যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 06:35pm

|   লন্ডন - 12:35pm

|   নিউইয়র্ক - 08:35am

  সর্বশেষ :

  মালিতে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৩৪ জন নিহত   ফ্লোরিডায় গাঁজা বৈধ   ইসলাম গ্রহণের আহ্বানে যা বললেন জাসিন্ডা অরডার্ন   জয় বাংলাকে মেনে নিয়েই বিএনপিকে রাজনীতি করতে হবে: সুলতান মনসুর   বাসচালক ও হেলপারের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ওয়াসিম হত্যার বর্ণনা   ইসরায়েল ডাকাতদের রাষ্ট্র : মাহাথির   এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা হবে না : সচিব   গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ব্যাপারে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : শেখ হাসিনা   ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বে প্রভাব হারাবে যুক্তরাষ্ট্র : জরিপ   বাস থেকে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যা!   শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্যের প্রস্তাব,নুরুর আপত্তি   জিএম কাদেরকে সরিয়ে রওশন দায়িত্ব দিলেন এরশাদ   সোমালিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ে হামলা, উপ-শ্রমমন্ত্রীসহ নিহত ১৫   ইসরাাইলকে রক্ষার জন্য ঈশ্বর ট্রাম্পকে পাঠিয়েছেন: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী   চীনে কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৬৪

স্বদেশ


এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা হবে না : সচিব

এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে না। জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন।

২০১৯-০৩-২৪ ১৪:২৫:১৬

বহিঃ বিশ্ব


ফ্লোরিডায় গাঁজা বৈধ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাঁজা বৈধের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দুই বছর ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলো। এই অনুমোদনের

২০১৯-০৩-২৪ ১৪:৪১:৩২

লস এঞ্জেলেস


হলিউডে যুবলীগের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন পালন

সুবর্ন নন্দী তাপস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যুবলীগ এর উদ্দ্যোগে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে

২০১৯-০৩-২২ ১৬:১৫:৩৩


নিউইয়র্ক


কবি আল মাহমুদ কর্মগুণে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন: স্মরণ সভায় অধ্যাপক মতিউর রহমান

ইউএনএ : বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ, গবেষক ও লেখক এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান বলেছেন, বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ আর দেশের মা-মাটির সাথে

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থী, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘরের খেতাব পেল লুভর মিউজিয়াম

তোফায়েল আহমদ, প্যারিস থেকে : বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পকলা জাদুঘর লুভর মিউজিয়াম ২০১৮ সালে রেকর্ডসংখ্যক ১ কোটি ২ লাখ দর্শনার্থী ঘুরে দেখেছে।ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সেন

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

বিয়ে করছেন তিন টাইগার ক্রিকেটার

নিউজ ডেস্ক : ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশে ফিরে মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবসরের ফাঁকে এবার পারিবারিকভাবে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের তিন ক্রিকেটার।

কিছুদিন আগে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছেন সাব্বির রহমান। এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের তিন ‘ম’। তারা হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও মুমিনুল হক। তিন তারকার বিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট পাড়ায় চলছে নানা আলোচনা।

সবার আগে মিরাজ:
বয়সে বাকি দুইজনের চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও আগে বিয়ে করছেন মিরাজ। আজই বিয়ে করছেন টাইগার এ অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ডে থাকতেই মেহেদী হাসান মিরাজ দেশে ফিরে আক্দটা সেরে ফেলার কথা জানিয়েছিলেন। কনে রাবেয়া আখতার প্রীতি। দুজনের বাড়ি একই শহর খুলনায়। মিরাজ-প্রীতির প্রেমের সম্পর্ক প্রায় অর্ধযুগ ধরে। অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় থাকলেও বিশ্বকাপের আগে পাওয়া লম্বা বিরতির সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘরোয়া পরিবেশে আক্দ হয়তো আজই সেরে রাখবেন। তবে মিরাজ এড়িয়ে যেতে চাইলেন বিষয়টা। নিউজিল্যান্ড সফরে থাকতে মিরাজ বলেছিলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান করব বিশ্বকাপের পর। তখন জানানো হবে সবাইকে।’


কালকে বিয়ে মুস্তাফিজের :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিউজিল্যান্ড থেকে ঢাকা ফিরে বিয়ের জন্য কেনাকাটা করে গ্রামে গেছেন এ কাটারমাস্টার। কনে শিমু মুস্তাফিজের মামাতো বোন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মুস্তাফিজের বিয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তার বড় ভাই মোখলেসুর রহমান পল্টু বলেন, ‘শুক্রবার আকদ হবে। কেবলমাত্র খুব কাছের কিছু মানুষকে নিয়ে এ ঘরোয়া পরিবেশে আকদ আয়োজন করবো। পরে বড় করে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা আছে।'


মুমিনুলের বিয়ে ১৯ এপ্রিল:
বিয়ের কথা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। তবে আনুষ্ঠানিক তারিখটা গতকাল জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১৯ এপ্রিল ধুমধাম করেই বিয়ে করবেন মুমিনুল। কনে ফারিহা বাশার, বাসা মিরপুর ডিওএইচএসে। ফারিহা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। মুমিনুল বললেন, বিয়ের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন, ‘আমার বিয়ের খবর তো আপনারা জানেনই। আমন্ত্রণপত্র বানাতে দিয়েছি। ইনশা আল্লাহ ১৯ তারিখে সব আনুষ্ঠানিকতা আমরা সেরে ফেলব।’

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

ইসলামী জীবন

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয়

নিউজ ডেস্ক : অর্থিক সংকট বা দুরবস্থায় পড়লেই মানুষ অন্য থেকে ঋণ নেয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ঋণ কখনও কখনও কারো জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে। ঋণদাতাকে যেমন ঋণ আদায় করতে না পারার হাতাশায় ভুগতে হয় তেমনি ঋণগ্রহীতাকেও ঋণদাতার বাক্যবাণে নাজেহাল হতে হয়।

কখনো কখনো ঋণগ্রহীতাকে অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। তাই ঋণগ্রহীতা সবসময় চান দ্রুত ঋণ পরিশোধ করে অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে।

দ্রুত ঋণমুক্ত হতে সক্ষম হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি ঋণ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

একবার ঋণ থেকে রক্ষা পেতে প্রার্থনারত অবস্থায় এক ব্যক্তি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ঋণ থেকে খুব বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন!’ নবী কারিম (সা.) বলেন- ‘মানুষ ঋণী হলে, কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে, রক্ষা করে না।’ (বোখারি, হাদিস নং : ২৩৯৭)

ঋণগ্রস্ত থাকার সময় রাসুল (সা.) সব সময় বেশি বেশি এই দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা! ইন্নি আউযুবিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল মা’ছামি, ওয়াল মাদরামি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (বোখারি, হাদিস নং ৬০০৭)

রাসুল (সা.) এই দোয়াটিও পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসলি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া কাহরির রিজাল।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা, অপারগতা-অলসতা, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অধিক ঋণ থেকে ও খারাপ লোকের জবরদস্তি থেকেও আশ্রয় চাচ্ছি।’ (নাসাঈ, হাদিস নং : ৫৪৭৮)

এ দোয়াগুলো নিয়মিত পড়লে আল্লাহ তাআলা শিগগির ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন।

এলএবাংলাটাইমস/ইএল/এলআরটি

প্রবাসী কমিউনিটি

সিআরপি-বাংলাদেশের সাহায্যার্থে বাগডিসি’র ফান্ড রেইজিং ডিনার অনুষ্ঠিত

রফিকুল ইসলাম আকাশ : গত ১৭ই মার্চ, ২০১৯ রোজ রবিবার বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি (বাগডিসি)-এর আয়োজনে সিআরপি-বাংলাদেশের সাহায্যার্থে তহবিল সংগ্রহের জন্য “সিআরপি ফান্ড রেইজিং ডিনার” অনুষ্ঠিত হয়েছে । স্প্রীংফিল্ড, ভার্জিনিয়ার কমফোর্ট ইন হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের দুঃস্থ ও পঙ্গুদের জন্য সেবাদানকারী  সেচ্ছাসেবী সংগঠন "সিআরপি" র পরিকল্পক ও প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের মাদার তেরেসা নামে  খ্যাত ডক্টর ভ্যালেরি আ্যন টেইলর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার ব্রডকাষ্টিং জার্নালিষ্ট, কবি আনিস আহমেদ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব  করেন বাগডিসি'র সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা জনাব মোহাম্মদ আলমগীর।

সেন্টার ফর দি রিহ্যাবিলিটশন অব দি প্যারালাইজড (সিআরপি) বাংলাদেশ, এটাই একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র যেখানে দুঃস্থ্য পঙ্গু লোকদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য সুদীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত তিনবার সিআরপি চিকিৎসা কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তিত হয়। পরে ঢাকা মহানগরীর অদূরে সাভারে একটি স্থায়ী পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।পরিণত হয় ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি দাতব্য ক্লিনিকে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাই-এর সাবেক সভাপতি জনাব শফি দেলোয়ার কাজল,  প্রিয়বাংলার কর্নধার প্রিয়লাল কর্মকার ও আবু সরকার , একাত্তর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পারভীন পাটোয়ারী, কবীর পাটোয়ারী,  আমরা বাঙালী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, আগামীর সাউথ ইস্ট চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট, ফারাজানা সুলতানা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক-সাংগঠনিক নেতৃবৃ্ন্দ, সমাজকর্মী, শিল্পী, সাংবাদিক, পেশাদারসহ আরও অনেকে।


এ্যন্থনী পিউস গোমেজের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাগডিসি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনাব এ্যন্থনী পিউস গোমেজ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই মহতী অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগতম জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিশেষ অতিথিগন তাদের স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন এবং বাংলাদেশের দুঃস্থ্য পঙ্গু মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করার জন্য মিস ভ্যালেরিকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান এবং তার এই মহতী ভূমিকার জন্য তাকে ভূয়সী প্রসংশা করেন। 
বক্তব্য রাখেন বাগডিসি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও উপদেষ্টা জনাব মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি সিআরপি ডিরেক্টর, ডক্টর ভ্যালেরি টেইলরের সেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার মহান ভূমিকা পালনের জন্য, নিজের জীবন উৎসর্গ করে বাংলাদেশের দুঃস্থ্য পঙ্গু লোকদের সেবা করার জন্য তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

প্রধান অতিথির মূল্যবান বক্তব্য পেশ করার পূর্বে ওয়াশিংটনের সবার পরিচিত শিল্পী দিনার মনি "আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রানে" গানটি পরিবেশন করে একটি বিশেষ আবহের সৃষ্টি করেন।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং সিআরপি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক ডক্টর  ভ্যালেরি আ্যান টেইলর তার বক্তব্য পেশ করে সবার সার্বিক সহযোগিতার জন্য সিআরপি'র পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, সবার আন্তরিক সহভাগিতার জন্যই তাদের এই সেবাদানের অভিযাত্রা সম্ভব হয়েছে। এরপর তিনি সবার অবগতির জন্য

সিআরপি'র বাংলাদেশের কার্যক্রমের উপর একটি স্লাইড শো প্রদর্শন করে তাদের কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে ধরেন।

এরপর শুরু হয় সিআরপি’র সাহায্যার্থে অর্থ তহবিল সংগ্রহ। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সিআরপি’র জন্য অনুদান প্রদান করে তাদের একাত্মতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং সিআরপি’র মহতী সেবামূলক কর্মপ্রয়াসের অংশীদার হবার আনন্দে তারা আপ্লুত বলে উল্লেখ করেন। বাগডিসির পক্ষ থেকে সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা  হয় এবং  এই মহতী কার্যক্রম হাতে নিতে পেরে অনেক আনন্দিত এবং গর্বিত বলে উল্লেখ করেছেন বাগডিসি’র কর্মকর্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার জন্য যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।অতঃপর নৈশভোজে আপ্যায়ন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

লস এঞ্জেলেস

হলিউডে যুবলীগের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন পালন

সুবর্ন নন্দী তাপস : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যুবলীগ এর উদ্দ্যোগে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ একাডেমীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে সমবেত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগ, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা লীগ ও লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগের নেত্রীবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ।

প্রথমেই ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আব্দুর রব বঙ্গবন্ধুর ৯৯ জন্মদিনে তার পরিবারসহ সকলের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট যুবলীগের সভাপতি সূবর্ণ নন্দী তাপসের সভাপতিত্বে ও ভাঃ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মজুমদারের পরিচালনায় এবং লস এন্জেলেস সিটি যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান ইমরান এর সার্বিক তত্তাবধানে যুবলীগ পরিবারের সকলে মিলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি সফল করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি তৌফিক ছোলেমান খান তুহিন, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির খান, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহ আলম খান চৌধুরীসহ সকল সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্মানিত মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করেন।
সবশেষে উপস্থিত সকলে মিলে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিনোদন


অস্কারের মঞ্চে কারা পেলেন শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা

নিউজ ডেস্ক : লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত হল ৯১তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস প্রদান পুরস্কার। এদিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় ক্যুইন অ্যান্ড অ্যাডাম ল্যামবার্টের

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


বাসায় তৈরি করুন বোরহানি

নিউজ ডেস্ক : অনেকে বোরহানি খেতে খুবই পছন্দ করেন। আবার কোনও কোনও সময় দেখা যায় পছন্দ না করলেও পরিবারের সদস্যদের জন্য বোরহানি আনতে হয় বাইরে থেকে। তবে নিজে এটা

বিস্তারিত


লন্ডন

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের মতো ‘মুজিবনগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে মেহেরপুরের আ¤্রকাননে জাতীয় নেতা নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই দিনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে তড়ান্বিত করে। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের রাজধানী মুজিবনগর করার দাবী এবং আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পু:ননির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নের ধারা আব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবীবে মিল্লাত মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর এজন্য শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেলেই চলবে না, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট লোকের ভোট দরকার। কেননা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ)-এর সদস্য প্রফেসর ডা. হাবীবে মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শরাফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন (হিরু ভূইয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালী হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেডএ জয়,  সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ইউএস’র সভাপতি লিপটন এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ও সিরাজগঞ্জের কামারকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল মজিদ মন্ডল ।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিনাত বেগম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন গনেশ কির্ত্তনীয়া। এরপর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সঙ্গীত শিল্পী রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জিনাত বেগম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়া সমিতি ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে ডা. হাবীবে ডা. মিল্লাত এমপি-কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ডা. হাবীবে মিল্লাত বলেন, মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ডা. হাবীবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র  মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

গৃহশিক্ষকের চোখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের শৈশব

নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবের বিতর্কিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কিছুদিন আগে পর্যন্তও খুব কম লোকই চিনতেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ সৌদি রাজা হিসেবে তার অভিষেক - রক্ষণশীল সৌদি সমাজ সংস্কারের নানা উদ্যোগ, ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ এবং সবশেষ জামাল খাসোগজি হত্যাকান্ড - এগুলোর সাথে তার নাম জড়িয়ে যাওয়ার কারণে সারা বিশ্বের নজর এখন তার দিকে।

কিন্তু কীভাবে বেড়ে উঠেছিলেন এই প্রিন্স সালমান? তার শৈশব সম্পর্কে লোকে কতটুকু জানে?

এর ওপরই খানিকটা আলোকপাত করেছেন বিবিসি আরবি বিভাগের রাশিদ সেক্কাই - যিনি শিশু প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের গৃহশিক্ষক ছিলেন, তাকে ইংরেজি শেখাতেন। সম্প্রতি তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেই সময়কার স্মৃতি।

তিনি বলছেন, " সেটা ১৯৯৬ সাল। আমি তখন জেদ্দার নামকরা স্কুল আল-আনজালে পড়াই। তখন রিয়াদের গভর্নর ছিলেন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ - যিনি এখন সৌদি আরবের বাদশাহ, এবং যুবারাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পিতা।"

"প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ তখন সাময়িকভাবে তার পরিবার নিয়ে জেদ্দায় এসেছেন, এবং তার দরকার হয়েছিল তার সন্তানদের জন্য একজন ইংরেজির শিক্ষক।"

"তিনি যোগাযোগ করলেন আমি যে স্কুলে পড়াতাম সেই স্কুলের সাথে। তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো রাজকীয় প্রাসাদে। আমার ছাত্র হলেন তার প্রথম বিয়ে থেকে জন্মানো কয়েকজন রাজপুত্র। প্রিন্স তুরকি, প্রিন্স নায়েফ, প্রিন্স খালিদ, এবং প্রিন্স মোহাম্মদ।"

"আমি তখন জেদ্দার একটা উঠতি এলাকায় একটা ফ্ল্যাটে থাকি। প্রতিদিন সকাল বেলা সাতটার সময় একজন শোফার (ড্রাইভার) এসে আমাকে আল-আনজাল স্কুলে নিয়ে যেতো। বিকেলের দিকে স্কুল শেষ হলে এই ড্রাইভারই আমাকে নিয়ে যেতো রাজপ্রাসাদে।"

"প্রাসাদের গেটের কড়া পাহারা পার হয়ে যাবার পর গাড়িটি অনেকগুলো চোখ-ধাঁধানো বাগানওয়ালা ভিলা পার হয়ে রাজকীয় প্রাসাদের সামনে পৌঁছাতো। সামনের নিখুঁতভাবে সাজানো বাগানের পরিচর্যা করছে সাদা পোশাক পরা মালীরা।

"সেখানে একটি কার পার্ক দেখলাম - তাতে দাঁড়িয়ে আছে বহু বিলাসবহুল গাড়ি। একটা গাড়ি দেখলাম গোলাপি রঙের - মনে হলো ওটা একটা ক্যাডিলাক। এই প্রথম আমি নিজের চোখে ক্যাডিলাক দেখলাম।"

"রাজকীয় দুর্গে ঢোকার পর আমাকে স্বাগত জানালেন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি। মধ্যবয়স্ক এই ব্যক্তি প্রিন্স মোহাম্মদের খুবই প্রিয় ছিলেন।"

"প্রিন্স মোহাম্মদকে মনে হলো আমার কাছে পড়ার চাইতে প্রাসাদের রক্ষীদের সাথে সময় কাটানোর ব্যাপারেই তার বেশি আগ্রহ। ভাইদের মধ্যে সে-ই বয়েসে সবচেয়ে বড় হওয়ায় সে যা খুশি তাই করতে পারে - এমনই মনে হতো।"

"বয়েসে ছোট যে প্রিন্সরা, আমি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারতাম। কিন্তু মোহাম্মদ সেখানে হাজির হলেই পরিস্থিতি হয়ে যেতো অন্য রকম।"

"আমার মনে আছে, আমার পাঠদানের সময় মোহাম্মদ একটা ওয়াকি-টকি ব্যবহার করতো - যা সে রক্ষীদের কোন একজনের কাছ থেকে ধার করেছিল। সে এটাকে ব্যবহার করতো আমাকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করার জন্য, তার ভাই এবং প্রাসাদরক্ষীদেরকে জোক শোনানোর জন্য।"

"একদিন মোহাম্মদ বললো, তার মা তাকে বলেছেন যে আমাকে দেখে নাকি 'একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক' বলে মনে হয়। আমি এটা শুনে একটু থতমত খেয়ে গেলাম। কারণ আমার মনে পড়ে না যে কখনো আমি তাকে দেখেছি, যেহেতু সৌদি রাজপরিবারের মেয়েরা অপরিচিতদের সামনে আসে না। প্রাসাদে একমাত্র নারী যাকে আমি দেখেছিলাম, সে একজন ফিলিপিনো আয়া।"

"আমাকে যে কেউ দেখছে এ ব্যাপারটা আমি আগে বুঝতে পারি নি। কিন্তু সৌদি সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী তখন আমাকে দেয়ালে লাগানো কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা দেখালেন। তার পর থেকে পড়ানোর সময় আমি আত্মসচেতন হয়ে গিয়েছিলাম।"

"কিছুদিনের মধ্যেই মোহাম্মদ এবং তার ভাইদের আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেল। তারা ছিল রাজপুত্র, এবং তাদের জগত ছিল অর্থ-বিত্ত-বিলাসে ভরা। কিন্তু তাদের সাথে আমার স্কুলের ছাত্রদের বিশেষ কোন তফাৎ ছিল না। তাদের জানার আগ্রহ ছিল কিন্তু খেলাধূলা করতেই বেশি ভালোবাসতো।"

"একদিন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি আমাকে বললেন ভবিষ্যৎ রাজার সাথে দেখা করতে। কারণ তিনি তার সন্তানদের শিক্ষায় কতটা অগ্রগতি হলো তা জানতে চান।"

"আমি ভাবলাম, প্রিন্স মোহাম্মদের দুষ্টামির ব্যাপারে কিছু করার এটা একটা সুযোগ হলো।"

"আমি প্রিন্স সালমানের অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। আমার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন যুবরাজদের অন্যান্য শিক্ষকরা। মনে হলো, প্রাসাদের আদবকায়দা সম্পর্কে আমার চাইতে তারা বেশি ওয়াকিবহাল।"

"প্রিন্স সালমান আসার সাথে সাথে তারা উঠে দাঁড়ালেন, এবং আমি দেখতে লাগলাম কিভাবে তারা রিয়াদের গভর্নরের সামনে মাথা নত করলেন, তার হাতে চুমু খেলেন, দ্রুতগতিতে প্রিন্সদের নিয়ে কিছু কথা বললেন এবং সামনে এগিয়ে গেলেন।"

"যখন আমার পালা এলো - আমি তাদের মতো মাথা নত করতে পারলাম না। আমি কখনো এটা করি নি। আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং ভবিষ্যৎ রাজার সাথে করমর্দন করলাম।"

"আমার মনে আছে প্রিন্স সালমানের মুখে ফুটে ওঠা বিস্ময়সূচক মৃদু হাসির কথা। কিন্তু তিনি ব্যাপারটা উপেক্ষা করেছিলেন।"

"আমি তার সাথে কথা বলার সময় প্রিন্স মোহাম্মদের কথা তুলিনি। কারণ ততক্ষণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে আমি এ কাজ ছেড়ে দেবো এবং যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবো।"

"পরে মি. আল-শাহরি আমাকে রাজকীয় আদবকায়দা পালন করতে ব্যর্থ হবার জন্য আমাকে অনেক বকাঝকা করেছিলেন।"

"আমার ছাত্রদের মধ্যে প্রিন্স মোহাম্মদ ছাড়া প্রিন্স খালিদ - যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। তবে অন্য প্রিন্সরা জনসমক্ষে ততটা পরিচিত নন।"

"সৌদি রাজপুত্রদের শিক্ষাদানের এই সময়টা ছিল আমার জীবনের একটা অনন্য পর্ব।"

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


শিশুদের কার্টুনের আসক্তি দূর করতে যা করবেন

নিউজ ডেস্ক : এখনকার শিশুরা কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করে। তবে এটা আসক্তির পর্যায়ে গেলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো কার্টুন না চালালে তারা

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠানোর পরও ডিলিট করবেন যেভাবে

নিউজ ডেস্ক : কয়েক মাস পরীক্ষা চালানোর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আনসেন্ড বা রিকল ফিচার চালু করেছে ফেসবুক। এখন থেকে মেসেঞ্জারে এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। ফেসবুকের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে এই ফিচার চালু হয় গত বছর।

ধরুন, ভুল করে কাউকে কোনও মেসেজ পাঠিয়েছেন বা না পাঠাতে চাইলেও চাপ লেগে চলে গেছে যা আপনার জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এমনকি কোনও কোনও সময় ক্ষতির কারণও হয়ে উঠতে পারে এটি। তবে এখন আর ভয় নেই। কারণ, আনসেন্ড ফিচারের মাধ্যমে আপনি পাঠানোর পরও মেসেজ ডিলিট করতে পারবেন।

ভারতীয় প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম গেজেটস নাউ জানিয়েছে, পাঠানোর পরও মেসেজ ডিলিট করতে হলে আপনাকে সেটা ১০ মিনিটের মধ্যে করতে হবে। তা নাহলে আপনি আর ডিলিট করার সুযোগ পাবেন না।

পাঠানোর পরও যেভাবে মেসেজ ডিলিট করবেন-
০ যে মেসেজটি ডিলিট করতে চান সেটি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন
০ সিলেক্ট হওয়ার পর দুটি অপশন আসবে
০ প্রথমটি ‘রিমুভ ফর এভরিওয়ান’
০ দ্বিতীয়টি ‘রিমুভ ফর ইউ’
০ এখানে ‘রিমুভ ফর এভরিওয়ান’ অপশন চাপলেই মেসেজ ডিলিট হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরাই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন। এজন্য মেসেঞ্জারের সর্বশেষ ভার্সনটি ব্যবহার করতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইসিটি/এলআরটি

সুস্থ থাকুন

কিসমিসের উপকারিতা

নিউজ ডেস্ক : কিসমিস প্রায় সব বাসায়ই ব্যবহৃত হয়। মূলত মিষ্টি খাবার তৈরিতেই এর ব্যবহার বেশি। তবে এটা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর আছে অনেক পুষ্টিগুণ। দেখে নিন কিসমিস খেলে কি উপকার পাবেন-

১. কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। এগুলো অ্যাসিডিটি কমায়, কিডনির পাথর দূর করে ও হৃদরোগর ঝুঁকি কমায়।

২. জ্বর, ঠাণ্ডা ও অন্য সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

৩. চোখের জন্য আদর্শ খাবার। কিসমিস দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। কিসমিসে রয়েছে ভিটামিন-এ ও বিটা ক্যারোটিন।

৪. ফ্যাটবিহীন ফাইবারসমৃদ্ধ কিসমিস হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।

৫. ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিসমিস খাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

জ্ঞানহীন মানুষের হাতেই শুরু শিক্ষা ও সাক্ষরতা

নজরুল ইসলাম তোফা : প্রস্তর যুগের আদিম মানুষ তাদের ক্রিয়াকলাপ, দেবতাকুলের শক্তি এবং লীলা বৈশিষ্ট্যের উপরেই যেন অন্ধবিশ্বাস ছিল, তখন ছিল না মনের ভাব প্রকাশের কোনো "ভাষা"। ঋতু চক্রের পরিবর্তনে জীবনকর্মের প্রয়োজনের তাগিদেই ধীরে ধীরেই নিরক্ষর মানুষ জাতিরাই সৃষ্টি করা শিখ ছিল ''ভাষা''। দীর্ঘ পথের পরিক্রমায় এমন নিরক্ষর মানব জাতি ভাষার সহিত অক্ষর আবিষ্কার করতে শিখে।এই মানব সমাজের উন্নয়ন বা অগ্রগমনের ইতিহাস যেমন বহুধা বিচিত্র। আবার সে উন্নয়নের পশ্চাতেই ক্রিয়াশীল শিক্ষার ইতিহাসও তেমনি "বিচিত্র কিংবা গতিময়"। এক একটি 'দেশ এবং জাতি' নানা ভাবেই নানা উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে বা তাদের সু-শিক্ষা ভাষা গড়ে তোলে। তাদেরই ভৌগোলিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক সহ ইত্যাদি উপাদান বারবারই সে সকল ব্যবস্থার পরিবর্তন এনেই যেন 'নবীকরণ ও সংস্কার' চালিয়ে সুশিক্ষার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তাই, এমন এই বাংলাদেশে 'প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাস' শুরু হওয়ার এক বিশাল ইতিহাসও রয়েছে। আর সেই ইতিহাসটি 'নিরক্ষরতা' দূর করার জন্যেই বদ্ধপরিকর পরিবেশ সৃষ্টির এক ইতিহাস। এই পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই প্রায় ৪ শো বছরই বলা যায়, দীর্ঘদিনের একটি 'ইতিহাস'। আবারও বলি মানব সভ্যতার শুরু তো নিরক্ষরতার মাধ্যমেই, তাকে মোটা দাগের আলোকে অমর্ত্য সেন বলেছে, নিরক্ষর মানুষের হাতেই সমাজের সভ্যতার বড় বড় অনেক-"ভিত" গড়ে উঠেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে একটা সময় ছিল মানুষ তখন নিরক্ষর হয়েও শিক্ষা লাভ করে দেখিয়েছে। অনেক ধরনের 'ভাষা', কতো রকমের নানান 'অক্ষর' তাঁদের নিজস্ব হাত ও মুখ দ্বারাই যেন সৃষ্টি করেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলাই যায়, নিরক্ষর মানুষ যে "জ্ঞানী ব্যক্তি" হননি এমনও বলতে চাই না। 'লালন শাহ' নিরক্ষর মানুষ কিন্তু বহু সাক্ষর মানুষ তাঁর কাছে যুক্তি তর্কে কখনো দাঁড়াতে পারেনি। তবুও যেন এই দেশের মানুষের সাক্ষরতার প্রয়োজন রয়েছে। অক্ষর আছে বলেই তো লালনের দর্শন ও গানগুলো আজও সমাজে রয়েছে। আসলে বলতে চাই যে, 'নিরক্ষরতা' যদি নাও দূর হয় তাহলে সবাই লালন শাহের মতো হয়ে যাবে। বলতে চাই যে, লালনসহ অনেক গুনী জনদের চিন্তা ভাবনার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগটা বহুগুন বেড়ে যাবে।

সুতরাং, মানুষের কল্যাণেই যেন সাক্ষরতার দরকার আছে। সাক্ষরতা বিচরণের ক্ষেত্রটিকে বহুমুখী করে বাড়িয়ে তোলে অন্যের চিন্তা এবং অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। ১৯৭২ এ স্বাধীন বাংলাদেশে ১ম 'আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা' দিবসটিকে পালন করেছে। তাই প্রতি বছর এই দেশে সাক্ষরতা দিবসটি পালনের জন্য দেশের সরকার 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা' মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানেই ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ইউনেস্কোর ইংরেজি থিমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে, ‘'সাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ্ব গড়ি'’ এমনই স্লোগান সামনে রেখে, এ সরকার আগামীর ভবিষ্যৎ দেখছে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা কিংবা সাক্ষরতার বিকল্প নেই। সাক্ষরতা মানুষকে কর্মদক্ষ করে, মানবসম্পদে পরিণত করে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিরক্ষর জন-গোষ্ঠী একটি অন্তরায়। সুতরাং আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশা-পাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষারও গুরুত্ত্ব অপরিসীম। এ দেশের নিরক্ষর জন-গোষ্ঠী ও আষ্ঠানিক শিক্ষা হতে অনেক বঞ্চিত শিশু, কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে যুব ও বয়স্কদের 'সাক্ষরতা কিংবা মৌলিক শিক্ষা' প্রদানের পাশাপাশি যেন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা-প্রশিক্ষণ প্রদান হলে তারা উন্নত মানবসম্পদে পরিণত হয়েই দেশের 'অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা' রাখতে সক্ষম হবে। বর্তমান সরকার এইলক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নও করেছে। "সাক্ষরতার হার" বৃদ্ধির পেছনেই জাতির জনকের অবদান স্মরণে রাখা বাঞ্ছনীয়। এ অভিশাপ মোচনের লক্ষ্যেই যেন "বঙ্গবন্ধু"- গণমুখী শিক্ষা কর্মসূচি হাতে নিয়ে ছিল। ‘'ড. কুদরত-ই-খুদা'’ শিক্ষা কমিশন গঠনও করেছিল। তাই শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করতে তিনি চেয়ে ছিল। কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের সন্তানেরা যাতে নিরক্ষর না থাকে, সেই চিন্তা তিনিই করেছিল। শোষিতের ঘরে শিক্ষার আলো দান করতে চেয়েছিল। তাঁর প্রাণটিকে কেড়ে নেওয়ার কারণে সবকিছু ধূলায় লুণ্ঠিত হয়েছে। তাই সেই দিক থেকে- বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত গড়ে দিয়ে ছিল কৃষক সমাজের মাধ্যমেই, আজও তাঁরাই অর্থনীতিকে সচল রেখেছে শ্রম বা মেধা'র প্রচেষ্টায়।সেই "মজদুর" শ্রেণীরাই দেখা যাবে যে বেশির ভাগই তাঁরা "নিরক্ষর"। সাক্ষরতা সব সময় 'জ্ঞানের বাহন' নয়। তবুও 'নিরক্ষরতা থেকে মুক্তি' পাওয়ার জন্যেই সময়ের পরিক্রমায় সাক্ষরতার চাহিদাটাও বাড়ছে।নূন্যতম শিক্ষাযোগ্যতা অর্জন করা অবশ্যই দরকার রয়েছে। এ বাংলাদেশের অল্প শিক্ষিত ব্যক্তি আরজ আলী মাতব্বর শুধুমাত্র 'দ্বিতীয় শ্রেণী' পর্যন্ত পড়েও তিনি সুশিক্ষার আলো ছড়িয়েছে। বাংলা বই পড়েই যেন নানান প্রশ্ন মাথায় নিয়ে বহুকিছু রচনা করেছে, পাঠক সমাজে সমাদৃত হলেও এমন দুএকটি উদ্ধৃতি আঁকড়ে ধরে সামাজিক পরিমণ্ডলের দৃষ্টান্ত দেয়াটা অবশ্যই ব্যতিক্রম। সুতরাং নিরক্ষর থাকার সমস্যার দিক সত্যিই অনেক। আবার এ কথাও অবশ্যই সত্য মানুষ নিরক্ষর থাকলে তো আর না খেয়ে মারা যায় না। তবুও নিরক্ষরতা দূর করালে মানুষের বিচরণের সীমা বহু গুণ বেড়ে যায়। বাংলা সাহিত্যে'র একজন নন্দিত সু-লেখক "প্রমথ চৌধুরী" বলেছে, ‘'সুশিক্ষিত মানেই স্বশিক্ষিত।'’ স্বাক্ষর সম্পন্ন না হলে স্বশিক্ষিত হবেই বা কেমন করে। সুুতরাং কোন্ ব্যক্তি নিরক্ষর- সে ব্যক্তির স্বাক্ষর জ্ঞান নেই, তাঁর চেতনার মানটিও হবে অনেক নিম্ন মানের।

অজানাকে জানার মাধ্যম শুধু যে শিক্ষা বা সু-শিক্ষা তা কিন্তু নয়, ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তন সেই সাথে শিক্ষার মাধ্যমে বহু অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা বাস্তবতার সহিত খাপ খাওয়ায়েই সামনের দিকে চলার দক্ষতা অর্জন করাটাই 'শিক্ষা'। প্রতিটি বিশিষ্ট জাতি কিংবা সমাজে 'শিক্ষা' নামক বিষয়টির বোধ এবং তাৎপর্য ক্ষেত্রবিশেষে সমতাধর্মী কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে স্বতন্ত্র। একাধিক থেকেই দেখলে, ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ধর্ম এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রের মানুষ একত্রিত হয়েই যেন সর্ব- বৃহৎ মানবগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। আর সেটিকে প্রকৃত অর্থে "সু-শিক্ষা" বলা যায়। এই মানবগোষ্ঠীর প্রভাব সামগ্রিক ভাবেই শিক্ষা নামক বোধটিকেই প্রভাবিত করে নানা ক্ষেত্রে, আবার অপরদিকে সমাজ কিংবা জাতি বিশেষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং লক্ষণ'কে সেই সমাজ বা জাতির শিক্ষা প্রক্রিয়াকেই অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে। একটু অতীতের দিকে তাকিয়ে ধরা যাক আদিম গোষ্ঠীর কথা, তখন থেকে বয়স্করা যুগ যুগ ধরে ছোটদেরকেই আগুনের ব্যবহার, মাছ ধরা, শিকার করা, গাছে চড়া, ডিঙি বা নৌকা তৈরিসহ তা চালানো, সাঁতার কাটা, যে কোনো বস্তুর ওজন এবং বস্তু বা মানুষের ক্ষমতার বিচার, দূূূূরত্বের বোধ, বসত বাড়ি কিংবা আশ্রয় তৈরি মতো অনেক বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে থাকতো। এমন বেশ কিছু বিষয়ের পাশা পাশি ভাষা জ্ঞানের সহিত অক্ষর জ্ঞানেও দক্ষ হতে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সহায়তা করতো। বয়স্করাই যে পরিপূর্ণতা নিয়ে সেই প্রস্তরযুগের আদিম মানুষ যথাযথ নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করতে পারতো তা নয়। সাময়িকভাবে তারা সমস্যার সমাধান করার কথা ভেবেই সেই সব মানুষ নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্যেই 'ভাষা কিংবা অক্ষর' আবিষ্কারের কথা ভেবে ছিল বা শিখে ছিল। শুরুতে নিরক্ষর মানুষের হাত ধরেই যেন নিজ ভাষা আসতে শুরু করেছে। তার পরেই তো আসে- অক্ষর জ্ঞান।

বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা'র সাথে বাংলা লিপি কিংবা অক্ষরের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বাংলা লিপি কিংবা অক্ষর অথবা হরফের "উৎস ও উৎপত্তি" কী ভাবে হয়েছিল তা স্পষ্ট জানা না গেলেও গবেষণার মতে মনে করা হয়, বাংলা লিপি'র ব্যবহার খ্রিস্টাব্দ "একাদশ শতক" থেকেই প্রচলিত। ইংরেজ শাসনের বহু আগেই মুসলিম শাসনকালে তার শুরু। বাংলার সুলতানী শাসনে লিপির ব্যবহার এবং বাংলা ভাষার পুঁথি রচনা ব্যাপকতা পেতে থাকে। এমন এ "বাংলা" লিপির ব্যবহার প্রায়ই মধ্যযুগীয় ভারতের পূর্বাঞ্চলে যেন শুরু হয়েছিল। তারপরেই যেন পাল সাম্রাজ্যের মধ্যে ব্যবহার ছিল। আরো অনেক পরে বিশেষভাবে বাংলার অন্য অঞ্চলেও ব্যবহার অব্যাহত ছিল। এর পর 'বাংলা' লিপিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বের অধীনে 'ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর' এর দ্বারাই 'আধুনিক বাংলা' লিপিতে 'প্রমিত' করা হয়েছে। তাই বর্তমানে এই 'বাংলা লিপি কিংবা অক্ষর' বাংলাদেশ ভারতে সরকারী লিপিতেই পদমর্যাদা স্থান পেয়েছে।সুতরাং, বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে। তাই, অক্ষর দিয়েই তৈরি হয়েছে "পুঁথি বা গ্রন্থ", সে সকল গ্রন্থের মধ্যেই মানুষের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ হয়ে থাকে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং সব শ্রেণী পেশার মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণার কথাও ভাষার সাহায্যে বহু গ্রন্থের মধ্যেই লিপিবদ্ধ। বর্তমান কালেই তার বিশাল ব্যাপ্তি, বিচিত্র তার আকার। এই সম্পর্কে আরো পরিস্কার পরিসংখ্যানের আলোকেই বলতে চাই, গোপাল হালদার তাঁর "বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা" গ্রন্থে দেখিয়েছে যে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলেই যেন 'বাংলা সাহিত্যে'র' বহু উন্নতি হয়েছিল। পাশাপাশি সতেরো শতকের মধ্যেই "পাঠশালা" নামক প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষায় সাক্ষরতা লাভ বা অ আ ক খ ইত্যাদি অক্ষর পরিচয়েরও সন্ধান মেলে। "বাংলা পাঠশালা" নামক প্রাথমিক শিক্ষার এক 'প্রথাবদ্ধ ধারা' চালু হয়ে ছিল সতেরো শতকে ইংরেজরা এই দেশ দখলের অনেক পূর্বেই। বিভিন্ন বাংলা সাহিত্যে পাঠশালা সম্পর্কে যা জানা যায় তা থেকে ধারণার আলোকে বলা যায় যে সতেরো শতকের আগেই হয়তো "পাঠশালা" শিক্ষার শুরু। সে হিসেবে বাংলা প্রাথমিক শিক্ষার বয়স চার শো বছরের কম নয়। সুতরাং, 'বাংলা ভাষার অক্ষর' শিক্ষা কয়েক জন্মের মানুষরা তাকে পাঠ করে শেষ করতেও পারবে না। তাই তো,- ''মানুষের নিরক্ষরতা" দূর করতে এমন সব ''পুঁথি কিংবা বই'' পাঠ করবার সুযোগ দীর্ঘদিনের এক বৃহৎ ইতিহাস। আবার তাকে দিয়েইতো অন্যের বিচিত্র চিন্তার সাথে নিজের চিন্তা ভাবনার আদান-প্রদান করা যায়।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসরেই যেন 'সাক্ষরতা' শব্দের প্রথম উল্লেখ হয়েছে ১৯০১ সালে জণগন বা 'লোক গণনার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে'। সেই শুরুতে স্ব অক্ষরের সঙ্গে অর্থাৎ নিজের নামধাম লিখতে যে কয়টি বর্ণমালা প্রয়োজন তা জানলেই তাকে স্বাক্ষর বলা হতো। ১৯৪০-এর দিকে পড়া লেখার দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো। ষাটের দশকেই পড়া এবং লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব-নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষই যেন স্বাক্ষর মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো। আশির দশকে লেখা-পড়া এবং হিসাব-নিকাশের পাশা পাশি সচেতনতা কিংবা দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পড়ার ক্ষমতার সঙ্গেসঙ্গেই যেন তারা সাক্ষরতার দক্ষতাতেই স্বীকৃতি পায়। সুুতরাং-আধুনিক তথাকথিত সভ্য সমাজের শিক্ষার ধারাতে এমন ইতিহাসের কথাগুলো বাংলাদেশের বেশ কিছু দক্ষতা বা নৈপুণ্যের শিক্ষা অথবা বৃত্তিমূলক শিক্ষার শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করবার কথা ভাবায়। কারণ,- যত দিন যায় 'সভ্যতা ও অগ্রগতির বিকাশ' হতেই থাকে, ততই বাস্তব প্রয়োজনের নিরিখে দরকার হয় শিক্ষা।সুতরাং, বয়স্ক সমাজেরই পরম্পরাগত কিছু নির্দেশ-অভিমুখী শিক্ষা যার মধ্যেই যেন "জ্ঞান নৈপুণ্য আর মূল্যবোধের সম্ভার' ওতেপ্রাত হয়ে থাকে। এপৃথিবীর প্রতিটি উন্নত দেশের মানুষ ১ শো ভাগ উচ্চ শিক্ষিত না হলেও ১০০ ভাগ স্বাক্ষর সম্পন্ন তা জোর দিয়েই বলা যায়। জ্ঞানের আঁধার মানুষের সুখ এবং সুবিধা নিশ্চিত করে, স্বল্প সম্পদের বহু-বিধ ব্যবহার অথবা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে, সুদক্ষ ও যোগ্য জন-শক্তি গড়তে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন বর্তমান সময়ের চাহিদা। তত্ত্ব বা তথ্যে'র- প্রায়োগিক শিক্ষায় উৎপাদনমুখী সমাজে তার প্রয়োজন গভীর ভাবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এই সাক্ষরতার সহিত জীবন নির্বাহী দক্ষতা, যোগাযোগের জন্যেই দক্ষতা, ক্ষমতায়নের জন্য দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাতেও সংযোজিত হয়েছে। একটি
দেশের জন্যই 'সাক্ষরতা' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সঙ্গে 'সাক্ষরতা' আর সাক্ষরতার সঙ্গেই যেন দেশের উন্নয়নের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের সাক্ষরতার হার যত বেশি সেদেশ তত উন্নত। স্বাক্ষর জাতি সচেতন জাতি। শিক্ষা সাধারণত ৩ টি উপায়ে অর্জিত হয়। যা- 'আনুষ্ঠানিক', 'উপানুষ্ঠানিক' কিংবা 'অনানুষ্ঠানিক'। যারা "আনুষ্ঠানিক শিক্ষা" বঞ্চিত বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পায়নি তাদের স্বাক্ষরতার জন্যই 'উপানুষ্ঠানিকভাবেই শিক্ষা' দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সরকারি প্রচেষ্টার বাইরে বিভিন্ন এনজি সংস্থাগুলো 'সাক্ষরতা' বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক বাংলাদেশ গঠন করতে প্রত্যেকের অবস্থান থেকেই এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সাক্ষরতাই হচ্ছে শত ভাগ শিক্ষিত করার প্রাথমিক ধাপ। সেইজন্য নিরক্ষরতা, ক্ষুধা বা দারিদ্র্য হলো দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ। এ সকল সমস্যাকে মোকাবেলা করতে পারে কেবল মাত্র শিক্ষা। প্রতিটি নাগরিককে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতেই সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতার জরুরি।

লেখক: কলামিস্ট ও প্রভাষক।

টুকিটাকি খবর

হীরার তৈরি বিমান!

নিউজ ডেস্ক : হীরার তৈরি আস্ত একটি বিমান। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে করা একটি পোস্ট উসকে দিল সেই জল্পনা। হাজার হাজার হীরা খচিত বিমানের গায়ে। ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে হীরার তৈরি ওই বিমানের ছবি। সত্যিই এটি বিমান নাকি অন্য কিছু? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল মানুষের মনে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের রত্নখচিত বোয়িং ৭৭৭ বিমানটিকে ‘ব্লিং ৭৭৭’ বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণ মানুষ যারা প্রথমবার এই বিমানের ছবিটি দেখেছেন তারা সবাই কমেন্টে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল ছবিটির ক্যাপশন থেকেই। এমিরেটস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আসলে হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়নি বিমানটি। কিন্তু সেদিকে কারও চোখ যায়নি। কারণ কয়েক লক্ষাধিক হীরার ঝলকানিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের চোখ গেছে আটকে।

‘হীরার বিমানে’র ছবি শেয়ার করে এমিরেটস লিখেছে, ‘‘দি এমিরেটস ‘ব্লিং’ ৭৭৭, ছবিটি তৈরি করেছেন সারা শাকিল।’’ 

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা শাকিল হচ্ছেন একজন ক্রিস্টাল শিল্পী। ইনস্টাগ্রামে বিখ্যাত এই শিল্পীর প্রায় পাঁচ লাখ ফলোয়ার আছে। গত মঙ্গলবার সারা ইনস্টাগ্রামে তার এই আর্টওয়ার্কের ছবি শেয়ার করেছিলেন। ছবিটি দেখেই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের অনেক পছন্দ হয়ে যায়। শাকিলের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি নিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে এমিরেটস। এ ছাড়া ছবির পুরস্কার হিসেবে পাকিস্তান থেকে মিলান অবধি সারা শাকিলকে বিনামূল্যে বিমানযাত্রার ব্যবস্থা করে দেয় এমিরেটস।

সারা শাকিলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ লাইক করেছে এটি।

তারুণ্য

ইসলামের দিকে ঝুঁকলেন আরবের জনপ্রিয় পপ তারকা

নিউজ ডেস্ক : গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার থেকে অবসরে যাচ্ছেন, সেটা তাঁর ভক্তদের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। আমাল তখন বলেছিলেন, আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। তিনি ইসলামের মধ্যেই তার সুখ-শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। খবর- বিবিসির।

আমাল হিজাজী যখন তার গান-বাজনা ছেড়ে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবন-যাপন শুরু করলেন, তাঁর ভক্তরা অবাক হয়েছিলেন তখন।

কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি আবার ফিরে এসেছেন গানের জগতে। তবে একেবারে নতুন রূপে এবং ভিন্ন ধরণের গান নিয়ে। ইসলামের নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়েই একটি গান গেয়েছেন তিনি।

লেবাননের শিল্পী আমাল হিজাজী আরব দুনিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম পপ রেকর্ড বাজারে আসে। পরের বছর দ্বিতীয় অ্যালবামেই তিনি এক সফল সঙ্গীত তারকায় পরিণত হন। এক দশকের মধ্যেই আমাল হিজাজী হয়ে উঠেন আরব বিশ্বের জনপ্রিয়তম সঙ্গীত তারকা।

২০০২ সালে আমাল হিজাজীর অ্যালবাম 'জামান' বাজারে আসে। এটিকে বিবেচনা করা হয় আরবী পপ সঙ্গীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবাম।

গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী তার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন তিনি সঙ্গীতের জগত ছেড়ে যাচ্ছেন।
তখন তিনি তার হিজাব পরিহিত একটি ছবিও পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, "যে শিল্প আমি ভালোবাসি এবং যে ধর্মের নৈকট্যকে আমি লালন করি, এই দুটি নিয়ে আমাকে অনেক দিন ধরেই বোঝাপড়া করতে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন।"

নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে আমাল হিজাজী যে গানটি গেয়েছেন, সেটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

ইতোমধ্যে ৮০ লাখ ভক্ত তাঁর এই গানটি শুনেছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ এটি শেয়ার করেছেন। তবে আমাল হিজাজীর এই নতুন রূপ এবং নতুন গান নিয়ে তুমুল বিতর্কও চলছে।

যেভাবে তিনি হিজাব পরেছেন, তার যে সাজ-সজ্জা, সেটা কতটা ইসলাম সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইসলামে এভাবে মহিলাদের গান করার বিধান আছে কিনা সেটা জানতে চেয়েছেন অনেকে।

আবু মুহাম্মদ আল আসতাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "তিনি যা করছেন তা ইসলাম সম্মত নয়।"
জেইনাব মুসেলমানি লিখেছেন, "আল্লাহ যা হারাম বলেছেন, সেটা প্রশংসা দয়া করে বন্ধ করুন। তার প্রশংসা বন্ধ করুন, তাকে বরং পথ দেখান।। ধর্মটা কেন অনেকের কাছে রসিকতার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে?"

তবে অনেক ভক্ত আবার আমাল হিজাজীর প্রশংসা করেছেন। দিনা মিশিক নামে একজন লিখেছেন, "যে মহিলা কিনা ধর্মে যা নিষিদ্ধ তা করা বন্ধ করেছে, হিজাব পরা শুরু করেছে এবং নবীর জন্য গান করছে, তোমরা কিভাবে তার সমালোচনা করো।"
এলএবাংলাটাইমস/ওয়াই/এলআরটি

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক