যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 09:46am

|   লন্ডন - 04:46am

|   নিউইয়র্ক - 11:46pm

  সর্বশেষ :

  কভিড-১৯; তাপমাত্রা পরীক্ষার পর এবার মাস্ক পড়বে লস এঞ্জেলেস পুলিশ   কভিড-১৯; মারা গেলেন রিভারসাইড কাউন্টির শেরিফের এক ডেপুটি   কভিড-১৯; লস এঞ্জেলেসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮; আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৫   করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ মানুষ   বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়াল   চলতি মাসের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসবে করোনা: চীনের বিশেষজ্ঞ   ইসরাইলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত, প্রধানমন্ত্রী আইসোলেশনে   মক্কা-মদিনায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ   বাংলাদেশে আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ডিকসনের ৪ বার্তা   ব্রিটেনে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি   বাংলাদেশে সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলাব্যাথা নিয়ে ৫৮ জনের মৃত্যু   করোনা সংক্রমণ: যুক্তরাষ্ট্রে সব কারাগার লকডাউন   করোনায় লকডাউন ভাঙলে গুলির নির্দেশ   করোনা লড়াইয়ে ভারতকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল চিনা অ্যাপ টিকটক   করোনার কারণে একজন চীনা কূটনীতিকও ফিরে যাবে না

CORONAVIRUS OUTBREAK

Los Angeles

4,045

Cases

78

Deaths

California

10,838

Cases

234

Deaths

USA

236,339

Cases

5,648

Deaths

স্বদেশ


ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চোষপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষকারী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে জয়নাল আবেদিন(৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত

২০২০-০৪-০২ ০৪:০৩:৪৭

লস এঞ্জেলেস


কভিড-১৯; লস এঞ্জেলেসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮; আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাণঘাতী কভিড-১৯ (করোনাভাইরাসে) লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায়

২০২০-০৪-০২ ২১:১১:১৫


নিউইয়র্ক


নিউইয়র্কে করোনায় নিহত এক হাজার ছাড়ালো

নিউজ ডেস্ক : ইতালি-স্পেনে পর বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা বিবেচনায় সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


ইউরোপে মৃত্যু ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে

নিউজ ডেস্ক : যত দিন যাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল তত লম্বা হচ্ছে। ইউরোপে মৃত্যু ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১০টা

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

চুক্তি হারিয়ে ক্রিকেটই ছেড়ে দিলেন ইংলিশ স্পিনার

নিউজ ডেস্ক : ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব মিডলসেক্সকে ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী অফস্পিনার অলি রেইনার। কিন্তু চার বছরের ব্যবধানে তাকে আর নিজেদের বিবেচনায় রাখছে না মিডলসেক্স।

ক্লাবের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো চুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়নি বিধায় ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকেই অবসর নিয়ে নিলেন রেইনার। জানিয়ে দিয়েছেন আর কখনও নামবেন না ক্রিকেট মাঠে। নিজ দল মিডলসেক্সের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাবেই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রায় সাড়ে ছয় ফুট লম্বা এ অফস্পিনার।

২০১৬ সালে মিডলসেক্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে মাত্র ২৩.৫৬ গড়ে ৫১টি উইকেট শিকার করেছিলেন রেইনার। কিন্তু পরের মৌসুমেই তাকে আর মূল বোলার হিসেবে রাখেনি মিডলসেক্স। রবি প্যাটেল এবং নাথান সোটারের আগমনে তৃতীয় বোলার হয়ে যান রেইনার।

পরে রেইনারকে ২০১৮ সালে হ্যাম্পশায়ার এবং ২০১৯ সালে কেন্টের কাছে লোনে ছেড়ে দেয় মিডলসেক্স। এ দুইটি কাউন্টিই ছিলো ডিভিশন-১ এর দল। কিন্তু মিডলসেক্স তখন দ্বিতীয় টায়ারে খেলে। যা কি না ক্লাবের সঙ্গে রেইনারের সম্পর্কের অবনতিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

তবু রেইনারের আশা ছিলো, নতুন মৌসুমে হয়তো মিডলসেক্সেই খেলতে পারবেন তিনি। কিন্তু গত মৌসুম শেষে তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মিডলসেক্স। যার ফলে ক্রিকেট খেলাটিই ছেড়ে দিলেন দীর্ঘদেহী এ অফস্পিনার।

নিজের অবসরের খবর নিশ্চিত করে উইসডেনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রেইনার বলেন, ‘তারা জানালো যে, আমাকে লোনে ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। আমি তখন ভাবলাম, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিষয়গুলো আরও ভালো হতে পারত নিশ্চিতভাবেই।’

এসময় নিজের সেরা মৌসুমের স্মৃতিচারণ করে রেইনার আরও বলেন, ‘পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই আমি নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলাম। পেস বোলিংবান্ধব কন্ডিশনেও আমি দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে বোলিং করতাম। আমার মনে হয় না বিরুদ্ধ কন্ডিশনে আমার কখনও সমস্যা হয়েছে।’

‘২০১৬ সালে আমার বোলিংটা কাজে লেগেছে। পুরো ক্যারিয়ারে যখনই আমি ভালো সময়ের মধ্যে গিয়েছি, তখন আমাকে উইকেট নেয়ার হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে। সেই মৌসুমে জুটি ভাঙার জন্য আমাকেই ডাকা হতো। অ্যাডাম ভোজেস লাঞ্চ ব্রেকের আগে আমার হাতে বল তুলে দিতো, ভালো করলে তা চলতেই থাকতো।’

প্রায় ১৩ বছরের ঘরোয়া ক্যারিয়ারে ১৫১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ৩১৩ উইকেট। এছাড়া ব্যাট হাতে দুই সেঞ্চুরিতে করেছেন ৩৪৩২ রান। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের দলে ঢোকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রেইনার। কিন্তু শেষপর্যন্ত আর সুযোগ পাননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার।


এম/এইচ/টি

ইসলামী জীবন

আসুন, কোয়ারেন্টাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই: তুহিন মালিক

নিউজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন করোনা মহামারীতে আক্রান্ত। তখন আমরা যারা সুস্থ আছি। নিরাপদে আছি। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালার অনেক বড় এক নিয়ামত। সবাই এখন হোম কোয়ারেনটাইনে। এই যে অখন্ড অবসর। এই যে সুস্থতা। এটাও আল্লাহর এক অপার নিয়ামত। অথচ, অনেককেই দেখছি হা হুতাশ করছে। তাদের নাকি সময় কাটে না। বোরিং লাগছে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন- দুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ধোঁকার মধ্যে রয়েছে- ১. সুস্থতা ২. অবসর (সহীহ বুখারি- ৬৪২২)।
 
অনেকেই এ দুই নেয়ামত একসঙ্গে পায় না। একদিকে কারো একফোঁটা অবসর নেই। অন্যদিকে কেউ আবার সারাক্ষন অবসরে আছেন সত্য, তবে তিনি হয়ত ভীষন অসুস্থ। তাই, আমরা আজ এ দুটো নেয়ামতকে একসঙ্গে পেয়েও যেন এর সুযোগ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত না করি।

এতদিন আমরা যারা ব্যাস্ততার কারনে পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি। সন্তানকে আদর-ভালোবাসা বা সময় দিতে পারিনি। ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনের খোঁজ খবর নিতে পারিনি। নিজে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সন্তানকে কোচিং এর পেছনে ছেড়ে দিয়েছি। ঘরের কাজে কখনও সহায়তা করিনি। বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানরা একসাথে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়নি। এই সুস্থতা, এই অবসর, এই নেয়ামতকে আজকে সঠিকভাবে ব্যবহারের সময় চলে এসেছে।

আমরা যারা আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআন শিক্ষা নেয়ার সময় পাইনি। এই কোয়ারেনটাইন আমাদের জন্য অভাবনীয় এক মহা সুযোগ। আসুন, কোয়ারেনটাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

প্রবাসী কমিউনিটি

সিঙ্গাপুরে আরও ২ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত

নিউজ ডেস্ক :
সিঙ্গাপুরে আরও দুই বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ নিয়ে সিঙ্গাপুরে সাত বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এদের মধ্যে চার জন সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে চলতি মাসের প্রথম দিকে  হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত দুই বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করেন। তারা দুজনই লং টার্ম পাসধারী। ২৬ মার্চ এদের এক জনের আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২৮ বছরের ওই ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় তার ক্রমিক ৭১০। আক্রান্ত অপর বাংলাদেশির বয়স ৩৩। ২৭ মার্চ তার আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনিও স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। তালিকায় তার ক্রমিক ৭১৮।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এএল

লস এঞ্জেলেস

কভিড-১৯; লস এঞ্জেলেসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮; আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রাণঘাতী কভিড-১৯ (করোনাভাইরাসে) লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মরণব্যাধী এই ভাইরাসে নতুন করে প্রাণ হারায় ১৩ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে এখনো পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হন ৫৩৪ জন। এর মধ্যে লং বীচ এলাকায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন ১৩৯ জন ও পাসাডেনা এলাকায় আক্রান্ত হন ৩৭ জন। লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে।

খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটিতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ‘লিটল বাংলাদেশ’ এলাকায় এখনো পর্যন্ত মারা যায় ৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ১ জনের মৃতের খবর পাওয়া যায়।

আজ বৃহস্পতিবার কাউন্টিতে ভাইরাসটি সংক্রমণের এই সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে এলএ কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ। তাছাড়া, আজ দুপুর ১টায় লস এঞ্জেলেস কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক বারবারা ফেরার জানান, মৃতদের মধ্যে ১২ জনের বয়স ছিল ৬৫ বৎসরের উপরে। সেইসাথে তাদের নানা স্বাস্থ্য জটিলটা ছিল। আর ১ জনের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৬৫ টির মধ্যে।

গতকাল তিনি জানান, এলএ কাউন্টিতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের হার এখনো পর্যন্ত ১.৮ শতাংশ। বারবার এই মৃত্যুহারকে দেশটির জাতীয় মৃত্যুহারের চেয়ে কিছুটা বেশি বলে উল্লেখ করেন।

তাছাড়া, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে ক্যালিফোর্নিয়াতে এখনো পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৩ জন। আর ভাইরাসের কবলে প্রাণ হারান ২৪০ জন। এর মধ্যে এলএ কাউন্টিতে মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৫ জন, মৃতের সংখ্যা ৭৮ জন।

অরেঞ্জ কাউন্টিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মোট আক্রান্ত ৬৫০ জন, আর মারা যায় ১৩ জন। রিভারসাইড কাউন্টিতে মোট আক্রান্ত ৪২৯ জন, মৃতের সংখ্যা ১৩ জন। সান ভারনারডিনো কাউন্টিতে মোট আক্রান্ত ২৫৪ জন, মৃতের সংখ্যা ৬। ভেনটুরা কাউন্টিতে মোট আক্রান্ত ১৬০ জন, মোট মারা যায় ৫ জন। আর সান ডিয়েগো কাউন্টিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪৯ জন, মারা ১৫ জন।

আর যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৭৭ জন। আর মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৭০ জন।

লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী সকল বাংলাদেশি বাঙালিকে নগর প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশ মেনে নিরাপদে ঘরে থাকার আহ্বান। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। একসাথে মিলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করি। সেইসাথে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি, ক্যালিফোর্নিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ আপডেট দেখতে চোখ রাখুন লস এঞ্জেলেসের বাংলা মুখপত্র এলএ বাংলা টাইমসে।অনুরোধে লস এঞ্জেলেস বাংলা টাইমস। 
 

বিনোদন


করোনায় মারা গেলেন ‘কাইশ্যা’

নিউজ ডেস্ক : জাপানিজ কমেডিয়ান কেন শিমুরা। বাংলায় ডাবিং করা অনেক ভিডিওতে তার নাম ‘কাইশ্যা’ বলে প্রচার করা হয়। এই কমেডিয়ান আর নেই। তিনি করোনাভাইরাসে

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


লেবু সতেজ থাকবে মাসজুড়ে

নিউজ ডেস্ক : অনেকেই লেবু ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন না, অভিযোগ করেন যে লেবু ফ্রিজে রাখলে শুকিয়ে যায়। তবে লেবু দীর্ঘদিন তাজা রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখার বিকল্প নেই।

বিস্তারিত


লন্ডন

যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের গণকবরে সমাহিত করা হতে পারে!

নিউজ ডেস্ক :

ইউনিভার্সিটি অফ হডার্সফিল্ড এর গবেষকদের একটি দলের অভিমত, প্রাণহানীর ঘটনা বৃদ্ধি পেলে তা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের পরিষেবাগুলি ভালোভাবে প্রস্তুত নয়। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের মহামারীতে (পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মৃতদেরকে গণকবরে কবর দিতে বাধ্য হতে পারে।

তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে কোভিড-১৯-এ সংক্রামিতদের মধ্যে মৃত্যুর হার যদি এমনকি ১ শতাংশ পর্যন্তও পৌঁছে যায় তবে দাফন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলি ব্যাহত হতে পারে। মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া, জানাজার পরিষেবা প্রদান এবং এমনকি কবরের স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের অভিমত,সীমিত কবরস্থানও একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। যার ফলে গণকবরের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছ।

গবেষক ড. জুলিয়া মেটন, ড. আন্না উইলিয়ামস এবং  হেলেন-মেরি ক্রুগার স্বীকার করেছেন যে, এটি 'অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। এটা অনেক সম্প্রদায়ের মন খারাপ ও ক্রুদ্ধতার বিষয় হবে'। তারা বলছেন,  গণকবরের বিষয়টা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির বিষয় হয়ে দাড়াবে।

সম্প্রতি বার্মিংহাম বিমানবন্দরের একটি অংশকে কমপক্ষে ১,৫০০ মৃতদেহের জন্য অস্থায়ী কবরস্থানে পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর এ ধরনের বিবৃতি আসলো।

এদিকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, মহামারীর বিস্তার যেহেতু বাড়ছে তাই কবর দেয়ার 'সক্ষমতা সম্প্রসারণের সুযোগ' বাড়াতে হবে।


এম/এইচ/টি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

মক্কা-মদিনায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ

নিউজ ডেস্ক : রোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় এবার ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ১৬ জন।

এর আগে মক্কা, মদিনা, জেদ্দা ও রিয়াদে বেলা ৩টা থেকে সকাল ৬ পর্যন্ত কারফিউ  জারি ছিল। এছাড়া সৌদির অন্যান্য অঞ্চল থেকে এই চারটি এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীরা এই কারফিউর আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্থানীয়রা খাদ্যপণ্য কেনা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারফিউ চলাকালে ছাড় পাবেন। এ সময় মক্কা  ও মদিনার বাসিন্দারা তাদের গাড়িতে কেবল এক জন সঙ্গী রাখতে পারবেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এমই

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


কীভাবে সামলাবেন দুরন্ত শিশু?

নিউজ ডেস্ক : সন্তানের দুরন্তপনায় হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরতে হবে বাবা-মাকে। শিশুর সঙ্গে রাগ দেখালে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জেনে নিন দুরন্ত শিশুকে

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

কর্মহীনদের আহার জোগাতে অনলাইন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে অনলাইনে সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশি কনটেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জাস্ট স্টোরিজ।

বুধবার (০১ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘আহার-এ জীবন’ শীর্ষক কার্যক্রমে যারা অংশ নেবেন তাদের কাছে থেকে শুকনো খাবার সংগ্রহ করে সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে পৌঁছে দেবে একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। এতে নগদ অর্থও দেওয়া যাবে।

কার্যক্রম নিয়ে জাস্ট স্টোরিজ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত আর খেটে খাওয়া মানুষগুলো সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। থমকে গেছে তাদের উপার্জনের পথগুলো। সমাজের সেই মানুষগুলোকে সাহায্য করার জন্য স্বাবলম্বী মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সামাজিক উদ্যোগটির কর্মীরা বলেন, অনেকেই চাইছেন সাহায্য করতে, কিন্তু পারছেন না। তাদের জন্য আমাদের ‘আহার-এ-জীবন’ এর ভলান্টিয়ার বাহিনী কাজ করছে।  শুকনো খাবার যেমন চাল, ডাল, তেল, ডিম, পেয়াজ, আলু এরকম শুকনো খাবার স্বেচ্ছাসেবকরা নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে নিয়ে আসবে।

প্রতি সপ্তাহের সোম আর মঙ্গলবার, যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে  শুকনো খাবার সংগ্রহ করা হবে।  এই সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যাবে ইন্টারনেটের এই ঠিকানায়- aharejibon.juststorys.com।

এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

সুস্থ থাকুন

বরফ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাস

নিউজ ডেস্ক : যুগ যুগ ধরেই মানুষ আর ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া পাশাপাশি বাস করে চলেছে। মানুষ যতবারই নানারকম প্রতিষেধক আবিষ্কার করে, ওষুধ আবিষ্কার করে তাদের প্রতিহত করতে চেয়েছে, বরাবরই তারা জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরে ফিরে এসেছে।

ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে মানুষের এই যুদ্ধ অপরিসীম। এখন প্রশ্ন হল যদি এমন কিছু মাইক্রোবসের সম্মুখীন আমাদের হতেই হয়, হাজার হাজার বছর আগে যাদের অস্তিত্ব এই বিশ্ব থেকে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল?

তাহলে কি সেই সমস্ত প্রাণঘাতী মাইক্রোবসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা? নাকি আরও একবার মৃত্যু-মিছিল শুরু হবে বিশ্বে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন দিন কিন্তু আসতে চলেছে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ায় ১২ বছরের এক শিশুর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন, বহু বছর আগে ওই এলাকায় অ্যান্থ্রাক্সের কবলে প্রচুর রেনডিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দেহগুলো বরফের নীচে চাপা পড়েছিল।

বিশ্ব উষ্ণায়নে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহে চাপা পড়ে থাকা জীবাণু বাইরে বেরিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনোভাবে পানি এবং খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়েই ওই শিশুর সংক্রমণ ঘটায়।

শুধু এই একটা ঘটনাই নয়, গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন। এর দু’বছর পর ২০০৭ সালে আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লক্ষ বছর পুরনো এক ব্যাক্টেরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।

১৯১৮ সালে সারা বিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছিল স্প্যানিস ফ্লু। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই সংক্রমণের জেরে। আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের তলার গণ কবর দেওয়া হয়েছিল মানুষদের। সেই জায়গা থেকেই স্প্যানিস ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এমনকী একইভাবে সাইবেরিয়ায় বরফের তলা থেকে গুটি বসন্ত এবং বিউবোনিক প্লেগ-এর ভাইরাসও মিলেছে। ১৮৯০ সালে সাইবেরিয়াতে মহামারি আকার নিয়েছিল গুটি বসন্ত। ৪০ শতাংশ জনবসতি সাফ হয়ে গিয়েছিল এই রোগে।

ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোবসের জন্য খুব ভাল সংরক্ষকের কাজ করে বরফের স্তূপ। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা, কোনও অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।

পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এই সমস্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়াও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

এই নিউইয়র্ক আমি চাই না

ইশতিয়াক রূপু : আসছে গ্রীষ্মে আমার নিউইয়র্কে বাসের এক যুগ পূর্ণ হবে। বেশি দিন ধরে নিউইয়র্কে বাস করছেন এমন কেউ হয়তো বলবেন, এক যুগ তথা ১২ বছর এমনকি সময়? যা নিয়ে ঘটা করে কিছু বলতে বা লিখতে হবে। তা আমারও জানা। তবুও নিউইয়র্ক ঘিরে আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে নিজ অভিব্যক্তি লেখা উচিত বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।
আমেরিকাতে আসা অভিবাসীদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো—অভিবাসীদের বয়ে নিয়ে আনা বিমানটি যে শহরে অবতরণ করবে, অধিকাংশ প্রবাসীদের জীবনগল্পের শুরু এবং শেষ এই শহরকে নিয়েই। নিজ জীবন নাটকের চিত্রনাট্য লেখা ও মঞ্চস্থ হয় সেই প্রথম আসা শহরে। সে ক্ষেত্রে আমার চিত্রনাট্য বেশ ব্যতিক্রম। ২০০৬ সালে আমেরিকা এসে উঠলাম ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ভাইয়ের বাসায়। নিজের চাকরিসহ সন্তানদের লেখাপড়ার শুরু হলো বেশ ভালোভাবে। তবে এমনতর পরিবেশ আমার প্রথমে মোটেই ভালো লাগেনি। একঘেঁয়ে যাপিত জীবন। মনে শান্তি নাই। গতানুগতিক জীবন বাস। সকালে উঠে কাজে যাও। বিকেলে কাজ থেকে নিজ বাসায় টিভির সামনে বসে সময় কাটানো অথবা কোন স্বজন অথবা ভাই–ভাবিদের নিয়ে স্বল্প সময়ের নিরামিষ আড্ডা। প্রতিদিন ভাই–ভাবির একই চেহারা দেখে দেখে অনেকটা অসহায় হয়ে একদিন ভাবিকে বললাম, ভাবি আগামীকাল যদি পারো একটি মুখোশ পরে আস। তখন হয়তো আমার মনে হবে নতুন একটি চেহারা দেখতে পেলাম।
পাঠকেরা হয় তো ভাবছেন, আমি একজন বোহিমিয়ান টাইপের কেউ। আসলে তা নয়। দেশে থাকতে আমি প্রায় প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক সমাবেশ ও খেলাধুলায় সংযুক্ত থাকতে ভালোবাসতাম। যা এখানে এসে পুরোপুরি পাওয়া ছিল দুষ্কর। তবে বর্তমানে আমেরিকার সর্বত্র অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক উৎসবের কমতি নেই। অনেক স্থানে তা বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ বটে। নিউইয়র্কের বন্ধু–বান্ধব, অনেক চেনা স্বজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ থাকাতে নিউইয়র্কের সব সামাজিক অনুষ্ঠানের হালনাগাদ খবর বরাবর পেতাম। বছরব্যাপী আয়োজিত সব উৎসবসহ আঞ্চলিক নির্বাচন আয়োজনের খবর শুনে মন খুবই খারাপ হতো। ভাবতাম যদি নিউইয়র্কে অভিবাসী জীবন শুরু করতাম, সবাইকে এভাবে এক সঙ্গে পেতাম।
নিউইয়র্কে ফিরে আসার ইচ্ছে ও আকুলতা একেবার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসায় কোন পূর্বপরিকল্পনা না করেই হট করে চলে এলাম ভালোবাসা আর স্বপ্নের নিউইয়র্ক শহরে। কুইন্সের উডসাইডে তিন রুমের বাসা ভাড়া নিলাম একটু আয়েশে থাকার অভিপ্রায়ে। নিউইয়র্ক বাসের প্রথম দিন বাসার পাশে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা উডসাইডে নিউইয়র্কের বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নগরজুড়ে তিনটি ভোট কেন্দ্রের একটি উডসাইড। সেখানে উপস্থিত হয়ে একেবারে হতবাক। কেন্দ্রের চারপাশে সিলেটী অভিবাসী ছাড়াও নিউইয়র্কে বসবাসরত অন্যান্য জেলার নেতৃবৃন্দ সদলবলে উপস্থিত। পুরো এলাকা দেশীয় স্টাইলে ভোট প্রদানের পরিবেশে উৎসবমুখর। সেই আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ দেখা আমার একজন আত্মীয়ের সঙ্গে, যিনি আমাকে ম্যারিল্যান্ডেও দেখেছিলেন। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, আজ দেখি আপনি ভীষণ খোশমেজাজে আছেন! আপনি পুরোই বদলে গেছেন। উত্তরে বললাম, সুবোধ বালকেরা নীরব বনে সুন্দর, আড্ডাবাজরা রাস্তার মোড়ে। হেসে উত্তর দিলেন, দারুণ বললেন ভাইজান।
প্রথমে মাসখানিক গেল আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত নিমন্ত্রণের আবদার রক্ষা করতে করতে। চাকরি নিয়ে সবার নানা পরামর্শ আর উপদেশের কমতি নেই। তবে আমি একটু বেশি নিশ্চিত হয়ে বসে রইলাম। ধারণা ছিল, নিউইয়র্কের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র রাজ্য ম্যারিল্যান্ডে চাকরি পেলাম অল্প কয়দিনে। আর নিউইয়র্কের মত শহর যেখানে হাজার হাজার সেবা প্রতিষ্ঠান আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় চারদিক ঘেরা, সেখানে সামান্য উদ্যোগে আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু ২০০৯ সালের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সারা দেশে তখন চলছে স্মরণকালের ভয়াবহ মন্দা। শত শত প্রতিষ্ঠানে চলছে লে অফ। কোথাও কর্মচারী ছাঁটাই প্রক্রিয়া। যেখানেই যাই, সবাই বলে দুঃখিত ‘নো হায়ারিং’।
বেশ কয়েক দিন এখানে–সেখানে নানাজনের রেফারেন্স নিয়ে ঘোরাফেরা করে কোন লাভ হল না। এদিকে জমানো ডলারে চলছে লাল সিগন্যাল। বাধ্য হয়ে দেশে রাখা ভালো পরিমাণের টাকাকে ডলার বানিয়ে আনা হল নিউইয়র্কে। এভাবে বছরের কিছু কম সময় চলার পর পাওয়া গেল মোটামুটি মধ্যম আয়ের চাকরি। সন্তানেরা কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা শুরু করল খণ্ডকালীন কাজ। দ্রুত আমরা পরিবারের সবাই নিউইয়র্কের ‘লাইফ লিভ নাইসলি’ ট্র্যাকে চড়ে বসলাম, যা চলতে লাগল তার নির্দিষ্ট গতিতে। জীবন ক্রমে সুন্দর আর আনন্দ অনুভবে চলমান হলো নানা আয়োজনে আর উৎসবে।
দিন–রাত নির্ঘুম শহর নিউইয়র্কের উৎসব আর আনন্দে সময় কাটানোর নানা রূপ ধীরে ধীরে নিজেই দেখতে পেলাম। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে সাত আর বছরে ৩৬৫ দিন পুরো সময় নিউইয়র্কবাসী ছুটছে। আমেরিকার মেডিকেল জার্নালে খবর বেরোল, আমেরিকার সব রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে নিউইয়র্কবাসীর গড় আয়ু বেশি। কারণ লোকজন পায়ে হেঁটে বেশি চলাচল করে, শারীরিক ব্যায়াম করতে জিমে সময় কাটায়। তা ছাড়া বছরব্যাপী নানা ধরনের ছোট–বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মনোরঞ্জনের শতভাগ পূর্ণ করতে পারে, যা অন্যান্য রাজ্য কিছুটা হলেও সীমিত।
নিউইয়র্ক আসতে না আসতেই শুরু গ্রীষ্মকালীন নানা উৎসব, মেলা আর বনভোজন। বয়স ভেদে সব অভিবাসী, জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ছুটছেন রাজ্যের নানা অবকাশযাপন কেন্দ্রে। বাঙালিরা দল বেঁধে বাস ভাড়া করে গান গাইতে গাইতে চলছেন সাগর তীরের নির্ধারিত পিকনিক স্পটে। ছোট বড় সবার কী যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এত সবের পাশাপাশি স্থানীয় ও জেলাভিত্তিক সামাজিক সমিতির আয়োজনে ঈদ ও পূজা পুনর্মিলনী, ইফতার পার্টিসহ দেশ থেকে আগতদের ঘটা করে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সব জায়গায় প্রবাসীদের মিলন মেলা। যেখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎসহ মনের ভাব বিনিময়ে সবাই যেন উন্মুখ হয়ে থাকেন প্রবাসীরা।
সেই চিরযৌবনা আর ভালোবাসার ফুলেল সৌরভ নিয়ে যে, নিউইয়র্ক শহর সারাক্ষণ মেতে থাকতম, কলকল আওয়াজে আনন্দের জলস্রোতে পরিপূর্ণ থাকত দুপুরে, বিকেলে আর সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকার হিলসাইড আর ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারের কালো পিচঢালা জনপদে, আজ কিনা সেই মুখরিত জনপদ আর শত শত কবি সমাজসেবক আর রাজনীতিবিদদের চায়ের কাঁপে ঝড় তোলা আড্ডার দেখা মিলে না। জ্যাকসন হাইটের ১৫/২০টি ব্যস্ত খরিদ্দারের পরিপূর্ণ খাবার দোকানের সব চেয়ার উল্টিয়ে রাখা। এক কাপ চা নিতে যেখানে লাইনে দাঁড়াতে হতো, আজ সেই লাইন উধাও। সব ধর্ম–বর্ণসহ নানা গোষ্ঠী আর গোত্রের মিলন স্থল বলে দুনিয়া জোড়া ইতিমধ্যে সুখ্যাতি পাওয়া জ্যাকসন হাইটের ডাইভারসিটি প্লাজা আজ নীরব, নিস্তব্ধ। শূন্য চত্বরে অভিবাসীরা হিমশীতল ঠান্ডায় ধূমায়িত চায়ের কাপ নিয়ে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে না। সবাই আজ নিজ গৃহে স্বেচ্ছাবন্দী।
যে নিউইয়র্কের রাস্তায় রোড রেইজ (পথ বিবাদ) ছিল নিয়মিত আর স্বাভাবিক দৃশ্য, আজ সেই ব্যস্ত বি কিউ হাইওয়ে, হিলসাইড অ্যাভিনিউসহ নগরের অধিকাংশ রাজপথ সুনসান নীরব, ভীষণ ফাঁকা। যা আমার এক যুগের নিউইয়র্ক বাসে কখনো চোখে পড়েনি, যাই দেখি তাই মনে হয় অবিশ্বাস্য। যা ভুলেও কখনো নিজ ভাবনায় আসেনি। চারদিকে আতঙ্কের চাহনি, আগামীর অনিশ্চিত দিন–রাত, কত দিন থাকবে করোনার এই তাণ্ডব। প্রাণ সংহারের এই অজেয় দৈত্যের কবলে কার হবে জীবননাশ, সেই রূপ হাজারো ভাবনা আর উৎকণ্ঠায় নিউইয়র্ক নগরে আনন্দহীন নগরীতে রূপান্তরিত হতে চলছে। ভালোবাসার নিউইয়র্কে আজ শুধু ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। কী হবে আজ অথবা আগামীকাল? সে জিজ্ঞাসার ভার নগরবাসীর নিকট বড্ড ভারী লাগছে। সেই ভার সইতে হবে কত দিন কে জানে? ভালোবাসার আর কর্মচঞ্চল নিউইয়র্ক নগর ফিরে আসুক আগের সেই রূপে, এই মুহূর্তে ৬০ লাখ নিউইয়র্কবাসীর একমাত্র কামনা সেটি বলেই আমার বিশ্বাস।
-প্রথম আলোর সৌজন্যে

টুকিটাকি খবর

করোনা আক্রান্তদের জন্য কয়েকটি টিপস

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাস দিনকে দিন বিশ্বে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। এ রোগের কারণে একে একে মৃত্যুর দুয়ারে গেছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। মহামারি এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। দেখা যাচ্ছে, এ রোগে দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধদের মধ্যেই বেশি। চীন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃদ্ধদের, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এরই মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন বয়স্ক ব্যক্তিরাই।

বয়স্কদের মধ্যে দুর্বল প্রতিরোধক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে কোভিড–১৯ সহজেই তাঁদের আক্রান্ত করে। বৃদ্ধদের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্তের ঝুঁকিও বেশি। কেন বৃদ্ধরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এর সঠিক কারণ কেউই এখন পর্যন্ত বলতে পারছেন না। এটা হতে পারে বয়সজনিত কারণে। কারণ, এ সময় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। এ জন্য তাঁরা কোনো রোগ বা জীবাণুর সঙ্গে লড়তে পারেন না।

৬৫ বছর বা এর ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁদের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হার্টের সমস্যা, ক্যানসার, হাঁপানির মতো সমস্যা থাকলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিপজ্জনক করোনাভাইরাস।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বলা হয়েছে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিরা, যাঁদের দৈহিক বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, তাঁরা যেন জনসমাগম এলাকা এড়িয়ে চলেন। তাঁরা যেন বাড়িতে থাকেন। বয়স্কদের সাবধানে কীভাবে রাখবেন, এর জন্য কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত রাখা
দরকারি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকে কিনে বাসায় রাখতে হবে। বাসার বৃদ্ধরা দুর্বল ও দীর্ঘদিন অসুস্থ হলে আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সুপারিশ করেছে, বেশ কিছু সপ্তাহের ওষুধ ও অন্যান্য জিনিস বাড়িতেই যেন রাখা হয়। সিডিসি তাদের নাগরিকদের বলেছে, প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা পণ্যের সরবরাহগুলো আগে থেকে মজুত করে রাখুন। প্রিয়জনদের কী কী ওষুধ প্রয়োজন, তার খেয়াল পরিবার যেন রাখে। বাসার বয়স্কদের দিকে একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।

পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ২০ সেকেন্ড ধরে নিজেদের হাত সাবান–পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পরামর্শ করোনাভাইরাস সচেতনতার জন্য সবাই দিচ্ছেন। যদি হ্যান্ডওয়াশ-পানি না থাকে, সে ক্ষেত্রে স্যানিটাইজার দিয়েও হাত ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের জায়গাও যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে হবে। নিয়মিত বাড়ি ও কাজের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। এমনকি ইলেকট্রনিকসের জিনিসগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

কোনো জিনিস শেয়ার নয়

যৌথ পরিবারে সবাই একসঙ্গে থাকেন। একেকজনের ঝুঁকি একেক ধরনের হতে পারে। এ রকম অবস্থায় সবারই ঝুঁকি রয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, একই পরিবারে বৃদ্ধ ও শিশুরা থাকে। তাদের এই সময়ে বা মাঝেমধ্যে সর্দি-কাশি হয়। সে ক্ষেত্রে পরিবারের উচিত ব্যক্তিগত সব জিনিস এই মুহূর্তে আলাদা ব্যবহার করা। যেমন খাবার, পানির বোতল, বাসন-কোসন। প্রয়োজন হলে বাড়ির একটি আলাদা ঘরে অসুস্থ সদস্যকে রেখে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থাও করলে আরও ভালো হয়।

অনেক বৃদ্ধই আছেন, যাঁরা একা একা থাকেন। সে ক্ষেত্রে কীভাবে তাঁরা নিজেদের যত্ন নেবেন, সে বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিতে হবে। ফোন বা ই–মেইল কীভাবে ব্যবহার করবেন, জরুরি ফোন নম্বর, চিকিৎসকের নম্বর সব যেন হাতের কাছে থাকে।

আতঙ্ক নয়, আলোচনা করুন

অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রতিবেশী, পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কেউ আক্রান্ত হলে আগাম প্রস্তুতি কী হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করে রাখুন। কোভিড-১৯ সম্পর্কে যতটা সম্ভব সচেতনতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটা আরও প্রয়োজন। তাঁরা যাতে কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না বের হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বৃদ্ধদের আশ্বস্ত করুন যে এ রোগে ভয়ের কিছু নেই।

চিকিৎসকদের পরামর্শ মানুন

করোনা নিয়ে আতঙ্ক না বাড়িয়ে চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ মেনে চলাই শ্রেয়। কিছুদিন বৃদ্ধদের বাড়ির বাইরে বের হতে না দিয়ে বাড়িতেই রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ফিট থাকার শরীরচর্চা এই সময় তাঁরা করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর খাবার এ সময় খুব প্রয়োজন। সর্দি-কাশি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

করোনার ভয়ে বিশ্ববাসী রীতিমতো একঘরে হয়ে রয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের শহরগুলো লকডাউন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নিজেদের ওয়েবসাইটে কোভিড-১৯ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছে। সেখানে এ রোগের বিষয়ে সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

তারুণ্য

মনে হচ্ছিল কেউ আমার জীবনীশক্তি চুষে নিচ্ছে: ওয়াসফিয়া নাজরীন

নিউজ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধের কথা জানান বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ও সমাজকর্মী ওয়াসফিয়া নাজরিন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লস এঞ্জেলেসে কোয়ারেন্টিনে আছেন তিনি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে বসবাস করা ওয়াসফিয়া তার পোস্টে জানান, স্থানীয়রা খাবার কিনে মজুদ করায় সেখানকার সুপারমার্কেটগুলোতে খাবার পাওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। তিনি নিরামিষভোজী, কিন্তু বাজারে নিরামিষ জাতীয় খাবার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) জাতীয় খেয়েছেন তিনি।

শর্করা জাতীয় খাবার খেলে শরীরে ভাইরাসের বিস্তার বাড়ে যা তিনি জানতেন না। ফলস্বরূপ তার ফুসফুসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘গত শনিবার আমি খুব কষ্ট করে শ্বাস নিচ্ছিলাম এবং সকাল বেলা (চিকিৎসকের হস্তক্ষেপের আগ পর্যন্ত) আমার মনে হচ্ছিল কেউ আমার মুখের মধ্য থেকে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে সমস্ত বাতাস / জীবনীশক্তি চুষে নিচ্ছে।’

তিনি আর লিখেন, তার শ্বাসকষ্ট কাটিয়ে উঠতে গতকাল সারাদিন লেগে যায়। ওষুধ, প্রোটিন সেবন এবং ডাক্তারদের বিস্ময়কর যত্নের পর তিনি একটু সুস্থ হন। তবে তিনি এখনো খুবই দুর্বল। তার পুরো মস্তিষ্ক, মাথা, ঘাড় এবং দেহের অন্যান্য জায়গায় ক্রমাগত ধড়ফড় করছে।

চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. জিন নামে এক চীনা চিকিৎসকের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ওয়াসফিয়া। তিনি বলেন, ‘তার (ডা. জিন) অন্তর্দৃষ্টি এবং অলৌকিক ভেষজ প্রয়োগ না করলে হয়তো আমি এখন জীবিত থাকতাম না।

ওয়াসফিয়া আরও লিখেন, এখন আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো শতভাগ অক্ষত ফুসফুস নিয়ে এ ভাইরাস জয় করা। এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা অনেকের ফুসফুসের প্রায় প্রায় ৪০-৬০% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে ফুসফুস থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ দূর হয়, তাহলে শতভাগ সুস্থ হতে হয়তো আর মাসখানেক লাগবে বলেও জানান বাংলাদেশি এই পর্বতারোহী।

সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সুরক্ষিত থাকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা খাদ্যতালিকা থেকে এমন জিনিস বাদ দিন যা এই ভাইরাসকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, প্রোটিন খান বেশি করে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সামাজিক-দূরত্বের বজায় রাখার সময়ে নিজেকে খুশি রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পানি পান করুন, প্রার্থনা করুন, ধ্যান করার পরামর্শ দেন ওয়াসফিয়া।

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক