যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 12:08pm

|   লন্ডন - 06:08am

|   নিউইয়র্ক - 01:08am

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্ক পুলিশের লেফটেন্যান্ট হলেন বাংলাদেশি সুমন   ভারত ছাড়ার নোটিশ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আইনি সহায়তার ঘোষণা   থমথমে দিল্লী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২   ১০ হাজার বাংলাদেশির ওমরাহ অনিশ্চিত, ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা   মোদিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা   বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করলে জনগণ রাজপথে নামবে: ফখরুল   যুদ্ধাপরাধী-সন্ত্রাসীদের সিটিজেনশিপ কেড়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রে নয়া অফিস   দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে ৫৭১ জন করোনায় আক্রান্ত   পাপিয়ার সহযোগীদেরও ধরা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের মুখে ভারতীয় নায়িকা   চোখে অশ্রু নিয়ে দিল্লি ছাড়ছে আতঙ্কিত মুসলিমরা   দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে বিদেশিকর্মী কমানোর দাবি ডাকসু ভিপির   পাপিয়া সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা   এবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত   খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

স্বদেশ


বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করলে জনগণ রাজপথে নামবে: ফখরুল


জনবিচ্ছিন্ন বর্তমান সরকার গণমানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা না করে আবারো বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং আগামী মার্চ থেকে তা কার্যকরের ঘটনায়

২০২০-০২-২৮ ১১:৩০:০৪

বহিঃ বিশ্ব


থমথমে দিল্লী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২


ভারতের দিল্লিতে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২-এ এবং আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০’র বেশি। এখনো

২০২০-০২-২৮ ১১:৪০:২৫

লস এঞ্জেলেস


লস এঞ্জেলেসে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র উদ্যোগে গত ৭ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার 'মহান বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

২০১৯-১১-১২ ০৯:৫২:৪১


নিউইয়র্ক


নিউইয়র্ক পুলিশের লেফটেন্যান্ট হলেন বাংলাদেশি সুমন

নিউজ ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম সেরা পুলিশ বাহিনী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশের বৃহত্তর

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


ফ্রান্সের স্কুলে এবার অভিভাবকের জন্যও হিজাব নিষিদ্ধ

নিউজ ডেস্ক : চলতি বছরের ১৬ মে পার্লামেন্ট অধিবেশনে স্কুল শিক্ষার্থীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফ্রান্স। এবার স্কুল শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

শচীন আমাকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলেছেন: ইনজামাম

নিউজ ডেস্ক :
একসময় দুই ক্রিকেট কিংবদন্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হতো। ২২ গজে তাদের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকত গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। তবে সেই যুদ্ধটা কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর বাইরে তারা ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনের মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্ব।

আদতে ভারতীয় মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের বড় ভক্ত ইনজামাম-উল হক। তা অকপটে স্বীকার করলেন পাকিস্তানের লিজেন্ড। তার কথায়– শচীনের প্রতি সমীহ ঝরে পড়েছে। তা ক্রিকেটীয় আন্তরিকতাকে আরও নিবিড় করেছে বলে দাবি ক্রিকেট বিশ্লেষকদের।

ইনজামামের ভাষ্যমতে, ক্রিকেটের জন্যই জন্ম হয়েছে টেন্ডুলকারের। ক্রিকেট ও সে একে অপরের পরিপূরক। বরাবর এ কথা বিশ্বাস করি আমি।

নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে ক্রিকেট ও শচীন নিয়ে বিস্তর কথা বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। তিনি এ ভেবে অবাক হন, মাত্র ১৬-১৭ বছরের বালক কীভাবে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসের মতো বিশ্ব ত্রাস বোলারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে ব্যাট করতে পারেন।

তা কেবল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রিকেটারের পক্ষে সম্ভব বলে মনে করেন ইনজি। সেই সক্ষমতা শচীনের মধ্যে ছিল বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

সাবেক পাক অধিনায়কের মতে, সীমাহীন চাপের মধ্যে নিজেকে ফোকাস রেখে কীভাবে সেরাটা বের করে আনতে হয়, তা শচীনের কাছ থেকে সবার শেখা উচিত।

ইনজামাম বলেন, শচীন যখন আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রবেশ করেন, তখন কিংবা তার আগে ব্যাটসম্যানরা এখনকার মতো ভূরি ভূরি রান তুলতে পারতেন না। ক্যারিয়ারে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার রানও কোনো ব্যাটসম্যানের কাছে অনেক ছিল। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম লিটল মাস্টার সুনীল গাভাস্কার টেস্টে ১০ হাজার রান করে সেই মিথ ভেঙে দেন।

পরে স্বদেশী ব্যাটিং মহারথীকে টপকে যান শচীন। তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছান, যা অতিক্রম কার্যত অসম্ভব বলে দাবি ইনজির। ব্যাটিং মায়েস্ত্রোর রেকর্ড কে ভাঙেন, তা দেখতে মরিয়া হয়ে রয়েছেন তিনি।

বোলারের বুক কাঁপানো ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি বোলার শচীনকে ফুল মার্কস দিয়েছেন ইনজামাম। তিনি বলেন, নিজের ক্যারিয়ারে বহু স্পিনারকে খেলেছি আমি। সবাইকে শক্ত হাতে সামলেছি। কিন্তু শচীনের মতো কেউ আমাকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। তার বলে বেশ কয়েকবার আউট হয়েছি আমি।

ইসলামী জীবন

১০ হাজার বাংলাদেশির ওমরাহ অনিশ্চিত, ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ওমরাহ যাত্রী ও দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। সৌদি সরকারের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী। এতে ভিসা ফি, হোটেল ও বিমান ভাড়া বাবদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে হুট করেই এই সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি সরকার। প্রতিবেশি অন্তত চারটি দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসের প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে বসবাসরত সৌদি নাগরিকরা এতদিন জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই নিজেদের দেশে যাওয়া-আসা করার সুযোগ পেতেন। তাদের সেই সুযোগও আপাতত স্থগিত থাকবে।’

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ওমরাহ যাত্রীদের


এদিকে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাংলাদেশের কোনো ওমরাহ যাত্রী সে দেশের উদ্দেশে যেতে পারেননি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় তাদের। এহরাম পরা অবস্থায় প্রায় এক হাজার ওমরাহ যাত্রী দিনভর ভোগান্তির পর বিমানবন্দর থেকে কান্না ভারাক্রান্ত হয়ে ভগ্ন মনে বাড়িতে ফেরেন। ঢাকার বিমানবন্দরে প্রায় ৫ শতাধিক ওমরাহ যাত্রী ছিলেন। যে উড়োজাহাজগুলো তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে এসেছিলো সেগুলোও প্রায় খালি অবস্থায় ফিরে যায় সৌদি আরব। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় ফ্লাইট থাকলেও সেই ফ্লাইটগুলোও ওমরাহ যাত্রীদের না নিয়েই চলে যায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ইমিগ্রেশন) বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে আমাদের ওমরাহ ভিসাপ্রাপ্ত যাত্রীদের ইমিগ্রেশন না করানোর মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, করোনা ভাইরাসের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিসা হওয়ার পরও বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী আটকে গেলেন। ওমরাহ ভিসা সাধারণত ১৫ দিনের জন্য দেওয়া হয়। আপাতত মনে হচ্ছে, ভিসা তো নতুন করে ইস্যু হবেই না। আর যাদের ভিসা করা আছে, তারাও যেতে পারবে না। এটা যদি হয়, আমাদের কাছে একটা হিসাব আছে। এখন প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ ভিসা করা আছে। সব মিলে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ইনস্ট্যান্ট ব্যয় হয়েছে, যে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এটা এখন এজেন্সি ও ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিমানের টিকিট নিয়ে অফিসিয়ালি তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে এই টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়। কূটনৈতিক চ্যানেলেও আমরা চেষ্টা করব।’

প্রবাসী কমিউনিটি

লেখক-সাংবাদিক মাওলানা রশীদ আহমদ এর লেখা দু'টি বই এখন বাজারে।

নিউজ ডেস্ক : নিউইয়র্ক প্রবাসী,তরুণ আলেম,লেখক-সাংবাদিক ও সংগঠক মাওলানা রশীদ আহমদ এর লেখা বই যথাক্রমে 'কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা' ও 'মসজিদ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা' গ্রন্থ দু'টি এখন বাজারে। বই দু'টি প্রকাশ করেছে সিলেটের স্বনামধন্য প্রকাশনী পান্ডুলিপি প্রকাশন। ঢাকায় একুশের বইমেলায় ও সিলেটের কেমুসাস বইমেলায় বই দু'টি পাওয়া যাচ্ছে।আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কের মুক্তধারায় বইগুলো পাওয়া যাবে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক ইয়র্ক বাংলা ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক। দ্বীনের একজন সক্রিয় দা'ঈ এবং মসজিদভিত্তিক সমাজবিনির্মাণে নিবেদিতপ্রাণ এই সমাজকর্মী ১৯৭৭ ঈসায়ি সিলেট জেলার  গোয়াইনঘাট উপজেলার মানাউরা গ্রামে। তাঁর পিতা উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রাহ:) এর সুযোগ্য ছাত্র, উত্তর সিলেটের বরেণ্য আলেমে দ্বীন, মাওলানা মোঃ আব্দুল মতীন।যিনি বড় হুজুর নামে সর্বমহলে পরিচিত এবং মাতা মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন।নিজ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী কৃতিত্বের সাথে শেষ করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসায় তার দ্বীনি শিক্ষার হাতেখড়ি। এ ধারাবাহিকতায় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ক্লাস  দাওরায়ে হাদীস সমাপন করেন। পাশাপাশি আঙ্গারজুর দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসা থেকে আলিম,ফাযিল ও কামিল ফিল হাদীসও কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন। নিউইয়র্কে আসার প্রথম দিকে তিনি সিটি কলেজ অফ টেকনোলজিতে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। বর্তমানে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি কলেজে "আমেরিকান জার্নাল অফ হিউম্যানিটিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ" নিয়ে অধ্যয়ন করছেন। 
নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি যুক্ত হন সিলেটে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সাথে ।
সিলেট শহরে অবস্থানকালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতাও করেন।
২০০৭ সালে প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর নিউইয়র্কে গত এক যুগেরও বেশি সময় লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুল,ব্রুকলিন -এর প্রিন্সিপাল।
‘কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা’ মাওলানা রশীদ আহমদ-এর প্রথম গ্রন্থ।মসজিদ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ। প্রথম গ্রন্থটিতে লেখক ইসলামের মৌলিক   বিষয়সমূহ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সহজ-বোধগম্য ভাষায় বুনিয়াদি শিক্ষার পাঁচটি বিষয়
উপস্থাপন করেছেন।যা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য খুবই। এই গ্রন্থটিকে লেখক পাঁচটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করেছেন। মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনের সব কাজে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য।একজন ঈমানদারের জন্য দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই।এই গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে মুসলিম নর-নারীদের মধ্যে দ্বীনী জ্ঞানচর্চা ও আল্লাহ তাআলার ভীতি সৃষ্টিতে লেখক আশাবাদী।
দ্বিতীয় বই 'মসজিদ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা' গ্রন্থটিতে মসজিদ কেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপদানের চেষ্টা করেছেন।সেখানে ইসলামের প্রাথমিক যুগে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা,দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক,বিচারসালিশসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যাবতীয় কর্ম সম্পাদন করা হতো মসজিদ থেকে।সেই মসজিদে নববীর আলোকে বর্তমান মসজিদগুলোকে ঢেলে সাজানোর রূপরেখা গ্রন্থটিতে তুলে ধরেছেন।মসজিদের ইমামদের পরিচিতি, যোগ্যতা, দক্ষতা পাশাপাশি তাদের সামাজিক অবস্থান,করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ সম্পূর্ণ রূপে তুলে ধরেছেন।

 গ্রন্থ দু'টিতে লেখক অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে  তথ্য ও তত্ত্বের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। লেখকের বিষয়বস্ত নির্বাচন এবং লেখনীর ধারা খুবই সময়োপযোগি। বাংলাভাষি পাঠকদের জন্য বই দুইটি বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। গ্রন্থগুলোতে সমকালীন বাস্তবতায় পাঠকদের জন্য ইসলামের মৌলিকজ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে এবং জ্ঞানের জগতের মৌখিক চিন্তাধারাকে জাগ্রত করবে ইনশা আল্লাহ।

লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র উদ্যোগে গত ৭ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার 'মহান বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী অধ্যুষিত 'লিটিল বাংলাদেশ' এলাকায় অবস্হিত 'বাংলা একাডেমী' মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দলের সাধারন সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান। এদিন অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট নাগরিকগণ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্হিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী চক্রের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমেই রক্ষা পায় সদ্য অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কয়েকদিনের দুঃস্বপ্নের প্রহর শেষে সিপাহী-জনতা ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের  প্রবর্তক, স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করে। তাই ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের এক অনন্য ঐতিহাসিক তাৎপর্যমন্ডিত দিন। সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ, একনায়কতস্ত্র, একদলীয় শাসন, জনজীবনের বিশৃঙ্খলাসহ তখনকার বিরাজমান নৈরাজ্যের অবসান ঘটে। একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে দেশ একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরে আসে। আলোচনায় বক্তব্য রেখেছেনঃ জিয়াউর রহমান, আবদুল হান্নান, মাসুদ হাসান, গোলাম সারওয়ার, বদরুল চৌধুরী, মোঃ আঃ বাছিত, সামসুজ্জোহা বাবলু, এম ওয়াহিদ রহমান, মাহবুবুর রহমান শাহীন, আফজাল হোসেন শিকদার, ফারুক হাওলাদার, শাহাদাত হোসেন শাহীন, মারুফ খান, এ্যাডঃ শামসুন খান লাকী, কামাল হোসেন তরুন প্রমুখ।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমানে আবারো বিদেশি শক্তির ক্রীড়নকে পরিণত হওয়া শিখন্ডি অবৈধ আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতাকে জোর করে আঁকড়ে ধরেছে। যারা ৭ নভেম্বরে বিশ্বাস করেনা, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনা। অবৈধ আওয়ামী সরকারের নতজানু নীতির কারণেই দেশের সার্বভৌমত্ব দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। গোপন চুক্তি সম্পাদন করে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রভুত্ব কায়েমের বেপরোয়া কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ভোটারবিহীন এই সরকার জবরদস্তির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তারা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াকু নেতা-কর্মীদেরকে বীভৎস নির্মমতায় দমন করছে, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে নির্দয় ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পৈশাচিকভাবে পিষ্ট করছে। আর নির্যাতনের এই অব্যাহত ধারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। দেশনেত্রীর মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি। ভোটারবিহীন সরকারের নতজানু নীতির কারণেই আমাদের আবহমানকালের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চলছে বাধাহীন আগ্রাসন। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর মহান বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপির আলোচনা সভায় উপস্হিত ছিলেনঃ বদরুল চৌধুরী শিপলু, এম ওয়াহিদ রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, মোঃ আঃ বাছিত, সামসুজ্জোহা বাবলু, মাহবুবুর রহমান শাহীন, মুর্শেদুল ইসলাম, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী চপল, মাতাব আহমদ, অপু সাজ্জাদ, আফজাল শিকদার, সালাম দাড়িয়া, শওকত হোসেন আনজিন, সাঈদ আবেদ নিপু, জুনেল আহমেদ, আহসান হাবীব রুমি, মিকায়েল খান রাসেল, শাহাদাত হোসেন শাহীন, জহিরুল কবির হেলাল, মার্শাল হক, নুরুল ইসলাম, এলেন খান, মিজানুর রহমান, আবদুর রহিম, ফারুক হাওলাদার, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন জেবুল, মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল, বদরুল আলম মাসুদ, দেলোয়ার জাহান চৌধুরী, লায়েক আহমেদ, রফিকুজ্জামান জুয়েল, ইলিয়াছ মিয়া, শাহতাব কবীর ভূঁইয়া শান্ত, শাহীন হক, আলমগীর হোসেন, রনি জামান, এ্যাডঃ নুরুল হক, সজয় আহমেদ মনির, মারুফ খান, লোকমান হোসাইন, কামাল হোসেন তরুন, মোশারফ হোসেন ইমন, রেজাউল হায়দার চৌধুরী বাবু, কামরুল আলম চৌধুরী, খোরশেদ আলম রতন, সামিদুল ইসলাম, সাঈদ খান, রেজাউল করিম জামিল, হাফেজ মোঃ বেলাল, শাহেদ আহমেদ, কহিনুর রহমান, ইফতেখার হোসেন ফাহিম, মিজানুর রহমান জমশেদ, কবির আহমেদ, হোসেন আহমেদ, এমাজউদ্দিন চৌধুরী দুলাল, আবদুল মোতালেব, আব্দুল হাকিম, খসরু রানা, আসাদুজ্জামান মুক্তা, নাজিম খান টিটু, সুমেন আহমেদ, আবদুল মান্নান, ফয়সাল হোসেন সিদ্দিকী, ফয়সাল সালাম, আবদুল মুনিম, আবুল খায়ের, শামসুল আলম, নাহিদুল ইসলাম, আবুল কায়সার, এ্যাডঃ শামসুন খান লাকী, ফরিদা বেগম, নয়ন বড়ুয়া, এ কে এম আসিফ, শহিদুল ইসলাম পলাশ, খায়রুল ইসলাম, সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন দিলির, ডাবলু আমিন, খন্দকার আলম, আবুল ইব্রাহিম, মানিক চৌধুরী, মিশর নুন, ফারুক সরকার, গিয়াস উদ্দিন, আবদুল আহাদ, এহসান আহমেদ, আবুল বাশার, দেলোয়ার আহমেদ, রফিকুল ইসলাম রিতি, নজরুল ইসলাম, আবুল হাসনাত চৌধুরী মন্টু, আবদুল হাসিব, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, হাসানুজ্জামান মিজান, মোঃ হাবিব, মাইনুল হক, মশিউর রহমান ও জিয়াউল হক জিয়া প্রমুখ।


বিনোদন


নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের মুখে ভারতীয় নায়িকা

নিউজ ডেস্ক : ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দিল্লিতে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


লেবু সতেজ থাকবে মাসজুড়ে

নিউজ ডেস্ক : অনেকেই লেবু ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন না, অভিযোগ করেন যে লেবু ফ্রিজে রাখলে শুকিয়ে যায়। তবে লেবু দীর্ঘদিন তাজা রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখার বিকল্প নেই।

বিস্তারিত


লন্ডন

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের মতো ‘মুজিবনগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে মেহেরপুরের আ¤্রকাননে জাতীয় নেতা নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই দিনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে তড়ান্বিত করে। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের রাজধানী মুজিবনগর করার দাবী এবং আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পু:ননির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নের ধারা আব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবীবে মিল্লাত মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর এজন্য শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেলেই চলবে না, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট লোকের ভোট দরকার। কেননা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ)-এর সদস্য প্রফেসর ডা. হাবীবে মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শরাফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন (হিরু ভূইয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালী হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেডএ জয়,  সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ইউএস’র সভাপতি লিপটন এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ও সিরাজগঞ্জের কামারকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল মজিদ মন্ডল ।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিনাত বেগম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন গনেশ কির্ত্তনীয়া। এরপর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সঙ্গীত শিল্পী রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জিনাত বেগম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়া সমিতি ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে ডা. হাবীবে ডা. মিল্লাত এমপি-কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ডা. হাবীবে মিল্লাত বলেন, মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ডা. হাবীবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র  মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

পুতিন, ম্যার্কেল ও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

নিউজ ডেস্ক :
সিরিয়া ও লিবিয়া ইস্যুতে প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। আগামী ৫ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এ বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি। শনিবার তুরস্কের ইজমিরে এক অনুষ্ঠানে এরদোয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সিরিয়ার ইদলিব পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ফোনে পুতিন, ম্যার্কেল ও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। ওই ফোনালাপের বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, ইদলিবের বিষয়টি আফরিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে আগামী ৫ মার্চ আমরা মিলিত হবো।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশের অভিযান কুর্দি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে। ইদলিবেও একইভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় আঙ্কারা। আশা করি, এখানেও আমরা সফল হবো যাতে আমাদের ও সিরীয় ভাইদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তুর্কি পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে প্রয়োজনে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ইদলিবে তুর্কি সামরিক অবস্থানের আশপাশ থেকে সিরীয় সেনাদের প্রত্যাহার করা না হলে ফেব্রুয়ারির শেষে সেখানে অভিযান চালাবে আঙ্কারা।

এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের আর একজন সেনাও যদি আক্রান্ত হয় তাহলে আসাদ বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে আঙ্কারা। যেকোনও মূল্যে স্থল কিংবা আকাশপথে; যেকোনও স্থানে এ হামলা চালানো হবে। যেকোনও মূল্যে সেখানে নিরাপত্তা জোন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ইদলিবের আকাশপথ বেশ কয়েক বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে আসাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাশিয়া। তবে এ মাসে আসাদ বাহিনী ১৩ তুর্কি সেনাকে হত্যার পর পাল্টা জবাব হিসেবে সিরিয়ার শতাধিক স্থাপনায় হামলা চালায় তুরস্ক। পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন এরদোয়ান। এ নিয়ে মস্কোর সঙ্গেও আঙ্কারার সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। সম্প্রতি আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির সমাবেশেও এ নিয়ে কথা বলেন এরদোয়ান। এদিন তিনি বলেন, তুর্কি সেনাদের ওপর হামলার জন্য আসাদ বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

ইরানি মিলিশিয়া ও রাশিয়ার বিমান হামলার মাধ্যমে দেশজুড়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইরান ও রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় এক সামরিক অভিযান শুরু করে আসাদ বাহিনী। দখল করে নেয় বহু শহর ও গ্রাম। ইরান, রাশিয়া ও আসাদ বাহিনীর সমন্বিত হামলার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। এমনিতেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে শরণার্থী হওয়া ৩৬ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে আসাদ বাহিনীর নতুন নতুন অভিযানে আরও বেশি শরণার্থীর বোঝা বহনে রাজি নয় আঙ্কারা। অন্যদিকে ইরান-রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় যেকোনও মূল্যে দেশজুড়ে আধিপত্য বিস্তারে উদগ্রীব আসাদ বাহিনী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


কীভাবে সামলাবেন দুরন্ত শিশু?

নিউজ ডেস্ক : সন্তানের দুরন্তপনায় হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরতে হবে বাবা-মাকে। শিশুর সঙ্গে রাগ দেখালে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জেনে নিন দুরন্ত শিশুকে

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

অ্যান্ড্রয়েড ১১ সংস্করণে ওয়ান-টাইম লোকেশন অ্যাকসেস

নিউজ ডেস্ক : সার্চ ইঞ্জিন গুগল এবার লোকেশন ট্র্যাকিং অনুমতির বিষয়টি একবারই অ্যাপের ক্ষেত্রে নেবে। আগে বিষয়টি প্রতিটি অ্যাপে আলাদাভাবে প্রতিবার নেওয়া হতো। অ্যান্ড্রয়েড ১১ সংস্করণ থেকে এটি একবারই নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
গত বছর আইওএস ১৩ সংস্করণ থেকে লোকেশন ট্র্যাকিং অনুমতি একবারই নেওয়ার অপশন চালু করে অ্যাপল। একই পদ্ধতিতে এবার গুগল কাজটি করলো। ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ১১ সংস্করণের ডেভেলপার সংস্করণে বিষয়টি সক্রিয় করা হয়েছে।
সাধারণত কোনও অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়। আগে এটি প্রতিটি অ্যাপে প্রতিবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেই চাওয়া হতো। এবার সেটি অ্যাপ ব্যবহারের শুরুতে একবারই চাওয়া হবে। অ্যাপের পাশাপাশি মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা অ্যাকসেসের ক্ষেত্রেও একবারই অনুমতি চাওয়া হবে।
এ সুবিধা চালুর পাশাপাশি গুগল ইতোমধ্যে ‘অ্যালাও অল দ্য টাইম’ নামের অপশনটি মুছে ফেলছে। এর ফলে কোনও অ্যাপ ব্যবহার শুরুর সময় লোকেশন ট্র্যাকিং অনুমতি চাওয়া হবে না। এক্ষেত্রে যেসব অ্যাপ ডেভেলপারদের অ্যাপে লোকেশন অ্যাকসেস প্রয়োজন তাদের সেটিংস থেকে লোকেশন অ্যাকসেস সক্রিয় করার জন্য ব্যবহারকারীদের আলাদা নোটিফিকেশন দিতে হবে।
বিষয়টি নতুনভাবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হলেও আগে থেকেই আইওএস ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন। তবে অ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় যেহেতু আইওএস অপারেটিং সিস্টেম বেশি দ্রুত কাজ করে তাই স্মার্টফোন ভেদে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ নিয়ে মুখ খোলেনি গুগল কর্তৃপক্ষ। যেহেতু বিষয়টি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে তাই চালুর পর ব্যবহারকারীদের ওপর নির্ভর করবে নতুন এই সুবিধা চালুর করার ভালো-মন্দ দিক।

সুস্থ থাকুন

ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর বাঁধাকপির স্যুপ

নিউজ ডেস্ক : শীতের আমেজ এখনও রয়ে গেছে প্রকৃতিতে। শীতের সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকর বাঁধাকপির স্যুপ পরিবেশন করতে পারেন। যারা বাড়তি মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তারা নিশ্চিন্তে এই স্যুপ রাখতে পারেন খাদ্য তালিকায়। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন বাঁধাকপির স্যুপ। 

উপকরণ
অলিভ অয়েল- ২ টেবিল চামচ
আদা- ১ ইঞ্চি (কুচি)
রসুন- ২ কোয়া  (কুচি)
পেঁয়াজের কলি কুচি- ৪ টেবিল চামচ
বাঁধাকপি কুচি- ২ কাপ
গাজর- ১টি (কুচি)
ক্যাপসিকাম- ১টি (কুচি)
লবণ- স্বাদ মতো
ভিনেগার- ১ টেবিল চামচ
গোলমরিচ গুঁড়া- আধা চা চামচ
পুদিনা পাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ
ধনেপাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ
কর্নফ্লাওয়ার- ১ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি
একটি কড়াইয়ে অলিভ অয়েল গরম করে আদা কুচি, রসুন কুচি ও পেঁয়াজের কলি কুচি দিয়ে নেড়ে নিন। বাঁধাকপি কুচি, গাজর কুচি ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে দিন। উচ্চতাপে ২ মিনিট নাড়ুন। ৪ কাপ পানি দিয়ে দিন। স্বাদ মতো লবণ দিয়ে ২ মিনিট ফুটান। কর্নফ্লাওয়ার সামান্য পানিতে গুলে দিয়ে দিন কড়াইয়ে। ভিনেগার, গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নিন। ধনেপাতা কুচি ও পুদিনা পাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন স্যুপ। পরিবেশন করুন গরম গরম।

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রাণ পুরুষ ডাঃ গোলাম মাওলা

ইসমাইল হোসেন স্বপন :  কোন দেশেই মায়ের ভাষা বা মানুষের মুখের ভাষায় কথা বলার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে এমন তথ্য জানা যায়না, জীবন দিতে হয়েছে এমন প্রমানও পাওয়া যাবেনা। বাঙ্গালী জন্ম থেকেই সংগ্রামী-ত্যাগী জাতি হিসেবে পরিচিত। এ জাতি যখনই যা কিছু অর্জণ করেছে তার পেছনে বিসর্জণ দিতে হয়েছে অজস্র প্রাণ। তেমনি তার মুখের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতেও মুখোমুখি হতে হয়েছিল রক্ত ঝরানো সংগ্রামের। বাঙ্গালীর মায়ের ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা “বাংলা”কে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সুদীর্ঘ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল সে ইতিহাস সকলের জানা। কিন্তু একটি পরাক্রমশালী দানবচক্রের হাত থেকে আমার জন্মগত অধিকার মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে যারা প্রান দিয়েছেন তারা অবিনশ্বর। আর যারা ধারাবাহিক এ সংগ্রামকে অধিকার আদায়ের শেষ স্তম্ভে পৌছে দিয়েছিলেন তাদের অনেককেই আমরা মনে রাখিনি। ইতিহাস দেয়নি তাদের সঠিক মর্যাদা। আজ আমি এমন একজন ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মানসিকতার পরিচায়ক, অকালে ঝরে যাওয়া একজন মহান পুরুষের কথা বলবো যিনি একাধারে ভাষা সংগ্রামী, প্রখ্যাত চিকিৎসক, সফল রাজনীতিক, সমাজসেবক ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রান পুরুষ ডাক্তার গোলাম মাওলা।

মহান ভাষা আন্দোলন ও আমাদের বাঙ্গালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রথম প্রতীক জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রানপুরুষ ভাষা সৈনিক ডাক্তার গোলাম মাওলা ছিলেন শরীয়তপুরের সুর্যসন্তান। রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাঙ্গালীর চির ঐতিহ্যের ঠিকানা জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডাঃ গোলাম মাওলার নেতৃত্ব প্রদান, ভূমিকা ও ত্যাগের তথ্য মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে কতটুকুন ঠাঁই পেয়েছে তা আমার জানা নেই। নতুন প্রজন্ম এই ক্ষনজন্মা মানুষটির কীর্তির কথা খুব একটা জানে বলেও আমার মনে হয়না। জাতির সামনে প্রয়াত এই মহান পুরুষের গৌরবান্বিত ঐতিহাসিক অর্জনের সুবিস্তার স্থান পায়নি কোথাও । দীর্ঘ দিন ভাষা সংগ্রামের এই প্রান পুরুষটি রাষ্ট্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বলয় সর্বত্রই উপেক্ষিত ছিলেন।

১৯২০ সালের ২০ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের পোড়াগাছা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন গোলাম মাওলা। তার পিতার নাম আব্দুল গফুর ঢালী এবং মায়ের নাম ছিল জমিলা খাতুন। গোলাম মাওলার পিতা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জাজিরা থানার পাঁচুখার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনী পাশ করে গোলাম মাওলা নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হন।

১৯৩৯ সালে সেখান থেকে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাশ করেন। ৪১ ও ৪৩ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি ও বিএসসি পাশ করেন। এরপরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ব বিষয়ে এমএসসি পাশ করার পর ১৯৪৫ সালে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ডাক্তারী কোর্সে ভর্তি হন। সে বছর মাত্র দুইজন মুসলিম বাংগালী ছাত্র কোলকাতায় এমএসসি পাশ করার পর এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয় । একজন গোলাম মাওলা অপর জন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ (এ সময় গোলাম মাওলা একটি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য থাকেন)। কোলকাতায় ছাত্রাবস্থাতেই মাওলার সাথে শখ্যতা হয় বঙ্গবন্ধুর।

গোলাম মাওলা যখন ঢাকা জগন্নাথ কলেজের ছাত্র তখন বৃটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার জন্য শৃংখলিত মানুষের আর্তনাদ তাকে ব্যথিত করতো। বিপ্লবী চেতনা থেকেই তিনি বৃটিশ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ভারতে লেখা পড়ার সুযোগে তিনি মুকুল ফৌজের অধিনায়ক হিসেবে বৃটিশ তাড়ানোর আন্দোলনে অগ্রনী ভ’মিকা পালন করেন। ৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কোলকাতা থেকে মাওলা ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন। ৪৮ সাল থেকেই মাওলা সহ কয়েকজন ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন (ছাত্র সংসদ) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। ৪৮ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ গঠন করা হলে গোলাম মাওলা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মনোনীত হন।

১৯৫০ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে হিন্দু- মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রনেতা রাজপথে শান্তি মিছিল বের করেছিল। এদের মধ্যে গোলাম মাওলা অন্যতম ছিলেন বলে ভাষা সৈনিক গাজিউল হক তার একটি স্মৃতি চারণ মূলক লেখায় ১৯৮৪ সালে উল্লেখ করেছিলেন। একই বছর ১৯৫০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ গঠন হলে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন ডাঃ নাজির আহমেদ ( তিনি সেনা বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে পাকিস্তান চলে গেলে আর কখনো ফিরে আসেননি)। ঢাকা মেডিকেলের ২য় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৫২’র জানুয়ারীতে ভিপি নির্বাচিত হন গোলাম মাওলা।

১৯৫২ সালের মহান ভাষা অন্দোলনে যে ক’জন তৎকালিন ছাত্রনেতা অসীম সাহসিকতা, সুচিন্তিত পদক্ষেপ, দক্ষতা আর সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার ভ’মিকা রেখে ভাষা সৈনিক/ভাষা সংগ্রামীর খেতাব অর্জণ করেছিলেন ডাক্তার গোলাম মাওলা ছিলেন তাদের প্রথম কাতারের অন্যতম দিকপাল, সফল অর্জণের পুরোধা এবং ইতিহাস রচনার পথিকৃত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে, ক্ষনজন্মা সেই পুরুষ তার কীর্তির দ্বীপ্তি ছরিয়ে বড় অসময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অকৃজ্ঞ জাতি আমরা, যাকে মনে না রেখে অনেক কাল পর্যন্ত উপেক্ষিত করে রেখেছি। ২১ আসে ২১ যায়, কিন্তু এই নির্লোভ, ত্যাগী, পরোপকারী, নীরবে চলে যাওয়া মাওলাকে আমরা সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে অনেক কুন্ঠাবোধ করেছি। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরনের পূর্বে তিনি অসামান্য কীর্তি ও গৌরবগাথা রেখে গেছেন বাঙ্গালী জাতির জন্য।

সংক্ষেপে ডাঃ মাওলা সম্পর্কে কিছু লিখতে গিয়ে আমাকে ইতিহাসের পেছনে অনেক সাতরাতে হয়েছে। মাত্র সেদিন (২০১০ সালে) জাতীয় সংসদের তৎকালিন ডেপুটি স্পীকার ও শরীয়তপুন-২ আসনের সাবেক সাংসদ কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর অক্লান্ত চেষ্টায় ভাষা সৈনিক মরহুম ডাঃ গোলাম মাওলাকে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরনোত্ততর ২১শে পদক প্রদান করেছেন। এছারাও জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর কল্যানে কীর্তিনাশা নদীর উপর নির্মিত সেতু ও নড়িয়ায় একটি সড়কের নামকরন করা হয়েছে গোলাম মাওলার নামে। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে বিশেষ অনুরোধ করে শওকত আলী সাহেব ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল ধানমন্ডির ১ নং সড়কটির নামকরন করিয়ে নেন গোলাম মাওলার নামে।

এ ছাড়াও শওকত আলী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহায়তায় শরীয়তপুর সরকারী পাবলিক লাইব্রেরীকে ২০০৯ সালে “ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা পাবলিক লাইব্রেরী” নামে নাকরন করান।। গোলাম মাওলার নামে কয়েকটি সংঘ, সংসদ বা ক্লাব ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা যায়। এর মধ্যে ডাঃ গোলাম মাওলা তরুন স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনেক আগে। তার কোন কার্যক্রম আছে বলে আমার জানা নেই। তবে ১৯৯৭ সালের ২রা মে শওকত আলী এমপির উদ্দীপনায় ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যার কিছু কিছু কার্যক্রম এখনো চলমান।

পরিতাপের বিষয় যে, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের বর্ষপূর্তিতে গোলাম মাওলার পরিবারের কাউকে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন মনে রাখেনি। দেশের প্রগতিশীল ধারার অনেক ব্যক্তির সম্পাদনায় জনপ্রিয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক সহ সকল দৈনিক পত্রিকায় ২১ কে নিয়ে বিশেষ সাময়ীকি/ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেশের নামজাদা সব লিখিয়েরা পাতায় পাতায় লিখে থাকেন। কিন্তু বিশেষভাবে গোলাম মাওলার ইতিহাস তুলে ধরে কেউ দুটি লাইন রচনা করেননি কোনদিন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট দেশ বিভাগের কিছুদিন পর আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর ডঃ রিয়াজ উদ্দিন সর্ব প্রথম উচ্চারন করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দূ। সাথে সাথে এর প্রতিবাদ করেন ডঃ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন ও ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোষনা করেন উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সেদিন সর্ব প্রথম ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর প্রতিবাদ করে। এর তিন দিন পর ২৫ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ তার বক্তব্যের পূনরাবৃত্তি করলে ছাত্র সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পরে। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর পুরোভাগে এবং যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গোলাম মাওলা।

ছাত্রদের বিক্ষোভের ফলে জিন্নাহ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রভাষার বিরোধীতা করার পেছনে পঞ্চম শক্তির হাত রযেছে। জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৯৪৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা পূনরাবৃত্তি করেন। ৫১ সালে লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হলে খাজা নাজিম উদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী নাজিম উদ্দিন ঢাকার ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে আবার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা করেন। এখানেও ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পরেন। সে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ডাঃ মুঞ্জুরের কক্ষে মেডিকেল কলেজের ভিপি হিসেবে একটি বিশেষ জরুরী সভা আহবান করে গোলাম মাওলা সিদ্ধান্ত দেন যে, “নাজিম উদ্দিনের ঘোষনার কড়া জবাব দিতে হবে”। ২৮ জানুয়ারী গোলাম মাওলা ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ঢামেকসু) এর সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভিপি হিসেবে এর প্রতিবাদ লিপি পেশ করেন তিনি।

৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরী মিলনায়তনে এক সম্মেলন হয়। এতে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এখানে ডাঃ গোলাম মাওলা ঢাকা মেডিকেলের ভিপি হিসেবে অন্যতম সদস্যপদ লাভ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে বক্তব্য রাখেন গোলাম মাওলা।

১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টায় পুনরায় ঢাকা বার এসোসিয়েশন লাইব্রেরীতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জরুরী সভা হয়। গোলাম মাওলা অসুস্থ্য থাকায় তিনি ছাত্র সংসদের জিএস শরফুদ্দিন আহমেকে পাঠান। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ২০ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ধর্মঘট, মিছিল, সভা-সমাবেশ ও পিকেটিং করা হবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে। রাতে ছাত্রাবাসে ফিরে শরফুদ্দিন মাওলাকে সকল সিদ্ধান্তের কথা খুলে বলেন। মাওলা তৎক্ষনাৎ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জিং এবং দুঃসাহসিক ভেবে শরফুদ্দিনকে একটি বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করেন। শরফুদ্দিন ছিলেন পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ঢাকার আদিবাসীদের (ঢাকাইয়া কুট্টি) বেশীর ভাগেরই আনুগত্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং উর্দু ভাষার প্রতি। তখন ঢাকা শহর ২২টি পঞ্চায়েতের স্থানীয় সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো। এই ২২ পঞ্চায়েতের সর্দার ছিলেন পুরান ঢাকার লায়ন সিনেমা হলের মালিক কাদের সর্দার। ১৯ ফেব্রুয়ারী মাওলার পরামর্শে শরফুদ্দিন আহমেদ, ডাঃ আদুল আলীম চৌধুরী (পরবর্তীতে ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি) ও ডাঃ মুঞ্জুরকে নিয়ে কাদের সর্দারের বাড়িতে গিয়ে তাকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে ভ’মিকা নিতে অনুরোধ জানান।

কাদের সর্দার প্রথমে ছাত্রদের কথা ততটা পাত্তা না দিলেও পরে যুক্তি প্রদানের এক পর্যায়ে তিনি রাজি হয়ে যান। এবং ঐ মুহুর্তেই সর্দার তার সচিবের মাধ্যমে চিঠি লিখিয়ে ২২ পঞ্চায়েতকে পাঠিয়ে জানিয়ে দেন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র আন্দোলনকে সহায়তা করতে হবে (ডাক্তার মাওলা সেদিন এই কৌশল অবলম্বন না করলে ২০ তারিখের ধর্মঘট এবং ২১ ফেব্রুয়ারীর ১৪৪ ধারা ভঙ্গে স্থানীয় ঢাকাবাসীর সমর্থন পাওয়া যেতনা)। ১৯ তারিখ রাত পার হয়েছে অনেক দুঃচিন্তা ও উত্তেজনায়। ২০ ফেব্রুয়ারী গোলাম মাওলা ছাত্রদের আবেগ বুঝতে পেরে এবং কয়েকজন মেডিকেল ছাত্রের প্রস্তাবে মাইক ভাড়া করে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত দেন।

মাওলা সাহেব ২ জন ছাত্রকে ডেকে হোষ্টেল ঘুরে ২৫০ টাকা উঠিয়ে আনতে বললে ছাত্ররা মাত্র কিছুক্ষনের মধ্যে ৪৫০ টাকা উঠিয়ে মাওলার হাতে তুলে দেন। তিনজন ছাত্র তিন দিকে চলে গেলেন মাইক ভাড়া করতে। মাওলা সাহেব একজনকে নির্দেশ দিলেন ওয়াইজ ঘাটের ফেক্টর দোকানের ১০০ ওয়াটের সে-ই মাইকটি অবশ্যই আনতে হবে, যে মাইকে জিন্নাহ ঘোষনা দিয়েছিল “উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”। যথারীতি তিন সেট মাইকই পাওয়া গেল। ফেক্টর দোকানের সেই ১০০ ওয়াটের মাইকও আসলো। ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরীর কক্ষকে কন্ট্রোল রুম বানিয়ে সেখান থেকে গোলাম মাওলা সহ মেডিক্যাল কলেজের ও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা অবিরাম বত্তব্য দিতে শুরু করলেন। ছাত্রদের আন্দোলন তুমুল আকার ধারন করলো।

মুসলিমলীগ সরকার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের তীব্রতা আঁচ করতে পেরে ২০ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সমগ্র ঢাকা শহরে একমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে দেয়। এ সংবাদ প্রচারের সাথে সাথে জ্বলন্ত বারুদের মত ক্ষেপে উঠে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে ঢাকা মেডিক্যালের ছাত্ররা (ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ুয়া ছাত্রদের ভেতর একটা ভীতি কাজ করতো পাক সরকারের আচরনের উপর। পাশাপাশি কিছু এ্যাম্বিশন কাজ করতো সরকারের অনুকুলে থেকে শিক্ষা জীবন শেষে সিএসপি অফিসার/আমলা হওয়ার সুযোগ গ্রহনের জন্য। কিন্তু মেডিকেলের ছাত্ররা ঐ লোভের তোয়াক্কা করতো না, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল নির্লোভ ও সাহসী।

তাদের ধারনা ছিল এমবিবিএস পাশ করে প্রাইভেট প্রাকটিস করেও সম্মানের সাথে বাঁচা যাবে। সেকারনে ভাষা সংগ্রামের চুড়ান্ত পর্বে ঢামেকসুর ভিপি গোলাম মাওলার তাত্বিক যুক্তি ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশী ভ’মিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল তারা)। ১৪৪ ধারা ভাংতে হবে এই জিঘাংসা তখন বিদ্যুৎ গতিতে কাজ করতে থাকে ছাত্রদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১৫ জন পলিট ব্যুরোর নেতাদের মধ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ব্যাপারে দ্বিধা দ্বন্দ চলতে থাকে। ৪৪ ধারা ওভারলুক করার পক্ষে থাকেন মাত্র চারজন। বাকি ১১ জন সায় দেননি। গোলাম মাওলা, আব্দুল মতিন,অলি আহাদ ও সামসুল আলম শক্ত অবস্থানে থাকেন পুলিশি ব্যারিগেট ভাঙ্গার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন।

২১ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্র ছাত্রী ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে থাকেন আ- জনতা। নেতাদের দ্বান্দিক চিন্তা থেকে বেড়িয়ে ছাত্ররা সত্যাগ্রহি পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতি ১০ জনের একেকটি দলে তারা রাস্তায় বেড়–তে থাকে। প্রথম দিকে বেড়নো ৩/৪ টি দলকেই পুলিশ গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েদের একটি দলের উপরও পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে তাদের লাঞ্ছিত করলো। পুলিশের সাথে আন্দোলন কারীদের তুমুল ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া পল্টা ধাওয়া চলতে থাকে দীর্ঘক্ষন।

পুলিশ এক পর্যায়ে বৃষ্টির মতো টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও গুলি করতে শুরু করলে প্রথমেই শহীদ রফিকের মাথায় গুলি লাগে। মাথার খুলি গুলি লেগে ১২/১৩ ফিট দুরে গিয়ে পরে (বর্তমান শহীদ মিনারে কাছে)। পাশাপাশি আরো ২টি লাশ পরে যায় মাটিতে। এরপর ছত্র ভঙ্গ হতে থাকে ছাত্ররা। তারা অভয়াশ্রম হিসেবে জড়ো হতে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায়। মেডিকেলের সংগ্রামরত ছাত্ররা শত শত আহত আন্দোলনকারীকে চিকিৎসা দিতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বিশৃংখল অবস্থায় কান্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হন গোলাম মাওলা।

২১ শের হত্যাকান্ডের পর পরই বিকেলে নেতারা জরুরী বৈঠকে মিলিত হন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। সেখানে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হয়। এখানে উপস্থিত থাকেন তমুদ্দন মজলিশের রাজনৈতিক ফ্রন্টের আহবায়ক আবুল হাশিম, সাপ্তাহিক সৈনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, কমরুদ্দিন আহমেদ, শামসুল হক, কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, মোঃ তোয়াহা, কবীর উদ্দিন আহমেদ, শহিদুল্লাহ কায়সার, কেজি মোস্তফা, মাহবুব জামাল জাহেদী ও গোলাম মাওলা।

এই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১শের রাতে অলি আহাদ ও আব্দুল মতিনের উপস্থিতিতে মাওলা সাহেবের কক্ষে আবার সভা বসে। সেখানে গোলাম মাওলাকে নতুন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ২১শের উত্তাল আন্দোলনে রক্ত ঝরার পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পরে। ২২ ফেব্রুয়ারী কর্ম পরিষদের বিলুপ্তি ঘোষনা করেন পরিষদের আহবায়ক আব্দুল মতিন নিজেই। কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ঢাবি কর্ম পরিষদ ব্যর্থ হয়ে গেলে গোলাম মাওলার নেতৃত্বে নতুন সংগ্রাম কমিটি আন্দোলনে প্রান ফিরে পায়।

২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদদের লাশ রাখা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। কাউকে লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। পুলিশ সারাক্ষন পাহারায় রাখে। ২২ ফেব্রুয়ারী সকালে শহীদদের গায়েবানা জানাজা পড়ানো হয় অসংখ্য জনতার উপস্থিতিতে। এরপরে ছাত্ররা রাজপথে আবার মিছিল বের করে। পুলিশ সেখানে গুলি চালালে এদিনও হতাহত হয় আরো কয়েকজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠে আন্দোলনের প্রান কেন্দ্র। সকল মতাদর্শের উর্ধে উঠে গোলাম মাওলা হয়ে উঠেন একতার প্রতীক। ২৩ ফেব্রুয়ারী সকালে ঢাকা মেডিকেলের ৩ নম্বর সেডের বারান্দায় দাড়িয়ে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের কথা হচ্ছিল। ছাত্ররা তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত নেয় ঐ দিনই স্তম্ভ নির্মান করতে হবে। তখন প্রশ্ন উঠলো নকশা তৈরী এবং উপকরন সংগ্রহের। এমন সময় গোলাম মাওলা বললেন, মেডিকেলের ৩য় বর্ষের (সম্ভবত) ছাত্র বদরুল আলমকে ডেকে পাঠাতে। বদরুলের আঁকা ঝাকিতে হাত ভালো। বদরুল এলে মাওলা তাকে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ তৈরীর জন্য একটি নকশা প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন। মাওলার নির্দেশে বদরুল আলম ডাঃ মির্জা মাজহারুল ইসলামকে সহ ডাঃ সাইদ হায়দারের সাহায্য নিয়ে তিন জনের মমনশীল চিন্তা থেকে একটি নকশা প্রস্তুত করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিকেলের ছাত্ররা সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন মেডিকেল কলেজের যে স্থানে প্রথম গুলি চালানো হয়েছিল সেখানেই শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে। সিদ্ধান্ত মতে নির্মানাধীন নার্সেস কোয়ার্টারের ইট-বালু-সুরকি আর হোসেনী দালান সড়কের পুরান ঢাকাইয়া পিয়ারু সরদারের গুদাম থেকে সিমেন্ট এনে সারা রাত জেগে ১০ ফুট উঁচু ও ৬ ফুট প্রস্থের ঐতিহাসিক প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। ছাত্রদের সাথে রাতভর নিজের কাধে করে ইট সিমেন্ট বহন করেন মাওলা।

২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে মাওলাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মান কাজ শেষ হলে মিনারের চার দিকে রশি বেধে দেয়া হয়। মিনারের নিচের অংশে লাল শালু কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে তার ওপরের অংশে হাতে লেখা দুটি পোষ্টার সাটানো হয়। এর একটি পোষ্টারে লেখা ছিল “ শহীদ স্মৃতি অমর হোক” অপরটিতে “ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই”। শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভী মাহাবুবুর রহমান ২৪ তারিখে প্রথমবার উদ্বোধন করেন শহীদ মিনারের। ২য় বার ২৬ ফেব্রুয়ারী উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম সামসুদ্দিন।

শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে মিনার নির্মান করা হয়েছে এ খবর পৌছে যায় বিভিন্ন এলাকায়। দলে দলে নারী- পুরুষ- আবাল- বৃদ্ধ- বনিতা এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে থাকেন শহীদ বেদীতে। টাকা পয়সা দান করতে থাকেন পূন্যার্থীরা। জানা গেছে অনেক গৃহবধু তাদের স্বর্নালংকারও খুলে দিয়েছেন মিনারের পাদদেশে। এই পরিস্থিতিেিত নতুন করে উত্তেজিত হয় পাক সরকার । ২৬ ফেব্রুয়ারী সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ভেঙ্গে ধুলিসাৎ করে দেয় শহীদ মিনারটি। সেদিনের “ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ” নামক স্থাপনাটি আজ শুধু ২১ শের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত একটি স্থাপত্যই নয়, এটি বাঙ্গালী জাতির গর্বের ইতিহাস, সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনের তীর্থস্থান। বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ও চেতনার উৎস স্থল।

শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি গুড়িয়ে দেয়ার পর এতবড় একটা আন্দোলন নতুন করে যখন নেতৃত্ব শুন্য অবস্থায় তখন অত্যন্ত সাহসী কান্ডারীর ভ’মিকা পালন করেন গোলাম মাওলা। জাতির চরম দূর্দিনে তার আবির্ভাব ছিল একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনের প্রেক্ষাপট। তিনি হয়ে উঠেন আন্দোলনের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গোলাম মাওলার বিরামহীন নেতৃত্বে ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারী বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে।

এমবিবিএস পাশ করার পর গোলাম মাওলা পাকিস্তান মেডিকেল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা রেড ক্রোসের সম্পাদক হিসেবে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জণ করেন। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ভাইজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নড়িয়া থেকে শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। কিছুকাল পরে তিনি মারা গেলে ৫৬ সালে ঐ আসনে উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে মাওলাকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকার ভোজেশ্বরের একটি জনসভায় এসেছিলেন। গোলাম মাওলার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে সরওয়ার্দী বলেছিলেন, “ গোলাম মাওলা আমার চেয়েও বেশী শিক্ষিত, তিনি বিএসসি, এমএসসি ও এমবিবিএস, তাকে আপনারা ভোট দিন”। বঙ্গবন্ধু গোলাম মাওলাকে তাঁর একান্ত বন্ধু পরিচয়ে গোলাম মাওলার জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এসময় সরওয়ার্দ্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রায় তিন সপ্তাহ নড়িয়ার পোড়াগাছায় অবস্থান করে গোলাম মাওলার নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুরের একটি আসন থেকে গোলাম মাওলা আ’লীগের টিকিটে এমএনএ নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন পাকিস্তান সরকার গোলাম মাওলাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য আহবান করলে তিনি তা ঘৃনাভরে প্রত্যাক্ষান করেছিলেন।

তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর বিশেষকরে মাদারীপুর মহকুমায় আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার জন্য গোলাম মাওলা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডাক্তার মাওলা মাদারীপুর মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৫৬ থেকে ৫৭ সাল পর্যন্ত মাওলা ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তার সাথে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ভাঙ্গা থানার কাজী রোকোনুজ্জামান এমপি। ডাঃ গোলাম মাওলা জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে মাদারীপুর এসে একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে প্রাকটিস শুরু করলেন। ডাক্তার মাওলার চেম্বারটিই ছিল তথন আওয়ামীলীগের একমাত্র ঠিকানা। তিনি গরীব রোগীদের থেকে কখনো পয়সা নিতেন না ।

উপরোন্ত গরীবদের বীনা পয়সায় ঔষধও সরবরাহ করতেন। কোলকাতা মেডিকেলে এমবিবিএস পড়া অবস্থায় মাওলার শরীরে একটি সংক্রামক ব্যাধির উপস্থিতি ধরা পরেছিল। চিকিৎসার পর তা নিয়ন্ত্রনে এসছিল কিন্তু পূর্নাঙ্গ নিরাময় হয়নি। মানুষের চিকিৎসা করতে করতে তিনি নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পরেন। ৫২’র ২১ শে ফেব্রুয়ারীর শহীদদের রক্তে ঢাকার পিচ ঢালা কালো রাজ পথে যে আল্পনা আঁকা হয়েছিল তাতে ডাঃ মাওলা বাঙ্গালী জাতির মুক্তির ছবি দেখতে পেয়েছিলেন। তাই তিনি অনাগত মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতাকে ইঙ্গিত করে তার সহকর্মী ও বন্ধুদের বলতেন “ বাঙ্গালীর সুদিন আসবে, হয়তো আমি সেদিন থাকবোনা বা দেখবোনা, তোমরা তা অবশ্যই ভোগ করবে”। মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে মুক্তিকামী সে গোলাম মাওলা স্বাধীনতা লাভের ৫ বছর পূর্বে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ১৯৬৭ সালের ২৯ মে মৃত্যুবরন করেন।

মৃত্যকালে আমরন এই মহান সংগ্রামী নেতা তার তিন কন্যা ও ১ জন পূত্র সন্তানের জন্য কোন সম্পদ রেখে যেতে পারেননি। শুধু তিনটি জীবন বীমা কোম্পানীতে তার নামে তিনটি পলিসি খোলা ছিল ( সম্ভবত হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও আলফা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি)। তার তিনিটি বীমার মৃত্যুদাবীর অর্থ থেকেই পরিবারের সহায়তা হয়েছিল বেশীরভাগ। মাওলা সাহেবের সহধর্মিনী ও তার তিন কন্যাই মৃত্যু বরন করেছেন। ডাঃ গোলাম মাওলার একমাত্র জীবীত পূত্র সন্তান ডাঃ গোলাম ফারুখ নড়িয়া উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গিয়েছেন কয়েক বছর আগে। তিনিও শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ্য। ডাক্তার ফারুখ রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানিয়েছেন, সকল মহান ভাষা সংগ্রামীদের যথাযথভাবে সম্মানীত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলার গৌরবময় ইতিহাসের কথা এ দেশের নতুন প্রজন্মকে জানানোর ব্যবস্থা এর আগে কেউ করেনি। তিনি উপেক্ষিত ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু ক্ষেত্রে। মাতৃভাষার সঠিক ইতিহাস রচনায় গোলাম মাওলাকে উহ্য রাখলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও স্বাধীনতার ইতহাস প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দেশের নতুন প্রজন্ম গোলাম মাওলাকে জানতে চায়। এ দায়ীত্ব বাংলা ভাষাপ্রেমী প্রতিজন গবেষক, লেখক, প্রকাশক, রাজনীতিবিদ ও সরকারের। ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসে ডা. গোলাম মাওলার জন্য সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দেয়া এখন সময়ের দাবী।

টুকিটাকি খবর

ঘুমালেই পাবেন লাখ টাকা পারিশ্রমিক!

নিউজ ডেস্ক :
আপনি কী ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে লাখ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেন? তবে এই বিশেষ নিউজটা আপনার জন‌্যই।

কারণ, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে লাখপতি হবার স্বপ্ন দেখার দিন শেষ। এবার সময় এসেছে সেই স্বপ্নকে সত্যি করার!

অবাক লাগছে? বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলা যাক...

রাতে ঘুম হয় না বা যাদের রাতে ঘুমানোর অভ্যাস কম বা চলে গিয়েছে- এমন নানা সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্তি উদ্যোগ নিয়েছে ‘ওয়েকফিট' (Wakefit) নামক এক সংস্থা।

তাদের শর্ত- প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ঘুমালেই পেয়ে যাবেন এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক।

সম্প্রতি ‘ইনসমনিয়া’ ভুগছেন এমন বহু মানুষকে এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এজন‌্য ‘ওয়েকফিট’ সম্প্রতি শুরু করেছে এক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রাম ১০০ দিনের আর এর জন্য ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপনে ওই সংস্থা লিখেছে, ‘আপনি কি রাতে আপনার প্রিয় শোগুলো না দেখে তার পরিবর্তে নয় ঘণ্টা ঘুমাতে পারবেন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনিই হতে পারেন যোগ্য প্রার্থী, আমরা যার খোঁজ করছি।’ এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েকফিট স্লিপ ইন্টার্নশিপ’।

‘ওয়েকফিট স্লিপ ইন্টার্নশিপ’-এর যোগ্য প্রার্থী হতে লাগবে ‘শুধু ঘুম!’ তবে এর সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হয়েছে কিছু শর্ত।

শর্তগুলো হলো-

১) যিনি শোয়ার ১০-২০ মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। যার যখন তখন সামান্য সুযোগ পেলেই ঘুমিয়ে পড়ার ক্ষমতা রয়েছে।

২) দ্বিতীয়ত, এর অন্যতম শর্ত বেশি রাত পর্যন্ত জেগে না থাকা। নিজের ফোনে আসা একের পর এক নোটিফিকেশনকেও অগ্রাহ্য করতে পারার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

৩) ইন্টার্নদের ঘুমাতে হবে ওয়েকফিটের দেওয়া ম্যাট্রেসে। স্লিপ ট্র্যাকারের মাধ্যেমে তাদের ঘুমের নানা দিক লক্ষ্য রাখা হবে। সেই অনুযায়ী ভাল ঘুমানোর পরামর্শ দিতে কাউন্সেলিং সেশনও থাকবে।

তারুণ্য

সাড়ে ৪ মাসেই কোরআনের হাফেজ ৯ বছরের শিশু আউয়াল

নিউজ ডেস্ক :
মাত্র সাড়ে চার মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার (হাফেজ) মেধা দেখিয়েছেন নয় বছরের শিশু আব্দুল আউয়াল। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষাতেও সে সকল বিষয়ে শতভাগ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ভান্ডারি মহলস্থ জামালুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র আবদুল আউয়াল এ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছে।

মেধাবী শিশু আব্দুল আউয়াল ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী গ্রামের মৌলভীবাড়ির মো. মোশারফ হোসেন (মোশারফ মাস্টার নামে পরিচিত) ও মাজেদা আক্তারের ছেলে। দুই সন্তানের মধ্যে আব্দুল আউয়াল বড়। বাবা বর্তমানে ৫৮নং পশ্চিম ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এই বিদ্যালয়েই বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল আউয়াল।

জামালুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক হাফেজ মাওলানা ইবনে আহমদ ওয়ালী উল্লাহ জানান, আব্দুল আউয়াল তার মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর এক বছরের মধ্যেই নূরানী ও নাজেরা শেষ করে। পরে ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট হিফ্জ বিভাগে ক্লাস শুরু করে। সফলভাবে শেষ করে অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ কোরআনে হাফেজ হয় চলতি বছর ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি। মাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে সে ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছিল। এ হিসাবে সাড়ে চার মাসেই সে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল আউয়াল প্রথম দিকে প্রতিদিন ৩ পৃষ্ঠা করে পড়া দিত। শেষদিকে এসে দিনে ৬-৭ পৃষ্ঠা করে পড়া দিতে পারত। সে এমনিতে সারাদিন খুব একটা পড়াশোনা করত না। অল্পতেই তার পড়া মুখস্থ হয়ে যায়। তার মেধা দেখে পড়ালেখায় আরো আগ্রহী করে তোলার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করি। এতে সে আনন্দের সাথেই পড়ালেখা করেছে। আবার অমনোযোগী হলে পুরস্কারের সাথে সাথে জরিমানা দিতে হবে এ কথা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে সে পথে আর পা বাড়াত না।

তিনি বলেন, ‘নয় বছর বয়সে আব্দুল আউয়াল আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অহংকারে পরিণত হয়েছে। মাদরাসায় নিয়মিত পড়ার বাইরে যে সময় অবশিষ্ট থাকত সে সময় তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইসমূহ পড়ার জন্য সহায়তা করেছি। ফলে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তার পড়ালেখার বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া আব্দুল আউয়াল তার প্রতিভার মাধ্যমে একই সাথে দুটি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়। আমরা সবাই তার উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’

গর্বিত এ সন্তানের পিতা মো. মোশারফ হোসেন জানান, ২০১০ সালের ২ নভেম্বর আব্দুল আউয়ালের জন্ম। শিশু বয়স থেকেই তার মেধার পরিচয় তিনি পেয়েছেন। তাই তার প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়ার জন্য নিজের বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।

আলাপকালে তিনি জানান, আব্দুল আউয়াল সারাদিন দুষ্টুমি করত। পড়াশোনায় থাকত অল্প কিছুক্ষণ। আর তাতেই সে তার স্কুলের পড়া শেষ করতে সমর্থ হত।

এদিকে দাদির আশা ও স্বপ্ন নাতির আলেম হওয়া। এজন্য চাচা মুফতি মুনাওয়ার হোসেনের আগ্রহে তাকে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সাথে মাদরাসার হিফ্জ বিভাগে পড়ানোর জন্য শিক্ষক বাবা উদ্বুদ্ধ হন।

প্রথমে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পেছনে একটি মাদরাসায় ভর্তি করালেও একমাস পর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ জামালুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসায় আবদুল আউয়ালকে তিনি ভর্তি করান। মাদরাসার নূরানী ও নাজেরা শাখায় ভর্তি হলেও মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের আগ্রহ ও তার মেধা দেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন তিনি। ফলে একসাথে দুটি প্রতিষ্ঠানে দুটি ধারায় সে অধ্যয়ন করেছে এবং সফল হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষায় সকল বিষয়ে শতভাগ নম্বর পেলেও বিদ্যালয়ে মাঝে মধ্যে অনুপস্থিতির কারণে তাকে ক্লাসে রোল নম্বর দুই প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। একই নম্বর পাওয়া অপর একজনকে প্রথম করা হয়।

ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘আলেম হওয়ার সাথে সাথে সে যদি আল্লাহর ইচ্ছায় সাধারণ শিক্ষা নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা যে কোনো পেশায় যেতে আগ্রহী হয় তবে আমি সেই চেষ্টা করব।’

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক