যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 10:58pm

|   লন্ডন - 05:58pm

|   নিউইয়র্ক - 12:58pm

  সর্বশেষ :

  ভারতে শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব পাশ   দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপক বিক্ষোভ   প্রিয়তোষ সাহার অপসারণের দাবিতে লস এঞ্জেলেসে মানববন্ধন, প্রতিবাদ   টুইন টাওয়ার হামলার সন্দেহভাজন সিরিয়ায় গ্রেফতার   ঢাবির হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম   খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘প্রচণ্ড খারাপ’: ফখরুল   টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী তালিকায় নেই পুতিন-এরদোয়ান-মোদি   ১৪০ দিনে হাতে লিখলেন পুরো কোরআন   কারাগার ছাড়তে চাচ্ছে না কয়েদিরা!   ত্রিভূবনে ফের ১৩৯ যাত্রী নিয়ে ছিটকে পড়ল বিমান   কুইন্স বাংলাদেশী সোসাইটির নতুন কার্যকরি কমিটি ঘোষণা   বড় পরিবর্তনে ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা   কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের বর্ষবরণ   নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা   লন্ডনে বিক্ষোভের মুখে মোদি

স্বদেশ


ঢাবির হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বের করে দেয়া ছাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছে

২০১৮-০৪-২০ ১৪:৩৪:১৯

বহিঃ বিশ্ব


ভারতে শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব পাশ

১২ বছরের নীচে শিশু ধর্ষণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব পাশ করল ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী

২০১৮-০৪-২১ ১২:৫৮:১৫

লস এঞ্জেলেস


হলিউডে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

আনন্দঘন পরিবেশে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগ গত ২৬শে মার্চ ২০১৮,সোমবার সন্ধ্যায় লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগ এবং ভ্যালী আওয়ামী

২০১৮-০৩-৩০ ০৫:৪৩:৩০


নিউইয়র্ক


নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলি হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও এ্যাসেম্বলী হাউসে আন্তর্জাতিক আবহে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৭ মার্চ মঙ্গলবার

বিস্তারিত

ইউরোপের খবর


ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনায় ব্রাসেলসে থেরেসা মে

নিউজ ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি করতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গেছেন ব্রিটিশ

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

বিসিবির চুক্তি থেকে বাদ সৌম্য-তাসকিন-সাব্বির

নিউজ ডেস্ক : ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ছে।  কয়েকদিন আগে এমন একটি খবর বের হয়েছিল।  তারপর থেকেই গুঞ্জন ছিল চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে ২ জন।  এরপর শোনা গেলো, ৪ জনকে বাদ দেয়া হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে।  ১৬ থেকে নামিয়ে সংখ্যাটা করা হচ্ছে ১২ জনে; কিন্তু গুঞ্জনের এটাও ঠিক হলো না।  মোট ৬ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে।  বাদ পড়া ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ এবং সাব্বির রহমান।

শুধু ৬জন কমানোই নয়, ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর যে গুঞ্জন ছিল, সেটাও সত্য হয়নি।  নতুন চুক্তিবদ্ধ ১০ ক্রিকেটারের কোনো বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়নি।  বুধবার বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ ঘোষণা দেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন।

ইসলামী জীবন

নবীদের আমল ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতের সুযোগ

মঈনুল আহসান : আল্লাহর ইবাদতের ভিত্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তারপরই রয়েছে রোজা, যাকাত ও হজ্জ। যথাযথ নিয়ম মেনে এই ইবাদতগুলোর অনুশীলনে আমরা বাধ্য। তবে নির্ধারিত পরিমাণের বাহিরেও এই ইবাদতগুলো করা যায় এবং তা করেও থাকেন অনেকেই। ইবাদতগুলোর অতিরিক্ত অনুশীলন অনেকটাই সেই আদর্শ ছাত্রের মত যে কিনা ক্লাসে নিয়মিত হওয়ার পরও বাড়িতে বসেও পড়াশোনা করে সময় নিয়ে, একাগ্রতার সাথে। শুধু পরীক্ষায় পাশ করাই এদের লক্ষ্য থাকে না বরং তাদের ভাবনায় থাকে আরও ব্যাপক সফলতা। এদের মেধাকে শানিত করতে শিক্ষকরা ইচ্ছা   করেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষা ও প্রশ্নের সৃষ্টি করে থাকেন। এগুলোই বিশেষায়িত পরীক্ষা, স্পেশালাইজড প্রশ্নপত্র। আল্লাহ পাকের বিশিষ্ট বান্দাদেরকে নিয়মিত উত্তীর্ণ হতে হয়েছে এ রকম বিশেষ পরীক্ষায়। এজন্যে রয়েছে বিশেষ উত্তরপত্রও তথা বিশেষ আমল ও ইবাদত।

হযরত আদম আ:-কে বিশেষ ইবাদত করতে হয়েছিল নিষিদ্ধ ফলের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় পর। এজন্যে তাঁকে পাঠ করতে হয়েছিল ‘রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওতারহা’মনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন (সূরা ৭: আয়াত ২৩ দ্রষ্টব্য)। এটা ছিল আদম আ:-এর জন্যে নিয়মিত সব ইবাদতের বাহিরে বিশেষায়িত বাড়তি ইবাদত তথা বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষ আমল।

বিশেষ পরীক্ষা দিয়েছিলেন হযরত ইউনুস আ:-ও। সেই পরীক্ষায় পাশ করতে তাকে মাছের পেটে আটক অবস্থায় পড়তে হয়েছিল ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন (২১: ৮৭ দ্রষ্টব্য)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, ইউনুস আ: যদি ঐ আমলে ব্যর্থ হতেন তাহলে তাকে কিয়ামত পর্যন্ত থাকতে হতো সেই মাছের পেটে (৩৭: ১৪৩~১৪৪ দ্রষ্টব্য)।
উল্লেখ্য যে হযরত আদম আ: ও ইউনুস আ:-কে ঐ দোয়াগুলো যে কত লক্ষ বার পড়তে হয়েছিল তা জানা না গেলেও এটা সুনিশ্চিত যে নিজেদের ভুল থেকে মাফ পেতে দোয়া দুটো অতিশয় কার্যকর। বস্তুত সেটাই ছিল বিশেষ ঐ ইবাদতগুলোর মূল শিক্ষা। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না যে তাঁদের দোয়া পাঠের সংখ্যা উহ্য রেখে দয়াময় আল্লাহ পাক বস্তুত সবিশেষ দয়া করেছেন আমাদের প্রতি নচেৎ ঐ নির্দিষ্ট সংখ্যা পর্যন্ত পাঠ করা আমাদের জন্যেও হয়তো শর্ত হয়ে যেত।
এরকম বাড়তি ইবাদত সম্মিলিত ভাবেও করা সম্ভব। ব্যাপক মানুষ অংশ নেয়ায় সেক্ষেত্রে প্রার্থনা কবুলের সম্ভাবনাও থাকে বেশী। এমন সম্মিলিত ইবাদতের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পবিত্র আল কোরআনে বর্ণিত হয়েছে হযরত ইউনুস আ:-এর সম্প্রদায়ের ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা (৩৭: ১৪৭~১৪৮ দ্রষ্টব্য)। আল্লাহ পাকের আযাবের নমুনা দেখা মাত্রই তারা বুঝতে পেরেছিল তাদের অপরাধ, অনুতপ্ত হয়েছিল সাথে সাথেই। সবাই মিলে জান বাজি রেখে কান্নাকাটি শুরু করেছিল আল্লাহ পাকের দরবারে। মহান আল্লাহ পাক কবুল করেছিলেন তাদের সেই আন্তরিক প্রার্থনা।

এটাই বস্তুত অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টির মত ব্যাপক দুর্যোগে সবাই মিলে একত্রে নামাজ পড়া ও দোয়া করার ফর্মুলা। হজ্জের সময় আরাফাতের সম্মিলিত দোয়া এবং বিভিন্ন মজলিস ও ইজতেমা শেষের মুনাজাতও এই সূত্রের মধ্যেই পড়ে, তাই নিঃসন্দেহে মূল্যবান। উল্লেখ্য যে দুনিয়াতে হযরত ইউনুস আ:-এর সম্প্রদায়ই ছিল একমাত্র পূর্ণ জাতি যারা সবাই ঈমান এনে মুসলমান জাতি ভুক্ত হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে এই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা এক লাখের কিছু বেশী বলে উল্লেখ করা হয়েছে (৩৭: ১৪৭ দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য যে আল্লাহ পাকের নবীদের সংখ্যা এবং নবীজি সা:-এর সাহাবির সংখ্যাও ছিল এক লাখের অধিক, অধিকাংশ বর্ণনা মতে তা ছিল এক লাখ চব্বিশ হাজার।

এই সংখ্যার বার বার এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারে কারণেই একে আল্লাহ পাকে অন্যতম হেকমত পূর্ণ একটা বিশেষ সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এখান থেকেই এসেছে এক লাখ চব্বিশ হাজার বারে এক খতম হওয়ার সূত্র যা কিনা কালেমা শরিফ বা দোয়া ইউনুসে মত ছোট ছোট দোয়া-কালাম খতমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ব্যাপক ভাবে। এমন খতমের অনন্য গুরুত্ব ও অসামান্য কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ ভাবে প্রমাণিত।
সম্মিলিত ইবাদতের উদাহরণ হিসেবে পবিত্র কোরআনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে হযরত ঈসা আ: ও তাঁর সাহাবিদের ইবাদত। উল্লেখ্য হযরত ঈসা আ:-এর সহযোগী হাওয়ারিরা এক পর্যায়ে জান্নাতি খাবারের আবদার করেছিল। ঈসা আ: তাদেরকে বলেছিলেন কিছু বাড়তি ইবাদত করে তারপর আল্লাহর কাছে নিজেদের মনোবাঞ্ছা জানাতে। এজন্যে তারা রোজা করেছিলেন পুরো এক মাস। অতঃপর ঈসা আ: দোয়া করেছিলেন আল্লাহর দরবারে জান্নাতি খাদ্যের জন্য এবং আল্লাহ পাক নাযিল করেছিলেন বেহেশতি খাবার (৫: ১১২~১১৫ ও সংশ্লিষ্ট তফসির দ্রষ্টব্য)।

এটাও সম্মিলিত ও সমন্বিত ইবাদতের আরেকটি অনন্য নমুনা যেখানে নিজেদের পবিত্র চাওয়া পূরণের উপায় ও পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে সাধারণ গণ-মানুষকে। এতে এটাও প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে হলে তার আগে কিছু আমল ও ইবাদত করে নেয়া জরুরী। এটা দোয়া কবুলের একটা প্রমাণিত সূত্র। এই সূত্রের ভিত্তিতেই বোধকরি যে কোন দোয়ার আগে কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং দরূদ পড়ার বিধান প্রচলিত হয়েছে যা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকেন আলেম-ওলামা, ইমাম-বুজুর্গ থেকে শুরু করে সাধারণ মুসল্লি পর্যন্ত সবাই। 

আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কিছুর চাওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রে এই যে বিশেষ ইবাদতের ধারা তার মধ্যে হযরত জাকারিয়া আ: ও হযরত মুসা আ:-এর ইবাদতও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। জাকারিয়া আ:- এর ইবাদত ছিল বৃদ্ধ বয়সে পুত্র সন্তান লাভের অভাবিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আল্লাহ পাকের বিশেষ ঐ দয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তান লাভের স্মারক হিসেবে হযরত জাকারিয়া আ: আদিষ্ট হয়েছিলেন তিন দিন কারো সাথে কোন কথা না বলে একাধারে ইবাদত করার জন্য। খুব দরকারি কাজে ইশারা-ইঙ্গিতের অনুমতি থাকলেও মুখ খোলার অনুমতি ছিল না ঐ তিন দিন (৩: ৪০~৪১ দ্রষ্টব্য)। আল-কোরআনে গুরুত্বের সাথে এই ইবাদতের উল্লেখ করে আল্লাহ পাক মূলত এমন ইবাদতে উৎসাহিত করেছেন সাধারণ মানুষকে যাতে তারা নিজেদের জীবনে তা প্রয়োগ করে উপকৃত হতে পারে এবং লাভ করতে পারে আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত।

হযরত মুসা আ:-এর ইবাদতের ব্যাপ্তি ছিল দীর্ঘ চল্লিশ  দিন। ইবাদতটা তাঁকে করতে হয়েছিল তুর পাহাড়ের একান্ত পরিবেশে আল্লাহর কিতাব লাভের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায়। উল্লেখ্য নবুওয়ত প্রাপ্তির সময় নবীজি সা:-ও একই রকম নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের অবস্থায় ছিলেন মক্কার হেরা গুহায়। মুসা আ:-কে প্রথমে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ত্রিশ দিন রোজা করার, পরে আরও দশ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছিল পুরোপুরি চল্লিশ দিন (৭: ১৪২ দ্রষ্টব্য)। এটা চল্লিশ দিনের বিশেষায়িত বা স্পেশালাইজড ইবাদতের ফর্মুলা ও তার ব্যবহারিক উদাহরণ।

উল্লেখ্য করা আবশ্যক যে চল্লিশ সংখ্যাটা আল্লাহ পাকের অতি হেকমত পূর্ণ একটা সংখ্যা। সৃষ্টির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই চল্লিশ বা চল্লিশের গুণিতক সংখ্যার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তাই একনাগাড়ে চল্লিশটি দিন যদি কাটানো যায় টানা নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরূদে তাহলে তা যে কারো জন্যেই একটা ‘মাইল ফলক’ ইবাদত হতে বাধ্য, তা সেই ইবাদতকে চিল্লা বা চল্লিশা যে নামেই ডাকা হোক না কেন। এ রকম নিরবচ্ছিন্ন ‘প্যাকেজ ইবাদত’ দ্বারা মানুষের পবিত্র মনোবাঞ্ছা যে কিভাবে পূরণ হতে পারে তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত মুসা আ:-এর ঐ চল্লিশ দিনের বিশেষ ইবাদত।
দেখা যাচ্ছে যে তিন দিন, ত্রিশ দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতগুলো বস্তুতপক্ষে আল-কোরআনেরই বিশেষ নির্দেশনা (Recommendations), তবে ফরজ বা সুন্নাহ ভুক্ত ইবাদত নয়। একই ভাবে বিভিন্ন দোয়া-কালেমা পাঠে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার বার এবং ফাতেহার মত সূরা পাঠে চল্লিশ সংখ্যা ভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করাও পবিত্র কোরআনেরই দর্শন ভুক্ত তাই অবশ্যই তা মানুষের কল্যাণে প্রয়োগযোগ্য। ইবাদতের এই বিশাল পরিসীমা ঠিক ঠিক বুঝেছিলেন আল্লাহ-ওয়ালা বুজুর্গগণ। তাই তাঁরা জীবন জুড়ে এসব আমল করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে। বস্তুতপক্ষে এমন এক্সক্লুসিভ ইবাদত ছাড়া বুজুর্গি লাভ করাও বোধকরি সম্ভব নয়। তাঁরা সাধারণ মানুষকেও অবশ্যই লাভবান করতে চেয়েছেন একই ভাবে। তাই হয়তো  কুলখানি-চল্লিশার মত আঞ্চলিক নাম দিয়ে স্বজন হারানোর একান্ত সময়ে আমলগুলো করার উপদেশ দিয়ে থাকবেন। এভাবে নফল ইবাদতের সুযোগ খুঁজে নেয়াও বস্তুর আল্লাহ পাকেরই নির্দেশনা (৫: ৩৫ দ্রষ্টব্য)। তবে সে সব এখন পরিণত হয়েছে শুধুই যেন মৃত্যুকালীন আনুষ্ঠানিকতায়, আমল সেখানে হয়ে পড়েছে গৌণ।

বস্তুত আপন জনের মৃত্যুই পারে মানুষকে তার জীবদ্দশায় চাক্ষুষ ভাবে পরকালকে দেখাতে। এমনকি চরম নাস্তিকও তখন ঠিকই দেখতে পায় পরোপারকে এবং মানুষ তাৎক্ষণিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারে পরম শক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালার উপস্থিতিকে। মনের ঐ অবস্থায় যে ভাবে হৃদয় উজাড় করা কান্নার সাথে আল্লাহ পাকের ইবাদত করা সম্ভব তা অন্য সময় সম্ভব নয় কোন ভাবেই। এ রকম ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যধিক এবং এমন সার্থক ইবাদতই দরকার আমাদের জীবনে। কারণ যে ইবাদতে আন্তরিকতা নেই তা কবুলের সম্ভাবনা খুবই কম বরং অনেক ক্ষেত্রে সেটা ক্ষতির কারণও হতে পারে (১০৭: ৪~৬ দ্রষ্টব্য)। তাই ওটাই মোক্ষম সময় সমাজ ও সংসার ভুলে একাগ্র ভাবে আল্লাহকে ডাকার, সেরা সুযোগ জাকারিয়া আ:-এর তিন দিনের ইবাদতের সূত্রকে নিজের জীবনে কার্যকর ভাবে প্রয়োগ করার। মৃতের জন্যে তিন দিনের বেশী শোক না করার যে বাধ্যবাধকতা আছে তা ঠিক রেখেই করা যায় বিধায় এটা একটা নিখাদ ইবাদত হতে পারে নিঃসন্দেহে। তবে চল্লিশ দিন ধরে শোক পালন করা সুন্নতের খেলাফ। চল্লিশ দিনের ইবাদত করতে হলে তা করতে হবে জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মের সাথে একত্রে। এমন নফল ইবাদত নিজের সুযোগ মত করার স্বাধীনতা মানুষের আছে (৫: ৩৫ দ্রষ্টব্য)। কিন্তু ফরজ বা সুন্নাহর ক্ষেত্রে এ রকম সুযোগের কোন অবকাশ নেই, কারণ সেগুলো যথা সময়ে, যথা নিয়মে পালন করতে আমরা বাধ্য।

শুধুমাত্র আঞ্চলিক নামকরণের কারণে কুলখানি, চিল্লা বা চল্লিশার মত একনিষ্ঠ ইবাদতগুলো বাতিল বা বিদআত হতে পারে না। তেমন হলে সালাতকে নামাজ আর সিয়ামকে রোজা বলার কারণে নষ্ট হয়ে যেত আমাদের সব রোজা-নামাজ। আবার এগুলোকে বিধর্মীদের শ্রাদ্ধের সাথে তুলনা করে মুসলমানদের জন্য বাতিল বলাও বাস্তব সম্মত নয় কারণ মুসলমানদের ইবাদতের সাথে ভিন্ন ধর্মীদের কিছু কিছু উপাসনা ও ভঙ্গিমার মিল থাকলেও তার সঙ্গত কারণও আছে। কারণটা আল্লাহ পাক স্বয়ং উল্লেখ করে বলেছেন, শুরু থেকেই ধর্ম ছিল একটাই, শুধুই ইসলাম; পরবর্তীতে তা বিভক্ত হয়েছে বিবিধ স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক শত্রুতার কারণে (৩:১৯ দ্রষ্টব্য)। তাই মুসলমানরা কখনোই বিধর্মীদের অনুসরণ করে না বরং অন্য ধর্মগুলোই ইসলামকে বিকৃত করে তৈরি, তাই সেগুলো বাতিল বলে গণ্য। এছাড়াও মুসলমানদের ইবাদত কোন ভাবেই অন্যদের উপাসনার সাথে তুলনীয় হবার নয় কারণ মুসলমানদের ইবাদতে সরাসরি যুক্ত থাকে পবিত্র কোরআন যা অন্যদের কোন উপাসনাতেই থাকে না কখনো।
আবার কোরআনে সরাসরি উল্লেখ থাকার কারণে হাদিসে না পাওয়া গেলেও ইবাদত গুলোকে বাতিলের সুযোগ নেই কেননা তাতে হাদিস দিয়ে কোরআনকে চ্যালেঞ্জ করার মত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অথচ হাদিস সব সময়ই কোরআনের সহযোগী, কোন ভাবেই সাংঘর্ষিক হবার নয়। প্রকৃতপক্ষে আল-কোরআনে বর্ণিত বাড়তি ইবাদতগুলো নবীজি সা: ও তাঁর সাহাবিরা এমন ভাবেই করেছেন যে সেগুলোও নিয়মিতই হয়ে গিয়েছিল তাঁদের জীবনে। শুধুমাত্র জেহাদ থেকেই এমন কত শত তিন দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতময় সময় যে যুক্ত হয়েছে তাঁদের জীবনে তা গুণে শেষ করা যাবে না। তাই আজকের আরামের জীবনে বসে আমাদের পক্ষে একথা বলা শোভনীয় নয় যে তাঁরা ইবাদতগুলো করেননি। আমরা যেহেতু ফরজ ইবাদতকেই বোঝা মনে করি তাই বস্তুত আদা-পানি খেয়ে খুঁজতে থাকি অতিরিক্ত যে কোন ইবাদতকে বিদআত বানানোর ফতোয়া। বড়ই আত্মঘাতী আমাদের এইসব ছল-চাতুরী।

আরও উল্লেখ্য যে নবীজির সময়টা ছিল মৃত্যুময়। এমন দিন খুব কমই ছিল যেদিন মৃত্যু হানা দেয়নি তাঁদের দুয়ারে। এতে তাঁরা পরলোককে দেখেছেন চাক্ষুষ ভাবে একেবারে চোখের সামনে এবং যথার্থ বাস্তবতার সাথে আক্ষরিক অর্থেই উপলব্ধি করেছেন যে আল্লাহ ছাড়া আদতেই মানুষের কোন বন্ধু নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই। এরকম বোধ সম্পন্ন অন্তর আল্লাহকে একান্তে পেতে উদগ্রীব থাকে সব সময়। তাই আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে উনাদের কোন রাত-দিন ছিল না, কোন ক্লান্তি ছিল না। সে সব ইবাদতে নিজেদের নিহত সাথীদের জন্যে কিভাবে যে বুক ভাঙ্গা ক্রন্দনে সময় কেটেছে তাঁদের তা বুঝতে কারোরই কষ্ট হওয়ার কথা নয়। জীবদ্দশায় যাদের সাথে তাঁরা নিজেদের সর্বস্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন সেই সাথী ভাইদের মৃত্যু তাঁদেরকে যে কিভাবে নাড়া দিয়ে গেছে তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। তেমন মমত্ব ও আন্তরিকতা দিয়ে যদি প্রতিদিন মৃত সঙ্গী-সাথী ও আত্মীয়-পরিজনের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা যায় তাহলে আয়োজন করে বিশেষ প্রার্থনা করার আর দরকার হয় না।

নবীজিও স্বয়ং প্রতি রাতে যিয়ারত করেছেন মুসলমানদের কবর, দোয়া করেছেন প্রত্যেক বিদেহী আত্মার জন্যে। উনার রাত জাগা সুদীর্ঘ নামাজগুলোও যে ছিল নিহত প্রিয় সতীর্থদের জন্য ফরিয়াদে পূর্ণ তাও বলার অপেক্ষা রাখে না, কারণ ঈমানদারদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ছিল কিংবদন্তি তুল্য যা কিনা আল্লাহ পাক স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন পবিত্র কোরআনে, বলেছেন, তোমাদের মধ্যে রয়েছেন এমন নবী যিনি কষ্ট পান তোমাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলোতে। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী। তিনি মু’মিনদের প্রতি অত্যধিক স্নেহশীল ও দয়াবান (৯: ১২৮ দ্রষ্টব্য)। নবীজির মমতা থেকে বস্তুত বাদ ছিলেন না কেউই। এমনকি নিষেধাজ্ঞা না আসা পর্যন্ত তিনি দোয়া করা অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁর পরলোকগত মুশরিক চাচার জন্যেও (৯: ১১৩ ও সংশ্লিষ্ট তফসির দ্রষ্টব্য)। তাঁর সেই সব দোয়-কালাম ও মোনাজাতগুলো সবই ছিল শুধুই পবিত্র কোরআন-ময়। কারণ তিনি অন্য কোন কালাম জানতেন না। কোরআন ছাড়া তিনি অন্য কোন বই পড়েন নি, কোন কিছু রচনাও করেননি (২৯: ৪৮ দ্রষ্টব্য)।
আসলে কোরআনে বর্ণিত দোয়া-কালাম ও ইবাদতগুলো এমন ভাবে একীভূত (Integrated) ছিল নবীজি সা: ও সাহাবিদের দৈনন্দিন ইবাদতের মধ্যে যেমন সাগরের পানিতে মিশে থাকে অন্তহীন দ্রব্যাদি। তাই সেগুলো দৃশ্যমান নয় আলাদা আলাদা ভাবে। এরকম একীভূত বিষয়ের ভেতরে একাকার হয়ে মিশে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলোকে সাধারণত খোঁজ করে বের করতে হয়। বিষয়টা শরবতে মিশে থাকা চিনির মত যা কিনা পান করে বুঝতে হয় অথবা পানিতে একীভূত হয়ে থাকা হাইড্রোজেন-অক্সিজেনের মত যা চোখে দেখা যায় না, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করতে হয়। হাদিসে না থাকা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এভাবেই। কারণ নবীজি কখনো কাঁঠাল খেয়েছেন কিনা তা হাদিস ঘেঁটে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাই কাঁঠাল যে হারাম ফল না সেটা বুঝতে বিবেচনা করতে হবে হালাল-হারামের পুরো পরিসীমা। আল্লাহ পাক বস্তুত মানুষের প্রতি অতীব দয়ালু, তাই তিনি তাঁর বিশেষ ইবাদতগুলোকে অত্যন্ত সহজ ভাবে তুলে ধরেছেন পবিত্র কোরআনে। নতুবা এত সহজে এগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না আমাদের পক্ষে।

সুতরাং আল-কোরআনের সুস্পষ্ট উপমা ও উদাহরণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তিন দিন, ত্রিশ দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতের বিষয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। এসব সবই মানুষের লাভবান হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ ও সুবিধা বিশেষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইবাদতগুলো খুব সহজে ও অত্যন্ত কার্যকর ভাবে করা যায় বিধায় সময়টা সদ্ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এমন ইবাদত থেকে উপকৃত হয়েছেন আমাদের পূর্বসূরি ঈমানদারেরা। তারা আমাদের জন্যে অনুকরণীয় কারণ মুসলমানদের পরবর্তী কোন দলই তাদের পূর্ববর্তীদের চেয়ে উত্তম নয়। তাই কুলখানি বা চল্লিশা অথবা অন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এসব আসলে আল্লাহর ইবাদতেরই সুবর্ণ সুযোগ বৈ  অন্য কিছু নয়। এজন্যেই এই ‘প্যাকেজ ইবাদতের’ সুযোগগুলোকে বিদআতের নামে বিদায়ের চেষ্টা না করে সেখানে হযরত জাকারিয়া আ: ও মুসা আ:-এর আমলের অদলে সুন্নাহ ভিত্তিক ইবাদতের চর্চা নিশ্চিত করা গেলে সেটাই হবে প্রকৃত যথার্থ কাজ। কারণ মাথার ব্যথায় মাথা কেটে ফেলার কোন সুযোগ নেই, তেমন অনাচার আল্লাহ পাকের সহ্য করার কথা নয়। 


Mainul Ahsan, PHD
Clinical Assistant Professor, School of Dentistry, University of Southern California.
লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’

প্রবাসী কমিউনিটি

প্রিয়তোষ সাহার অপসারণের দাবিতে লস এঞ্জেলেসে মানববন্ধন, প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্ক : লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার অপসারণ দাবিতে প্রবাসীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ই এপ্রিল কনসুলেট অফিসের সামনে এই  শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশ  মাববন্ধন পালিত হয়। একই সাথে মাননীয় রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।

এই মানববন্ধন থেকে কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাকে অপসারন এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দবি জানানো হয়। তারা অভিযোগ করেন, প্রিয়তোষ সাহা একের পর এক সরকার ও জনগনবিরোধী কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। যার কারণে লসএঞ্জেলেসে আওয়ামী পরিবারসহ সকল সংগঠনে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে, যা এর আগে কখনই দেখা যায়নি। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি কেউ প্রশ্ন তুলেন বা প্রতিবাদ করেন তাহলে তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির নিয়োগপ্রাপ্ত লোক বলে মানুষকে ভয় দেখান। তিনি বলেন আমি কনসাল জেনারেল, যা খুশী তাই করব আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। প্রিয়তোষ সাহা সহ তার সমর্থিত লোজজনের একের পর এক অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটানোর ফলে এখন সাধারণ জনগন কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে গত ১৮ ই এপ্রিল লসএঞ্জেলেস কনসুলেট কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায়। আওয়ামী পরিবারের দু'একজন ছাড়া সাধারণ জনগণ কাউকে দেখা যায়নি। সেই সাথে আশ্চর্যের বিষয় কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাসহ তার অনুসারী কাউকে দেখা যায় নাই। এদিকে আওয়ামী পরিবারসহ বেশীরভাগ সাধারণ জনগণ কনসাল প্রিয়তোষ থাকাকালীন কনস্যুলেট অফিসে না যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।

লস এঞ্জেলেস

হলিউডে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

নিউজ ডেস্ক : আনন্দঘন পরিবেশে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগ গত ২৬শে মার্চ ২০১৮,সোমবার সন্ধ্যায় লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগ এবং ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের সার্বিক সহযোগিতায় লস এন্জেলেসের চার্চ অফ সাইন্টোলজিতে উদযাপন করলো ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক শ্রী সুবর্ন নন্দী তাপস এবং সন্চালনের দায়িত্বে ছিলেন অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব খন্দকার আহমেদ।

শুরুতেই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করে শোনান এবং শ্রী শ্রীনাথ বন্ধু বিশ্বাস পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানটি ছিল দু'ভাগে বিভক্ত,প্রথম পর্বে ছিল স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই বাংলাদেশের এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়,এসময় অভ্যাগত অতিথিসহ আওয়ামী পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শণ করেন। তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্নত্যাগ এবং দু'লক্ষ মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য উনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সুধীজনদের মাঝে উপস্হিত মহান বীর মুক্তিযাদ্ধা জনাব মজিবর রহমান খোকা সহ সকল মুক্তযোদ্ধাদের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে এবং ব্যাপক করতালির মাধ্যমে অভিনন্দিত করা হয়।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুরুতেই আলোচনায় অংশ নেয় নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোর। তন্বী নন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব ভয়ার্ত দিনগুলির কথা শ্রদ্ধাসহ স্মরন করে। নতুন প্রজন্মের আরেক আলোচক আলভী আহমেদ '৭০ এর ঐতিহাসিক নির্বাচন,৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে। এ প্রজন্মের শিশু-কিশোররা প্রমান করে দেয় যে,তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তারা জানে।

আলোচনা ও সাংকৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগের সংগ্রামী নেতা আহ্বায়ক এ.কে.এম.তারিকুল হায়দার চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মন্জুরুল আলম শাহীন ভাই।উনারা এ'অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এবং ইচ্ছা থাকা সত্বেও ব্যস্ততার কারনে উপস্হিত থাকতে পারেন নি বলে দুংখ প্রকাশ করেছেন। নিউইর্য়ক থেকে দু'জনেই তাদের মূল্যবান বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব তারিকুল হায়দার চৌধুরী টেলিফোনে উপস্হিত নেতা-কর্মী এবং অভ্যাগত অতিথিদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা দেন। উনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী হতে কাজ করবার আহবান জানান। তিনি আরো ঘোষণা দেন যে সুবর্ন নন্দী তাপসই হচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক এবং ২৯শে এপ্রিল সম্মেলন করবার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিউইর্য়ক থেকে মধ্যরাতের কিছু পরে টেলিফোনের মাধ্যমে ওনার মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সুবর্ন নন্দী তাপস এর নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়াতে শক্তিশালী একটি যুবলীগ গঠনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিশেষে স্বল্প সময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে আসা ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের 'স্বাধীনতা দিবস' এর অনুষ্ঠানে আসবার আমন্ত্রণ গ্রহন করে উপস্থিত থাকতে পারেন নি বলে দুংখ প্রকাশ করেছেন। মুল মন্চ থেকে একে একে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব আলমগীর হোসেন,ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব হাবিবুর রহমান ইমরান,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম উপদেষ্টা জনাব তৌহিদুজ্জামান খান,লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাহাতাবউদ্দিন টিপু,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা বানু।
এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের অন্যতম  সহ-সভাপতি জনাব ফারুক খান। গেষ্ট অব অনারে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড:রবিউল আলম উনার বক্তৃতায় '৭০ এর নির্বাচন পুর্ববর্তী এবং পরবর্তীতে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির ষড়যন্ত্রের কথা উপস্হিত নেতা,কর্মী এবং অভ্যাগত অতিথিদের জানিয়ে দেন। ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক শ্রী সুবর্ন নন্দী তাপস উপস্হিত নেতা,কর্মী এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভাটির সমাপ্তি হয়।

উপস্হিত নেতা,কর্মী ও অতিথিদের মাঝে যারা ছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জনাব সোহেল রহমান বাদল,যুবলীগের ইলিয়াস শিকদার,সিটি আওয়ামী যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব বাবু ভুইয়া,ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী অনির্বান সাহা টিটো,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের স্বাস্হ্য বিষয়ক সম্পাদিকা ড:মাহমুদা আলম কলি,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের কেয়া পলাশ,খুরশিদা আক্তার।আরো যারা ছিলেন বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তিন বারের সভাপতি শ্রী অমর হাওলাদার। বরাবরের মত ছবি ফ্রেমে বন্দী করে রাখবার কঠিন দায়িত্বে ছিলেন ফটো সাংবাদিক শ্রী সুখেন্দ্র পাল।
দ্বিতীয় পর্বে ঘন্টাব্যাপী দেশাত্ববোধক এবং আধুনিক গান পরিবেশন করেন লস এন্জেলেসের খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী উপমা সাহা।'সব ক'টা জানালা খুলে দাও না ওরা আসবে চুপি চুপি' এই কালজয়ী গানটি দিয়ে আনন্দময় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিনোদন


'রাজকাহিনী' নিয়ে অভিনেতা শিমুল সরকার

নজরুল ইসলাম তোফা : এই রাজা, রাজ সিংহাসন কল্পনার নিপুণ বুননে, স্বহস্তেই একটি ঐতিহাসিক রাজ মহলের আদলকেই দাঁড়া করিয়েছেন,তাঁরই নিজস্ব মেধায় অসংখ্য প্রহরীর মগজ

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


চমচম মিষ্টি বানাবেন যেভাবে

নিউজ ডেস্ক : অতিথিদের সামনে হাতে বানানো চমচম পরিবেশন করলে কেমন হয়? ঐতিহ্যবাহী চমচম মিষ্টি বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘরেই। জেনে নিন কীভাবে।

উপকরণ
দুধ- ১

বিস্তারিত


লন্ডন

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের মতো ‘মুজিবনগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে মেহেরপুরের আ¤্রকাননে জাতীয় নেতা নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই দিনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে তড়ান্বিত করে। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের রাজধানী মুজিবনগর করার দাবী এবং আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পু:ননির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নের ধারা আব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবীবে মিল্লাত মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর এজন্য শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেলেই চলবে না, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট লোকের ভোট দরকার। কেননা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ)-এর সদস্য প্রফেসর ডা. হাবীবে মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শরাফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন (হিরু ভূইয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালী হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেডএ জয়,  সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ইউএস’র সভাপতি লিপটন এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ও সিরাজগঞ্জের কামারকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল মজিদ মন্ডল ।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিনাত বেগম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন গনেশ কির্ত্তনীয়া। এরপর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সঙ্গীত শিল্পী রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জিনাত বেগম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়া সমিতি ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে ডা. হাবীবে ডা. মিল্লাত এমপি-কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ডা. হাবীবে মিল্লাত বলেন, মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ডা. হাবীবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র  মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

আমিরাতে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৭ শিশুর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের শহর ফুজাইরাহর কাছে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে টুইটারে এক বিবৃতিতে এ খবর দেওয়া হয়েছে।

প্রাণ হারানো একই পরিবারের শিশুদের মধ্যে কিন্টারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিল বলে টুইটে জানানো হয়।

পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় দৈনিক গল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের মা ফোনে আগুন লাগার খবর জানান।

কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/এমই/এলআরটি

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


শ্যাম্পু নিয়ে যত ভুল ধারণা

নিউজ ডেস্ক : আমাদের মাঝে শ্যাম্পু এবং এর ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ ও ভুল ধারণা শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, কোনটা ঠিক

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

নিজের নম্বর গোপন রেখে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট

নিউজ ডেস্ক : বিশ্বে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫০ কোটির বেশি। ফেসবুকের মালিকানাধীন জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপে প্রতিদিন ৬ হাজার কোটি মেসেজ আদান-প্রদান হয়।

নানা সুবিধা রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। কিন্তু আপনি কি এটা জানেন যে, নিজের নম্বর গোপন রেখেই চ্যাটিং করা সম্ভব হোয়াটসঅ্যাপে। আর এজন্য আপনাকে ইনস্টল করতে হবে একটি অ্যাপ। যা পাওয়া যাবে গুগল স্টোরেই। অ্যাপটির নাম ‘প্রিমো‌’।

প্রিমো অ্যাপ ব্যবহার করলে আপনি যার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিং করবেন, তিনি আপনার নম্বরের পরিবর্তে দেখতে পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‌‘ভার্চুয়াল’‌ নম্বর।

এজন্য যা করতে হবে তা হচ্ছে, গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘প্রিমো’ অ্যাপ ইনস্টল করে এই অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের ফোন নম্বর নিয়ে সাইনআপ করতে হবে। এরপর আপনার কাছে আসবে ৬ সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড। কোড দেওয়ার পর সম্পূর্ণ হবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। এরপর ঢুকতে হবে  প্রিমো ইউএস ফোন নম্বরে। এখানে রয়েছে বিনামূল্যের ট্রায়াল ও প্রিমিয়াম। ট্রায়াল অপশন থেকে একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোন নম্বর পাওয়া যাবে। এই নম্বর দিয়ে হোয়্যাটসঅ্যাপ করা যাবে।


এলএবাংলাটাইমস/আইসিটি/এলআরটি

সুস্থ থাকুন

বুকজ্বলা বা হার্টবার্ন : কেন হয়, কী করবেন?

ডা: মো: শহীদুল্লাহ্ : বুকজ্বলা, হার্ট নয়। হার্টের কোনো অসুখ নয়। নাম তবু হার্টবার্ন। বুকে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না- এ আগুন সে আগুনও নয়। পাকস্থলীর (Stomach) এসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) প্রবেশ করলে এ জ্বলা অনুভূত হয়। জ্বলাটা অনুভূত হতে পারে পেটের ওপরের অংশে, বুকের ঠিক মাঝখান দিয়ে ওপর দিকে গলা পর্যন্ত। মুখে হতে পারে তিতা তিতা ভাব।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এসিড উৎপন্ন হয়। স্বাভাবিকভাবে এই এসিড পাকস্থলী থেকে ওপরের দিকে উঠে আসে না। মুখ থেকে খাদ্যনালীর নিচে নেমে গিয়ে পাকস্থলীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোগস্থলে খাদ্যনালীর পেশির একটি বাঁধ (Sphincter) আছে। এই বাঁধ ভেদ করে পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে ওঠে আসতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো কারণে এই বাঁধ ভেঙে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। এই এসিড খাদ্যনালীর নরম আবরণীর সংস্পর্শে এলে বুকজ্বলা অনুভূত হয়।

অনেক খাবার আছে যেগুলোর জন্য বুকজ্বলা হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চা, কফি, টমেটো, টকজাতীয় ফল, ক্যাফিন ও কার্বোনেটযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, পিপারমেন্ট, থিয়োব্রোমিনযুক্ত চকলেট।

এসব খাবারের বেশির ভাগই খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগস্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। আবার তেলে ভাজা খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকতে পারে বলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাপের জন্য পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো, টকজাতীয় ফল, অ্যালকোহল ইত্যাদি পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণই বাড়িয়ে দিতে পারে। সিগারেট বা ধূমপানের জন্যও বুকজ্বলা হতে পারে। তামাকের নিকোটিন খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়।

এ ছাড়া একসাথে অধিক খাবার খেলে, খুব শক্ত করে লুঙ্গি, শাড়ি, সালোয়ার, প্যান্ট বা বেল্ট পরিধান করলে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বা উপুড় হলে কিংবা ভারী কাজ করলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে গিয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলেও এ সমস্যা হতে পারে।
বুকজ্বলাটা হতে পারে মামুলি, মাসে হয়তো একবার। প্রায় ২০ শতাংশ বয়স্ক লোকের এরূপ হয়ে থাকে। অনেকের সপ্তাহে একবার হতে পারে। এটা মোটামুটি চিন্তার কারণ। আবার অনেকের হতে পারে প্রতিদিনই। এটা বেশ গুরুতর। প্রায় ৫-১৫ শতাংশ লোকের এরূপ হয়ে থাকে।

যে রূপই হোক, বুকজ্বলা প্রতিরোধ ও প্রশমনের উপায় আছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকজ্বলা রোগীর কোনো না কোনো খাবারের সাথে এই বুকজ্বলার সম্পর্ক থাকে। সুতরাং খাবার বেছে খেতে হবে। বুকজ্বলা করতে পারে এরূপ খাবারের সবই যে সবার মধ্যে বুকজ্বলা করবে, তা কিন্তু নয়। সুতরাং কোন খাবার খেলে বুকজ্বলা হয় তা ব্যক্তিবিশেষকেই খেয়াল করতে হবে এবং ওই খাবার পরিহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জীবনযাপনের ধারায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে হবে। খাওয়ার পরপরই শোয়া বা উপুড় হওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করাও ঠিক নয়। খালি পেটে চা, কফি পান না করা, শরীরের ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেও বুকজ্বলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পাকস্থলীর এসিড তৈরি কমায়, এরূপ ওষুধও বুকজ্বলা কমাতে কার্যকর। খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দৃঢ় করে এরূপ ওষুধও আছে। বুকজ্বলা প্রশমনের জন্য এন্টাসিড কার্যকর। ওষুধ খেতে হবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। বুকজ্বলা কমানো যেতে পারে পানি পান করে কিংবা চুইংগাম চিবিয়েও।


এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

রোহিঙ্গা ও উইঘুর— পার্থক্য শুধু মানচিত্রে

দিদার মালেকী : ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু বুধবার (২১ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীন নিরপেক্ষ থাকবে।’ মানে তারা ঘনিষ্ট মিত্রদেশ মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে কিচ্ছুটি বলবে না। এর আগেও দেশটির তরফ থেকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার কোনো অবস্থান পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আসলেই কি নিরপেক্ষ ও নির্বিকার? তা হলে কেন, ভাবা দরকার।

বঙ্গোপসাগর বিধৌত উর্বর আরাকানে কেবল চীনের বিপুল অঙ্কের বন্দর-বাণিজ্যিক স্বার্থই জড়িত নেই, এর সঙ্গে যুক্ত কোনো ভিন্নমতাবলম্বী কিংবা ভিন্ন ধর্মাদর্শের জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চীনাদের উদ্ভাবিত ভয়াবহ ‘ঠান্ডা মাথার নিপীড়ন কৌশল’। মিয়ানমার তার বড়ভাই চীনের কাছ থেকে সেটি রপ্ত করে আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করেছে। সংগত কারণে চীন নিরপেক্ষ থাকার আবডালে দেখে নিচ্ছে তাদের কৌশল কতটা সফল হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং বেসামরিক সরকারের বিতর্কিত ডি-ফ্যাক্টো অং সান সু কির হাতে।

আমাদের কেউ কেউ তবু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে পাশে পেতে চান। তাদের একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, আরাকান তথা রাখাইনে যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা-নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং যা এখনও চলমান, ঠিক একই কাজটা গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চীনা কর্তৃপক্ষ করছে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগাষ্ঠী উইঘুরদের ওপর।

উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে চীন। সব রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে উইঘুরদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবন। এমনকি নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে বিয়ে, সন্তানের নামকরণ থেকে শুরু করে নিজ অঞ্চলের বাইরে চলাচলের ওপর। এ ছাড়া প্রায় সময় চীনা পুলিশ ও সেনাদের হাতে মরছে নিরীহ উইঘুররা। নির্যাতিত হচ্ছে অজস্র নারী। সেখানকার ১ লাখ ২০ হাজার উইঘুরকে ‘পুনঃশিক্ষণ’ প্রকল্পের নামে এক ভয়ানক ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। এর বাইরে স্ব-ভূম ছাড়তে বাধ্য করেছে তিন লাখের বেশি উইঘুরকে, যারা বাধ্য হয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে।

মনে রাখা দরকার, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়নে এসব উপাদানের প্রাবল্য রয়েছে। উপরন্তু রাখাইনে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জন্য চৈনিক কৌশলে ক্যাম্পও তৈরি সম্পন্ন করেছে প্রায়। ট্রানজিট ক্যাম্পের নামে তৈরি এসব ক্যাম্পেই রাখা হবে ফেরত নেয়া রোহিঙ্গাদের। (বাস্তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। নিলেও যাচাই-বাছাইয়ের নামে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নেবে তারা)। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব ক্যাম্পে স্বল্পকাল রাখা হবে রোহিঙ্গাদের, কিন্তু আমার ধারণা এসব ক্যাম্পে চীনের উইঘুর দমন-পীড়নের কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি করবে দেশটি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীনের ‘নিরপেক্ষ’ থাকার ‘ভদ্রবেশ’ আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নয়। উইঘুর ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চীন ও মিয়ানমারের পরিকল্পিত দমন-পীড়নের যদ্দুর পাঠ ইতিহাস থেকে নিয়েছি, তাতে আমি মনে করি, এ দুই জাতিগোষ্ঠী একই রকমের দমন-পীড়ন কৌশলের সহজ শিকার।

লেখক: কবি, সাংবাদিক, গবেষক

টুকিটাকি খবর

১৪০ দিনে হাতে লিখলেন পুরো কোরআন

নিউজ ডেস্ক : মিসরের ডাকহলিয়া প্রদেশের আরবি ক্যালিওগ্রাফার হামদি বাহরাভি মাত্র ১৪০ দিনে পুরো কোরআন শরীফ হাতে লিখেছেন।
৫৫ বছর বয়সী এই শিল্পী দেশটির ডাকহলিয়া প্রদেশের শহীদ মুস্তাফা ভ্যাটিডি প্রাথমিক স্কুলের আরবি ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক।

তিনি হাতে পুরো কোরআন হাতে লেখার পরিকল্পনা করলে তার বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকরা তাকে সতর্ক করেন। কারণ, তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; আর কাজটিও বেশ কঠিন। কিন্তু তিনি একাগ্র সাধনা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সব বাধা অতিক্রম পেরিয়ে একাজ করতে সফল হয়েছেন।

ক্যালিওগ্রাফার হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। বিভিন্নভাবে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখার জন্য হামদি বাহরাভি তার এলাকায় অনেক প্রসিদ্ধ।

মাত্র ১৪০ দিনে কোরআন হাতে লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ী থেকে পবিত্র কোরআন হাতে লেখার কাজ অব্যাহত রাখি এবং সফল হই। এ কাজে আমার পরিবারের সদস্যরা ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

তার হাতে লেখা কোরআনের কপিটি ৩০ সেন্টিমিটার প্রস্থ এবং ৪০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪১৫টি। এটা তিনি মিলিমিটার কলম দিয়ে লিখেছেন। পুরো কাজটি লিখতে তার ব্যয় হয়েছে মিসরীয় ১২৫ পাউন্ড।
তার লিখিত কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে করে নির্ভুল বলে ঘোষণা করেছে।

বর্তমানে এই শিল্পী পবিত্র কোরআনের একটি বড় পাণ্ডুলিপি লেখার কাজ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে ২ হাজার ৭শ’ মিসরীয় পাউন্ড ব্যয় করে ৭ মাসে ১২ পারা লিখে শেষ করেছেন।

তার ইচ্ছা, এই পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ হলে এটিও পর্যবেক্ষণের জন্য আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাবেন এবং সেখান থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর তা মিসরে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে উপহার দেবেন।

তারুণ্য

ইসলামের দিকে ঝুঁকলেন আরবের জনপ্রিয় পপ তারকা

নিউজ ডেস্ক : গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার থেকে অবসরে যাচ্ছেন, সেটা তাঁর ভক্তদের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। আমাল তখন বলেছিলেন, আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। তিনি ইসলামের মধ্যেই তার সুখ-শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। খবর- বিবিসির।

আমাল হিজাজী যখন তার গান-বাজনা ছেড়ে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবন-যাপন শুরু করলেন, তাঁর ভক্তরা অবাক হয়েছিলেন তখন।

কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি আবার ফিরে এসেছেন গানের জগতে। তবে একেবারে নতুন রূপে এবং ভিন্ন ধরণের গান নিয়ে। ইসলামের নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়েই একটি গান গেয়েছেন তিনি।

লেবাননের শিল্পী আমাল হিজাজী আরব দুনিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম পপ রেকর্ড বাজারে আসে। পরের বছর দ্বিতীয় অ্যালবামেই তিনি এক সফল সঙ্গীত তারকায় পরিণত হন। এক দশকের মধ্যেই আমাল হিজাজী হয়ে উঠেন আরব বিশ্বের জনপ্রিয়তম সঙ্গীত তারকা।

২০০২ সালে আমাল হিজাজীর অ্যালবাম 'জামান' বাজারে আসে। এটিকে বিবেচনা করা হয় আরবী পপ সঙ্গীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবাম।

গত সেপ্টেম্বরে আমাল হিজাজী তার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন তিনি সঙ্গীতের জগত ছেড়ে যাচ্ছেন।
তখন তিনি তার হিজাব পরিহিত একটি ছবিও পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, "যে শিল্প আমি ভালোবাসি এবং যে ধর্মের নৈকট্যকে আমি লালন করি, এই দুটি নিয়ে আমাকে অনেক দিন ধরেই বোঝাপড়া করতে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন।"

নবী মুহাম্মদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে আমাল হিজাজী যে গানটি গেয়েছেন, সেটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

ইতোমধ্যে ৮০ লাখ ভক্ত তাঁর এই গানটি শুনেছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ এটি শেয়ার করেছেন। তবে আমাল হিজাজীর এই নতুন রূপ এবং নতুন গান নিয়ে তুমুল বিতর্কও চলছে।

যেভাবে তিনি হিজাব পরেছেন, তার যে সাজ-সজ্জা, সেটা কতটা ইসলাম সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইসলামে এভাবে মহিলাদের গান করার বিধান আছে কিনা সেটা জানতে চেয়েছেন অনেকে।

আবু মুহাম্মদ আল আসতাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "তিনি যা করছেন তা ইসলাম সম্মত নয়।"
জেইনাব মুসেলমানি লিখেছেন, "আল্লাহ যা হারাম বলেছেন, সেটা প্রশংসা দয়া করে বন্ধ করুন। তার প্রশংসা বন্ধ করুন, তাকে বরং পথ দেখান।। ধর্মটা কেন অনেকের কাছে রসিকতার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে?"

তবে অনেক ভক্ত আবার আমাল হিজাজীর প্রশংসা করেছেন। দিনা মিশিক নামে একজন লিখেছেন, "যে মহিলা কিনা ধর্মে যা নিষিদ্ধ তা করা বন্ধ করেছে, হিজাব পরা শুরু করেছে এবং নবীর জন্য গান করছে, তোমরা কিভাবে তার সমালোচনা করো।"
এলএবাংলাটাইমস/ওয়াই/এলআরটি

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক