষের সাথে সংযুক্ত ছিল। এই টাওয়ার কক্ষটি সম্ভবত ধ্যানের জন্য ব্যবহৃত হতো। প্রাসাদটি প্লাস্টার করা খোদাইকৃত। সেসব অলংকরণ রীতি মোঘল আমলের। এই তাহখানা কমপ্লেক্সটি সুলতানি যুগের নগরে- মুগল রীতির স্থাপত্য নিদর্শনের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের স্থাপত্য বাংলায় প্রথম, নান্দনিকতায় অপূর্ণ।

'বাংলাদেশের শেষ সীমানা' বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর শেষ সীমানায় ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের বিভিন্ন সদস্যবৃন্দসহ ইয়ামাহার ১৬ টি মোটর নিয়ে বৃষ্টি ভেজা ভ্রমণ ছিল খুব চমৎকার। রাজশাহী থেকেই বৃষ্টি শুরু, চাঁপাই নবাবগঞ্জ পর্যন্ত চলে। যদিও এ ভ্রমণে খুব ক্লান্ত হয়ে ছিলাম তবুও মজা নিতে একটুও ক্লান্তিবোধ হয়নি। দুপুরে ভাত, মাংস দিয়ে পেটপুরে খাবার খাওয়ার পরিবেশ ছিল নান্দনিক, আর সেটি ছিল একে বারে বাংলাদেশের শেষ সীমান্তের একমাত্র হোটেল যা ছিল টিনের চাল ও টিন দিয়ে ঘেরা। সেখানে কেউ গরুর মাংস, কেউ রাজহাঁসের মাংস দিয়ে খাবার খেয়েই শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য স্মৃতিময়  ছবি তোলার পালা। বাংলাদেশের শেষ সীমান্তের 'বর্ডার গার্ডরা' ভ্রমণের সবার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে, তারা ছবি তুলতেও অনেক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন তথ্য জানানোর চেষ্টা করেছে। ভ্রমণের এমন আগ্রহের জন্যই সেখানে অবস্থিত বর্ডার গার্ড সহ সাধারণ মানুষরা খুবই আনন্দিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সীমানায় গেলে ভারতীয় মানুষের দেখা ও ভারতীয়রা সীমানায় এলেই বাংলাদেশি মানুষদের দেখা পাবে। শুনা যায় যে, স্থানীয় চাষীরা এই সীমান্তে চাষের জমিতে কাজ করার জন্য প্রতিটি দিন সীমানা অতিক্রম করে। তবে তাদের জন্যই যেন 'সীমানা অতিক্রম' শব্দটি সম্ভবত ঠিক প্রযোজ্য নয়। কারণটা হলো, কৃষি কাজের জন্যে তারা শুধুমাত্র তাদের জমিতে যান। বাংলাদেশের শেষ সীমান্তের মানুষের জমি জমা এখনও নাকি ভারত সীমান্তের ওপারে আছে। তাদের জমি এখনও ভারতের মিলিক সুলতান পুর গ্রামে প্রাচীরের ওপরে। এখানকার সীমান্তটি বাংলাদেশ ও ভারতকে আলাদা করেছে- তাই জমির মাঝখান দিয়ে আড়াআড়ি ভাবেই প্রাচীর নির্মাণ হয়েছে। প্রত্যেক দিন সে জমি গুলোতে যাওয়ার আগেই যেন বিএসএফের নিকটে আধার কার্ড (জাতীয় পরিচয় পত্র) জমা দিয়েই তারা কাজ কর্ম যান। বিকেল চারটায় বিএসএফের ক্যাম্প বন্ধ হওয়ার আগেই নিজ দ্বায়িত্বেই কার্ড সংগ্রহ করে ঘরে ফিরেন। তারা সীমান্তের ওপারের জমিগুলোর যত্ন নেয়, চাষ করে, আবার রাতেও পাহারা দেন, যাতে ফসল চুরি না হয়। রাজশাহী বিভাগীয় শহরে না গিয়ে কেনাকাটার জন্যে বাংলাদেশের শেষ সীমানার মানুষগুলো ভারতের মালদাকেই বেছে নেন। চাঁপাইয়ের মানুষ মালদা থেকে নানান জিনিস পত্র কেনাকাটা করে দামেও খুব সস্তা পান। বাংলাদেশের শেষ সীমানা কিংবা ভারতীয়দের মিলনমেলার জিরো পয়েন্টে চোখে পড়বে পুরনো ইটের উঁচু প্রাচীর। সীমান্ত রক্ষীদের উপস্থিতিতে দুদেশের মানুষ একে অপরের সঙ্গে কথা বলা যায়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ-ভারত এই সীমান্তের ‘সীমান্ত পিলার’ থেকে পাকিস্তান/পাক লেখা মুছে বাংলাদেশ বা বিডি লেখা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা সীমান্ত পিলার হতে 'পাকিস্তান বা পাক' লেখার বদলে 'বাংলাদেশ/বিডি' লেখা করেছে। জানা প্রয়োজন   যে, 'বাংলাদেশ-ভারত' সীমান্তের কোনো পিলারে কিংবা খুঁটিতে ''পাকিস্তান/পাক'' লেখা নেই। সীমানা পিলারে বা খুঁটিতে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম'। জানা যায় যে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ থেকেই স্বাধীন হয় ভারত কিংবা পাকিস্তান। এরপরই যেন 'আট হাজারের বেশি' পিলারে ইংরেজিতে খোদাই করে 'ইন্দো-পাক/ইন্ডিয়া-পাকিস্তান' লেখা ছিল। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের সীমান্তের অনেক সীমানা পিলার বা খুঁটিতে পাকিস্তান/পাক লেখা ছিল। বহু পরে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো প্রাণের বিনিময়েই পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এ বাংলাদেশ। বিজয়ের এত বছর পরও সীমান্ত পিলার গুলোয় পাকিস্তান/পাক শব্দ ছিল। সে গুলো মুছে দিয়ে 'স্বাধীন বাংলাদেশের নাম' না লেখার বিষয়টি যেন সীমান্তের মানুষের কাছে ছিল খুব বিড়ম্বনার। জানা দরকার, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই যেন- "বিজিবি সু-দক্ষ মহাপরিচালক, মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম" এর - অধীনস্থ রিজিয়ন গুলোতেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এরপরই বিজিবির সদস্যরা সীমান্ত পিলারের পাকিস্তান কিংবা পাক লেখা পরিবর্তন করেই বাংলাদেশ/বিডি লেখা হয়েছে। ফলে, সীমান্তবর্তী মানুষ বা বিজিবিদের মনোবল আরো অনেকাংশেই যেন বেড়ে গেছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে সীমান্ত পিলারের নাম পরিবর্তন করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যাক, এই ভ্রমণে সন্তষ্টি প্রকাশ করেছে সবাই। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। বিনোদন সহ বিভিন্ন তথ্যও পেয়েছে।  


লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

তারুণ্য

করোনায় এক মানবিক তরুণের গল্প

শরীয়তপুর (বাংলাদেশ) প্রতিনিধি : করোনার থাবায় থমকে আছে পৃথিবী। পাল্টে গেছে চিরচেনা পরিবেশ। মৃত্যু ভয়ে আপন মানুষগুলোও যেন পর হয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম মানবিক কিছু মানুষও রয়েছেন।

করোনার প্রকোপে যখন গোসাইরহাট উপজেলা এলাকার মানুষ বিপর্যস্ত। ঠিক সেই সময় মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে ইতিমধ্যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন এনায়েত হোসেন । করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মার্চ থেকে অদ্যাবধি তিনি তার পরিবারের সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে বার বার মানুষের কল্যানে ছুটে গেছেন গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায়।

শুধু তাই না ঘনবসতিপূর্ণ গোসাইরহাট উপজেলার মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত,করোনার সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারনায়, বাজার মনিটরিং সহ নানান কাজে কাজ করেছেন তিনি।

এছাড়া গোসাইরহাট বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের মাঝে একাধিকবার সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, গ্লাবস ও পিপিই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারের বিতরনের কাজে অংশ গ্রহন করেছেন।

সরকারের তরফ থেকে যেসব খাদ্য সামগ্রী এসেছে তার সঠিক বণ্টনের কাজে ও অংশ গ্রহন করেছেন। বিতরণ করেছেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে।

যারা চক্ষুলজ্জার ভয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানে ত্রাণ নিতে আসতে পারেন না, তাদেরকে গোপনে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।

সত্যিকারের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খাবার সামগ্রী দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করে রাতের আঁধারেও এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের বাড়িতে নিজে খাবারের বোঝা মাথায় বহন করে নিজ হাতে খাবার পৌছে দিয়েছেন।

লকডাউনের কারণে খাদ্য সংকটে ভুগে নিম্ন আয়ের মানুষ। সংকটাপন্ন এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। এপ্রিল মাসে ৫০ জন দরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে শুরু করেন তার ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম। তার নিজ এলাকার নারী ও পুরুষ মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে মন জয় করেন তাদের।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে তিনি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন। মোবাইলের ম্যাসেজ ও ফোন পেয়ে অনেক অসহায় ব্যক্তির কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।

গোসাইরহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বাসিন্দা একজন মসজিদের ইমাম জানান, লকডাউন চলাকালে রমযান মাসে একদিন বাসায় কোনো খাবার ছিল না। পরিবারের আমার ছোট সত্নানেরা সারাদিনই অনাহারে ছিলো, একজনের মাধ্যমে জানতে পারলাম এনায়েত হোসেন ভাইকে ফোন করলেই সঙ্গে সঙ্গেই জুটবে খাবার। ফোন নাম্বার নিয়ে তাকে ফোন করলাম ফোন করে তাকে বলার পর তিনি নিজের হাতে চাউল, ডাল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ভর্তি দুটো কার্টুন বক্স নিয়ে আমার বাসায় হাজির হলেন । এভাবে অসংখ্য অসহায় পরিবারের পাশে এ ক্রান্তিকালে আছেন মানবিক এ ছাত্রনেতা।
গোসাইরহাট পৌরসভার ২নং ওয়াডের বাসিন্দা এক মহিলা বলেন, এর বয়সের ছেলে পুলেরা করোনা কালে বাসায় থাকলে ও এ ছিলো ব্যতিক্রম কখনো জীবানুনাষক নিয়ে, কখনো খাবার সামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে।

এলএ বাংলটাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে এনায়েত বলেন, পুরো বিশ্বে করোনা একটি মহামারী অসুখ। ছোঁয়াচে এ অসুখে আমাদের দেশের জনগণও আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন। সেই মহামারী থেকে গোসাইরহাটবাসীকে দুরে রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সাধ্যানুযায়ী গোসাইরহাট বাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/ওয়াই

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক